২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা বেপরোয়া

  • ময়মনসিংহে নামসর্বস্ব কোম্পানির মানহীন ওষুধ লিখতেও বাধ্য হচ্ছেন চিকিৎসক

বাবুল হোসেন, ময়মনসিংহ ॥ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের খেয়াল-খুশিমতো বিচরণের কারণে ব্যাহত হচ্ছে রোগীদের চিকিৎসাসেবা। কর্তৃপক্ষ সপ্তাহের সোম ও বুধবার হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে ওষুধ কোম্পানি প্রতিনিধিদের সাক্ষাতের সুযোগের নিয়ম করে দিলেও তা মানা হচ্ছে না। প্রতি কর্মদিবসেই ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোরে সারাক্ষণ ভিড় করছে। এতে রোগীদের প্রত্যাশিত চিকিৎসাসেবা যেমন বিঘিœত হচ্ছে, তেমনি কর্তব্যরত চিকিৎসকরাও স্বাধীনভাবে ওষুধ লিখতে পারছেন না। অভিযোগ রয়েছে, অর্থলোভী ও সুবিধাবাদী এক শ্রেণীর চিকিৎসকের দুর্বলতার কারণেই ওষুধ কোম্পানি প্রতিনিধিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। দাবড়ে বেড়াচ্ছে হাসপাতালের চিকিৎসকদের। কর্তব্যরত অসাধু চিকিৎসকরা রোগী দেখার সময় ওষুধ কোম্পানি প্রতিনিধিদের নিয়ে কেবল খোশগল্প করেই ক্ষান্ত নয়, নামসর্বস্ব কোম্পানির মানহীন ওষুধ লিখতেও বাধ্য হচ্ছেন। ওষুধ কোম্পানির স্থানীয় প্রতিনিধিদের দাবি, বেশিরভাগ কোম্পানি প্রতিনিধি নিয়ম মেনেই হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরিদর্শন করছেন। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাছির উদ্দিন আহমদ জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন, রোগীর স্বার্থে নিয়ম মেনেই ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের হাসপাতালে ঢুকতে হবে। রোগীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করা হলে কোন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিকে হাসপাতালে ঢুকতে দেয়া হবে না। ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চ-ীপাশা গ্রামের দম্পতি মাসুম ও শিমু আক্তার চর্ম রোগের সমস্যা নিয়ে তাদের ১৮ মাস বয়সী শিশু মাহিনকে নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বহির্বিভাগে আসেন। প্রায় এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার পর দুপুর ১২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন। অভিযোগ, এ সময় চিকিৎসক ডাঃ জাহিদুল ইসলাম ওষুধ কোম্পানির এক প্রতিনিধিকে নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। শিমু আক্তার জানান, মাহিনকে বসিয়ে রেখে কোম্পানি প্রতিনিধির কাছ থেকে বিভিন্ন ওষুধের স্যাম্পল গ্রহণ করছিলেন ডাঃ জাহিদ।

তবে ডাঃ জাহিদ বিষয়টি স্বীকার করে জানান, এতে রোগীর চিকিৎসাসেবা প্রদানে কোন বিঘœ ঘটেনি। একই চিত্র দেখা গেছে বহির্বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ অনিক ম-লের কক্ষেও। রোগীকে বসিয়ে রেখে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিকে সময় দেয়া কতটা নৈতিক প্রশ্নের জবারে ডাঃ অনিক বলেন, বিভাগীয় প্রধানের অনুমতি নিয়েছেন তার সঙ্গে কথা বলার জন্য।

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাঃ শঙ্কর নারায়ণ দাস বিষয়টিকে অনৈতিক উল্লেখ করে বলেন, হাসপাতালে রোগী দেখার সময় ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সময় দেয়া কাম্য নয়। কেবল আইন করেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় দাবি করে এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আরও বলেন, এজন্য প্রয়োজন চিকিৎসকদের মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধকে জাগ্রত রাখা।