১৬ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাঁশখালীতে যৌথবাহিনীর অভিযানে আটক-১

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁশখালী ॥ চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় যৌথবাহিনীর অভিযান চলছে। বুধবার বিকাল ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত গন্ডামারা এলাকায় পুলিশ বিজিবি যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে। এ সময় পুরো গন্ডামারা এলাকায় পুরুষশূন্য লক্ষ্য করা গেছে। এই অভিযানে গন্ডামারা এলাকা হতে নাছির উদ্দিন (৩৮) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ রয়েছে বলে জানা যায়। যৌথবাহিনীর দল গন্ডামারা এলাকায় প্রবেশ করলে মসজিদের মাইক ব্যবহার করে সরকারী ডাকাত এসেছে বলে গুজব ছড়াতে থাকে লেয়াকত বাহিনী। এদিকে যৌথবাহিনীর অভিযানে বড়ধরনের সফলতা না আসলেও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে থানাসূত্রে জানা যায়। বুধবার অভিযানে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার কে. এমরান ভুঁইয়া, সহকারী পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) কামরুল হাসান, বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলমগীর হোসেন, আনোয়ারা, লোহাগাড়া ও পটিয়া থানার ওসি সহ শতাধিক বিজিবি ও ৫ শতাধিক পুলিশ সদস্যের টিম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণকে কেন্দ্র করে ৪ এপ্রিল সংগঠিত ত্রিমুখী সংঘর্ষে ৪ গ্রামবাসী নিহত ও পুলিশসহ আহত হয়েছিল অন্তত অর্ধশতাধিক। সেই ঘটনায় পুলিশ ও স্বজনদের পক্ষ থেকে ৩টি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় গন্ডামারা বসত-ভিটা রক্ষা কমিটির সভাপতি ও বিএনপি নেতা লেয়াকত আলীকে প্রধান আসামী করা হয়েছিল। একাধিক মামলার আসামী হওয়া সত্বেও এই নেতা ঐ এলাকায় প্রকাশ্য মিছিল সভা সমাবেশ করে আসছিল। তাছাড়া এই নেতা এই এলাকার সাধারণ নিরহ লোককে পুঁজি করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। গত সোমবার এই নেতার গন্ডামারা হাদির পাড়া মুজিব কেল্লার মাঠে সভা করার কথা ছিল। সেইদিন পুলিশের ৫ শতাধিক সদস্য ঐ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করলে বিএনপি নেতা লেয়াকতকে না পেয়ে তার পিতা দুদু মিয়াকে আটক করে পুলিশ। ঐদিনও পুলিশের অভিযানে বাধা প্রদান করেছিল লেয়াকত বাহিনী। পুলিশ একদিন পর বুধবার আবারও গন্ডামারা এলাকায় শতাধিক বিজিবি সদস্য ও ৫ শতাধিক পুলিশ সদস্য নিয়ে গন্ডামারা এলাকায় অভিযানে যায়। তবে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর অভিযানের খবর আগে থেকেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় পুরো গন্ডামারা এলাকা পুরুষশূন্য হয়ে গেছে। তবে কিছু এলাকায় লিয়াকত বাহিনীর লোক জড়ো হয়ে মসজিদের মাইকে সরকারী ডাকাত এসেছে বলে প্রচার করতে থাকে। পুলিশ গ্রেফতার অভিযান কৌশলে পরিচালনা করায় কোন ধরণের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। এদিকে পুলিশ ও বিজিবির উপস্থিতিতে পুরো উপজেলায় বিএনপি নেতা লিয়াকতের বিরুদ্ধে ক্ষোপ বিরাজ করছে। পাশাপাশি পরিবহন মালিক শ্রমিক ও যাত্রীরা প্রকাশ্য বলে বেড়াচ্ছে বিএনপি নেতা লিয়াকত নিজের স্বার্থের জন্য সারা উপজেলাবাসীকে কষ্ট দিয়ে যাচ্ছে। তাকে অচিরেই গ্রেফতার পূর্বক বিচারের আওতায় নিয়ে এসে বাঁশখালীবাসীকে নিরাপদে বসবাসের ব্যবস্থা করার দাবী জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি।

উল্লেখ্য, গত ৪ এপ্রিল বিএনপি নেতা লেয়াকত আলীর উস্কানিতে গন্ডামারা এলাকায় ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। সংঘর্ষে ৪ গ্রামবাসী নিহত ও পুলিশ সহ আহত হয়েছিল অন্তত অর্ধশতাধিক।