১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নাম্বার পরিবর্তন না করে অপারেটর বদলাতে পারবেন গ্রাহক

নাম্বার পরিবর্তন না করে অপারেটর বদলাতে পারবেন গ্রাহক

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মোবাইল নাম্বার পোর্টেবিলিটি (এমএনপি) নীতিমালার সংশোধিত খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এই অনুমোদনের ফলে নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর বদলের সুযোগ পাচ্ছেন গ্রাহকরা। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর সেবাটি চালু করতে নীতিমালা বিটিআরসিতে পাঠানো হচ্ছে। নীতিমালা হাতে পাওয়ার পর বিটিআরসি ঐ সেবা চালু করতে উদ্যোগ নেবে। এ জন্য সেবার কাজ দিতে নিলামের প্রস্তুতি নেবে তারা। ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব ফয়জুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মোবাইল ফোন নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর বদলের পরিষেবা স্বচ্ছ করতে কয়েকটি মূল্যায়ন মানদ- যুক্ত করে গত জানুয়ারিতে এমএনপি নীতিমালার সংশোধিত খসড়া চূড়ান্ত করে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। এরপর তা পাঠানো হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংশোধিত খসড়া নীতিমালার কোন পরিবর্তন ছাড়াই অনুমোদন করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

অপারেটর পরিবর্তনের এই বিধান বাংলাদেশ ছাড়াও বিভিন্ন দেশে চালু রয়েছে। নতুন এই নীতিমালায় কোন গ্রাহক ইচ্ছে করলেই তার মোবাইল নম্বর অপরিবর্তিত রেখে তার পছন্দমতো অপারেটরে যেতে পারবেন। আবার প্রয়োজনে আগের অপারেটরে ফিরেও আসতে পারবেন। এজন্য তাকে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, এই সুবিধা দিতে অপারেটররা গ্রাহকদের কাছ থেকে ৩০ টাকা নিতে পারবে। বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয় আগেই অনুমোদন করেছে। একবার এমএনপি সুবিধা নেয়ার পর গ্রাহক আবার নতুন কোন অপারেটরে যেতে চাইলে তাকে ৪৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে। বর্তমানে ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশ ছাড়াও প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানে মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি বা এমএনপি পরিষেবা চালু রয়েছে।

নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর পরিবর্তনের এই নীতিমালায় বলা হয়েছে, এমএনপি পরিচালনার অভিজ্ঞতা, টেকনিক্যাল ও সিস্টেম ডিজাইনের অভিজ্ঞতা, গ্লোবাল ফুট প্রিন্ট, টেকনিক্যাল ক্যাপাসিটি, ফিনানশিয়াল এ্যানালাইসিস, রোল আউট ম্যানেজমেন্ট, রিস্ক ম্যানেজমেন্টসহ নয়টি মানদ-ে ১শ’ নম্বরের ভিত্তিতে আগ্রহী দরদাতাদের যোগ্যতা মূল্যায়ন করা হবে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ার পর আগ্রহীদের আবেদনের সঙ্গে দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন কমিটি যোগ্যতা নিরূপণ করে নম্বর দেবে। এরপর যোগ্য প্রার্থীদের একটি তালিকা প্রকাশ করবে বিটিআরসি। সেই যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়েই নিলামের আয়োজন করা হবে।

এ বিষয়ে আগে কোন নীতিমালা না থাকায় কোন অপারেটরের সেবায় সন্তুষ্ট না হলে অন্য কোন অপারেটরে যাওয়ার সুযোগ কোন গ্রাহকের ছিল না। এই সেবা চালু হওয়ার পরই যে কেউ নম্বর ঠিক রেখেই অন্য অপারেটরে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। গত বছর ২ ডিসেম্বর এমএনপি নীতিমালায় অনুমোদন দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। তার আগে বিটিআরসি গ্রাহকদের অপারেটর বদলানোর সুযোগ করে দিতে প্রস্তাবনা তৈরি করে। এরপর তা গত বছর অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠালে মন্ত্রণালয় সেই প্রস্তারের অনুমতি প্রদান করে। পরে বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

নম্বর না বদলে গ্রাহকদের অন্য অপারেটরে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে ২০১৩ সালের জুনে মোবাইল ফোন অপারেটরদের নির্দেশ দেয় বিটিআরসি। তখন বিটিআরসি এই নির্দেশ অপারেটরদের দিলেও গাইড লাইন না থাকায় অপারেটররা সঠিক সময়ে এই সেবা চালু করতে পারেনি। এরপর বিটিআরসির তত্ত্বাবধানে এমএনপি চালু করতে নতুন গাইডলাইন তৈরি করে সরকারের কাছে দেয়া হয়। সরকারের কাছে অনুমোদিত হয়ে এলে এটার টেন্ডার এবং লাইসেন্স হবে। যে লাইসেন্স পাবে সে এটাকে অপারেট করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। ওই বছরের অপারেটরদের এমএনপি সুবিধা বাস্তবায়ন করার বিষয়ে দেয়া ওই নির্দেশনায় বলা হয়, এমএনপি সুবিধা দিতে অপারেটররা গ্রাহকদের কাছ থেকে ৫০ টাকার বেশি নিতে পারবে না। সাত মাসের মধ্যেই গ্রাহকদের এই সুবিধা দিতে হবে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ এই কাজের লাইসেন্স দেয়ার নিলাম পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় যোগ্যতার নতুন শর্ত যোগ করার উদ্যোগ নেয় টেলিযোগাযোগ বিভাগ। এর ধারাবাহিকতায় খসড়া সংশোধন করে কয়েকটি বিষয় নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত করে বিটিআরসির লিগ্যাল এ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগ। নিলাম প্রক্রিয়ায় আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা মূল্যায়ন করতে আগে নীতমালায় সুনির্দিষ্ট কোন মানদ-ের উল্লেখ ছিল না। সংশোধনের পর সেখানে নয়টি মানদ-ের ভিত্তিতে মূল্যায়নের কথা বলা হয়।