২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন মাত্রায় নিতে প্রধানমন্ত্রীর সফর

মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন মাত্রায় নিতে প্রধানমন্ত্রীর সফর

এম শাহজাহান ॥ ভারত-চীন-জাপানের পর বাণিজ্য-বিনিয়োগসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়নে এবার মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। এরই অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ৪ জুন সৌদি আরব সফরে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে গভীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ। তার দু’দিনের ওই সফরের সময় বিনিয়োগ, সংস্কৃতি ও শিক্ষা খাতে সহযোগিতার বিষয়ে কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। বড় বড় অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের পাশাপাশি বর্তমান সরকার বিদ্যুত ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। জনশক্তি রফতানির বাজার উন্মুক্ত হওয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের রফতানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের বড় ধরনের সুযোগ রয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবসহ বিশ্বের অনেক দেশই এখন বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের জন্য মুখিয়ে আছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়বে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করেছে। তার এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি কাজ করছে বাণিজ্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়। বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলো দেখছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়া ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই থেকেও একটি প্রতিনিধিদল সৌদি আরব সফরের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই সংগঠনটির পক্ষ থেকেও এ সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারকে সহযোগিতা করা হচ্ছে। ওই সফরের সময় বাংলাদেশ-সৌদি আরবের ব্যবসায়ীদের মধ্যেও কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

জানা গেছে, সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সঙ্গে একজোট হয়ে লড়াই করবে বাংলাদেশ। এছাড়া সংস্কৃতি, শিক্ষা, কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে দু’দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলেও ঘোষণা দেয়া হতে পারে। ইতোমধ্যে বিনিয়োগ, সংস্কৃতি ও শিক্ষা বিষয়ে সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে কাজ করতে উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে। উভয় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য সৌদি আরব বাংলাদেশ থেকে ডাক্তার ও নার্সসহ আরও দক্ষ ও আধাদক্ষ শ্রমিক নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশী হেলথ প্রফেশনালদের নিয়োগের জন্য সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফরে এসে মেডিক্যাল ডিগ্রী ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পরিদর্শনের বিষয়ে উভয় মন্ত্রণালয় সম্মত হয়েছে।

জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শওকত আলী ওয়ারেছী জনকণ্ঠকে বলেন, দু’দেশের মধ্যে যৌথ কমিশনের বৈঠক ইতোমধ্যে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই সময় প্রধানমন্ত্রীকে সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানায় সৌদি আরব। তবে সফরটি গুরুত্বপূর্ণ এই জন্য যে, বিনিয়োগ-বাণিজ্য সংক্রান্ত কয়েকটি চুক্তি এবার করা হচ্ছে। তেলসমৃদ্ধ সৌদি আরব বাংলাদেশের মেগা প্রকল্পগুলোতে বিনিয়োগ করতে চায়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে পোশাক, হালকা প্রকৌশল, হালাল মাংসসহ বিভিন্ন সামগ্রী আমদানি করতে চায় সৌদি আরব। এছাড়া দেশটিতে বিপুলসংখ্যক জনশক্তি রফতানির সুযোগ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় এসব বিষয়ে চুক্তি করা হতে পারে। তিনি বলেন, একটা সময় বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল সম্পদশালী দেশগুলোর অনুদান ও সহায়তার ওপর। এখন তার পরিবর্তন ঘটেছে। আমরা এখন বিনিয়োগ চাইছি। কারণ, বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশের দক্ষ শ্রমশক্তি, তৈরি পোশাক ও ওষুধ সামগ্রীর মতো বিশ্বমানের পণ্য সৌদি আরবে রফতানির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি সৌদি ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগাতে পারে। এজন্য ইতোমধ্যে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের বিজনেস ভিসা প্রদান এবং সৌদি আরবে বাংলাদেশী বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা চালুর বিষয়ে উভয়দেশ সম্মত হয়েছে। এতে উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ জোরদার হবে।

জানা গেছে, জনশক্তির সবচেয়ে বড় বাজার হচ্ছে সৌদি আরব। দেশ স্বাধীনের পর থেকে দেশটিতে সবচেয়ে বেশি জনশক্তি রফতানি হয়েছে। তবে মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য উন্নয়নের নীতিতে এবার পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ মুহূর্তে সরকার জনশক্তি রফতানির পাশাপাশি বাংলাদেশে মধ্যপ্রাচ্যের বিনিয়োগ ও সম্পদ ব্যবহারে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। আর তাই সৌদি আরবের পাশাপাশি নিকট ভবিষ্যতে ইরান, কাতার ও কুয়েত সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সফর হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এ প্রসঙ্গে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি আবুল কাশেম আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, সৌদি আরবসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য-বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হওয়া সময়ের সঠিক সিদ্ধান্ত। শুধু তাই নয়, কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তিতে দেশের মেগা প্রকল্পগুলোতে সৌদি আরবের বিনিয়োগ নিয়ে আসা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্যদিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন দ্বিগন্তের সূচনা করবে।

জানা গেছে, পদ্মা সেতু, ঢাকা-চট্টগ্রাম ফোর লেন হাইওয়ে, মেট্রোরেল, গভীর সমুদ্রবন্দরসহ যোগাযোগ খাতের উন্নয়নে বর্তমান ১০টি মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেছে। বিশেষ অর্থনৈতিক জোনগুলোয় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শুল্ক সুবিধা দেয়া হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রম রফতানি ছাড়াও এবার ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্বালানি সহায়তা, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সম্পর্কোন্নয়নের সুযোগ ও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।