২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চট্টগ্রামে নামে বেনামে জমি কিনছে পুলিশ

মাকসুদ আহমদ, চট্টগ্রাম অফিস ॥ মেট্রোপলিটন পুলিশের কয়েক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরিচয় গোপন করে যোগসাজশে ভূমি ক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে। এসব পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে র‌্যাবের এক উর্ধতন কর্মকর্তার স্ত্রীর মালিকানা অংশীদার রয়েছে বলে প্রমাণ মিলেছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পত্তি অর্জন ও আয়ের উৎস সৃষ্টি করার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সদর দফতরকে না জানিয়ে ২০১৪ সালে সরাইপাড়া এলাকায় নামে-বেনামে আর অংশীদারিত্বে সোয়া কোটি টাকা মূল্যে দুটি ভূমি ক্রয়ের প্রমাণ মিলেছে চট্টগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের নিবন্ধিত দলিলে। এই কর্মকর্তার স্ত্রী ও কয়েক পুলিশ কর্মকর্তার নামে আইজিপির দফতরে লিখিত অভিযোগ ও পাহাড়তলী থানায় জিডি রয়েছে। তবে অংশীদারিত্বে ভূমি ক্রয়ে সিএমপির কয়েক পুলিশ কর্মকর্তার স্বজনের নামও রয়েছে।

চট্টগ্রাম সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ২৪ আগস্ট পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে ২৮৪৯নং দলিলে এই র‌্যাব কর্মকর্তার স্ত্রী শারমিন আক্তার এবং আরও দুই পুলিশ কর্মকর্তার আত্মীয়সহ পাঁচ অংশীদার মিলে তিন গ-া ৬১ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় জমি ক্রয় করেন। একই অফিসে মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে ২৬ আগস্ট ২৯৬৪ নম্বর দলিলে ৫৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকা দামে আরেকটি তিন গ-া জমি শারমিন আক্তারসহ পাঁচজনের নামে রেজিস্ট্রি হয়েছে। এই পাঁচ অংশীদারের মধ্যে তৎকালীন পাহাড়তলী থানা পুলিশের এসআই ফজলুর রহমানের আত্মীয় আরমান আদনান এবং এসআই সালেকের আত্মীয় আবুল হাশেমও রয়েছেন। রয়েছে পুলিশের সোর্সও। তবে এসআই ফজলু ও সালেক কারসাজি করে তার আত্মীয়ের নাম ব্যবহার করেছে।

অভিযোগ উঠেছে, এই ভূমি ২০০৮ সালের ২৮ অক্টোবর পাহাড়তলী থানার সরাইপাড়া এলাকার আলাউদ্দিন বায়নানামা দলিলে গোলচেয়ার খাতুনের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা মূল্যে তিন গ-া জায়গা খরিদের রেজিস্ট্রিকৃত চুক্তিতে আবদ্ধ হন।

কিন্তু রেজিস্ট্রিদাতার টালবাহানার কারণে তার বিরুদ্ধে ২০১০ সালের মে মাসের ৬ তারিখ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট চট্টগ্রাম আদালতে মিস মামলা দায়ের করেন। পরে এই পুলিশ কর্মকর্তা মামলার তদন্তে কারসাজি করায় সিএমপি কমিশনার বরাবর পুলিশের বিচার চেয়ে ২০১৪ সালের ১১ মার্চ আবেদন দাখিল করেন। এরই জের ধরে পুলিশ কর্মকর্তা তানভীর আরাফাত কারসাজি করে তার স্ত্রী শারমিন আক্তার, পাহাড়তলী থানার এসআই আবু সালেক ও এসআই ফজলুর রহমানের নিকটাত্মীয় আরমান আদনান ও আবুল হাশেমের মাধ্যমে দলিল রেজিস্ট্রি করে জায়গাটি ক্রয় করে নেন।

পরবর্তীতে এ বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক বরাবর ২০১৫ সালের ১৭ জুন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের তৎকালীন এডিসি তানভীর আরাফাত, তার স্ত্রী শারমিন আক্তার, সিএমপির আকবরশাহ থানার এসআই আবু সালেক, পাহাড়তলী থানার এসআই ফজলু, ভূমির মালিক গোলচেয়ার খাতুন, পুলিশের সোর্স হোসেনসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানান। তবে তা এখনও ফাইলবন্দী রয়েছে বলে জনিয়েছেন আলাউদ্দিন।

এ বিষয়ে র‌্যাব হেডকোয়ার্টার্সে কর্মরত এ্যাডিশনাল এসপি এসএম তানভীর আরাফাত জনকণ্ঠকে জানান, আমি বর্তমানে র‌্যাব হেডকোয়ার্টার্সে কর্মরত। চট্টগ্রামে আমার স্ত্রীর নামে জমি ক্রয় করেছিলাম ঠিকই। কিন্তু ওই জায়গায় সমস্যা ছিল। পরে তা আমি র‌্যাবে যোগদানের আগেই বিক্রি করে ফেলেছি। স্থায়ী ঠিকানার বাইরে পুলিশ কর্মকর্তার বা পরিবারের নামে কোন ভূমি ক্রয়ে হেডকোয়ার্টার্সের অনুমোদন নেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি অনুমতি নিয়েই ক্রয় করেছি।