১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইউএস-বাংলার আন্তর্জাতিক রুটে উদ্বোধনী ফ্লাইটে বিপত্তি

ইউএস-বাংলার আন্তর্জাতিক রুটে উদ্বোধনী ফ্লাইটে বিপত্তি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যাত্রানাস্তি হয়ে গেল ইউএস বাংলার। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের প্রথম উদ্বোধনী ফ্লাইট দুর্যোগ আবহাওয়ার দরুন কাঠমা-ুতে অবতরণ করতে না পেরে ঢাকায় ফিরে এসেছে। রবিবার ৭৫ জন যাত্রী নিয়ে ওই ফ্লাইটটি সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ওই ফ্লাইটের যাত্রী বেসামরিক বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন জনকণ্ঠকে বলেন, আমি আর ওই ফ্লাইটে যাব না। আবহাওয়া যদি ঠিক হয়- তাহলে রাত এগারটার দিকে বাকি যাত্রীদের নিয়ে ফ্লাইট আবার কাঠমা-ুর উদ্দেশ্যে রওনা হবে।

জানা যায়, রবিবার বিকেল তিনটায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন ঘোষণার পর এ ফ্লাইট ঢাকা থেকে ৭৫ জন

যাত্রী নিয়ে আকাশে উড়ে। এক ঘণ্টা চল্লিশ মিনিটে সেটা কাঠমা-ুর আকাশ সীমায় পৌঁছে। ওই ফ্লাইটের যাত্রী বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন জনকণ্ঠকে বলেন, ত্রিভুবন এয়ারপোর্টে অবতরণ করার ঠিক দশ মিনিট আগে সেখানকার আবহাওয়া চরম দুর্যোগপূর্ণ থাকার মেসেজ পায় পাইলট। তারপর নামার অপেক্ষায় অন্তত আধাঘণ্টা আকাশেই চক্কর দিতে থাকে। কিন্তু আবহাওয়া অবতরণ অনুকূল না হওয়ায় বাধ্য হয়ে ঢাকায় ফিরে আসতে হয়। যাত্রীদের শাহজালালেই অপেক্ষায় রাখা হয়েছে। নেপালের আবহাওয়া ভাল হলে রাতেই আবার ফ্লাইটটির রওনা দেয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।

এর আগে রবিবার দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার কাঠমা-ু ফ্লাইটের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। এ সময় বক্তব্য রাখেন ইউএস বাংলার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন, সিভিল এ্যাভিয়েশন চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এহসানুল গনি চৌধুরী ও ঢাকায় নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার বেনিয়েট পিয়েরি লারামি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, ‘বিমান যাত্রার ক্ষেত্রে, বিমান পরিবহনের ক্ষেত্রে বেসরকারী উদ্যোগের সাফল্য লক্ষ্য করেছি এবং এ সাফল্যের ক্ষেত্রে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স নিশ্চিতভাবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে। আমাদের জানামতে, অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রী পরিবহনে টাইম সিডিউল রক্ষা করতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ৯৮ শতাংশ সফল। শুধু তাই নয়, অভ্যন্তরীণ রুটে সবচেয়ে বেশি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। সেই এয়ারলাইন্স আজ দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক সীমানায় পাখা বিস্তার করেছে। এটা নিঃসন্দেহে আনন্দের এবং অভিনন্দন পাওয়ার যোগ্য। তিনি বিগত রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে বেসরকারী এয়ারলাইন্সগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, সেই সময়ে এই বেসরকারী এয়ারলাইন্সগুলো তাদের সেবা দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করেছে। সেই কারণে আমাদের এখানে যারা বেসরকারী বিমান চালু রেখেছে, পরিচালনা করছে, তাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি সরকারের পক্ষ থেকে।

মন্ত্রী এসব ফ্লাইটের সঙ্গে ঢাকা-কাঠমা-ু ফ্লাইটের শুভকামনা করে বলেন, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ‘উড়ছি বিজয়ের লক্ষ্য’ নিয়ে এরপর কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুরে ফ্লাইট পরিচালনা করবে বলে জানিয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমি জানি, এই বাজেটে এয়ারলাইন্সের পরিচালনা নিয়ে বেশ কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। যেগুলোর সমাধান প্রয়োজন। যার মধ্যে একটি রয়েছে ল্যান্ডিং এবং পার্কিংয়ের জন্যে যে চার্জ করা হয়, সেটা আন্তর্জাতিক তুলনায় বেশি। তার চেয়েও যে সমস্যাটি বেশি রয়েছে, সেটি হচ্ছে হ্যাঙ্গার। হ্যাঙ্গার নেই। আমি সিভিল এ্যাভিয়েশনের চেয়ারম্যানের কাছে এসব সমস্যার কথা তুলে ধরে তাকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছি।

নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে মেনন বলেন, আমি বরিশালের ছেলে। এখন বরিশাল থেকে আমাদের বন্ধুরা প্রায়ই জানান, আমাদের এখানে আরও বেশি ফ্লাইট দিতে হবে। অর্থাৎ যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটেছে।