২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মতিঝিল মডেল স্কুলের সভাপতির বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ

  • সভাপতি বলেছেন কাজ করতে গেলে এমন কথা হয়

স্টাফ রিপোর্টার ॥ লাখ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে ২০০ শিক্ষক নিয়োগ, এমপিও প্রদান ও ফান্ডের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর মতিঝিল মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজে। ঘটনার জন্য প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি আওলাদ হোসেনকে দায়ী করে শিক্ষক, অভিভাবকদের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন জানানোর পর এবার ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক। এদিকে তদন্তে নামছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতর (ডিআইএ)। এদিকে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রধান শিক্ষককে দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী এ নারী শিক্ষক একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। যার পুরো পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও হয়রানি থেকে রেহাই পাচ্ছে না। তার কাছে গবর্নিং বডির পক্ষ থেকে ‘চাকরি ফিরে পাওয়ার শর্ত হিসাবে’ ১৫ লাখ টাকা চাওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন মুক্তিযোদ্ধার এ সন্তান। জানা গেছে, ঘুষ নিয়ে ২০০ শিক্ষক নিয়োগ, এমপিও প্রদান ও ফান্ডের টাকা আত্মসাতসহ লিখিত অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সোমবার অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন পরিচালক অধ্যাপক এম ওয়াহিদুজ্জামানকে নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের (ডিআইএ) পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এস এম কামরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেছেন, আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। এখন দ্রুত এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সরকারের এ দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছে জমা দেয়া অভিযোগপত্রে রাজধানীর নামী এ প্রতিষ্ঠানটির ভুক্তভোগী শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী বলেছেন, স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মতিঝিল মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজ সভাপতি আওলাদ হোসেনের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ধ্বংসের দারপ্রান্তে। আমরা এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও অভিভাবককে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি। প্রতিষ্ঠানটিকে অপরাধীদের হাত থেকে বাঁচান। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গত বছরের ২২ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বেসরকারী স্কুল ও কলেজের শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ করা হয়। কিন্তু সভাপতি কলেজ শাখায় ১৩ জন শিক্ষকসহ স্কুল শাখায়ও বেশ কয়েকজন শিক্ষকের কাছ থেকে ৬-৮ লাখ করে টাকা নিয়ে এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান করেন স্থায়ী করার আশ্বাস দিয়ে। এই নিয়োগে তিনি সরকারী কোন প্রতিনিধি নিয়োগ করেননি। প্রজ্ঞাপন জারির পর গত ৫ নবেম্বর ২০১৫ তারিখে ব্যাক ডেট দিয়ে গবর্নিং বডির সভা করেন এবং এই সভায় তিনি ঐ সকল শিক্ষককে নিয়োগপত্র প্রদান করেন কোন প্রকার নিয়ম-নীতি অনুসরণ না করেই। ব্যাক ডেট দিয়ে মিটিং করেছেন তার প্রমাণ পাওয়া যাবে বেতন বিল পর্যালোচনা করলে।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, সভাপতি দুই শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। যার বেশিরভাগই জামায়াত পন্থী, কারণ সরকার দলীয় লোকজন নিয়োগ দিলে তিনি মোটা অংকের টাকা গ্রহণ করতে পারবেন না। ছেলেদের জন্য কলেজ শাখা খোলার পূর্বেই টাকার বিনিময়ে ১৩ জন অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে বসিয়ে বেতন দিয়ে প্রতিষ্ঠানের অর্থের ক্ষতি করেছেন।