২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টার্গেট কিলিং বন্ধে গোয়েন্দা সংস্থার কতিপয় সুপারিশ

টার্গেট কিলিং বন্ধে গোয়েন্দা সংস্থার কতিপয় সুপারিশ

শংকর কুমার দে ॥ টার্গেট কিলিং বন্ধে কতিপয় সুপারিশ করেছে গোয়েন্দা সংস্থা। যেসব সুপারিশ করা হয়েছে তার মধ্যে আছেÑ টার্গেট কিলিংয়ের পর দায় স্বীকার করে টুইট বার্তা দেয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, ধর্মের অপব্যাখ্যা রোধকল্পে আলেম-ওলামাদের প্রচার, সাইবার ইন্টেলিজেন্সে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, টার্গেট কিলিংয়ের সম্ভাব্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বিভিন্ন পেশাজীবীর নিরাপত্তা জোরদারকরণ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী শিক্ষক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক, ব্লগারসহ প্রগতিশীল ব্যক্তিদের টার্গেট কিলিং বন্ধে সুপারিশ ও উদ্যোগ গ্রহণের জন্য এসব সুপারিশ করেছে গোয়েন্দা সংস্থা।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী শিক্ষক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক, ব্লগারসহ প্রগতিশীল ব্যক্তিরাই টার্গেট কিলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। এসব টার্গেট কিলিং করছে জঙ্গীগোষ্ঠী ও তাদের সহযোগীরা। জঙ্গীগোষ্ঠীকে সহযোগিতা করছে যুদ্ধাপরাধী চক্র ও তাদের দোসররা। নেপথ্যে থেকে এ হত্যাকা-ে মদদ দিচ্ছে জামায়াত-শিবির। টার্গেট কিলিংয়ের পরপরই দায় স্বীকার করে টুইট বার্তা দিয়ে আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। এসব বন্ধে সুপারিশ ও উদ্যোগ গ্রহণের সুপারিশ করেছে গোয়েন্দা সংস্থা।

গোয়েন্দা সূত্রমতে, গোয়েন্দা সংস্থার টার্গেট কিলিং বন্ধের সুপারিশে বলা হয়, তথ্য সংগ্রহে সাইবার ইন্টেলিজেন্সে গুরুত্ব দিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার জরুরী। এর পাশাপাশি বিশ্ব এজেন্ট, সোর্স নিয়োগ করতে হবে। প্রশাসনে জঙ্গীবাদ সংশ্লিষ্ট মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিদের অবস্থান ও অনুপ্রবেশ চিহ্নিত করে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও গোয়েন্দা সংস্থার গোপন তথ্য চুরি ও হ্যাকিং রোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সচেতনতা তৈরি নিশ্চিত করতে হবে।

গোয়েন্দা সংস্থার সুপারিশে দেশের বিশিষ্ট, প্রগতিশীল ও মুক্তচিন্তার ব্যক্তিদের নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। নিরাপত্তামূলক সহায়তায় যেন আতঙ্কের সৃষ্টি না হয় এ ধরনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, তাঁদের বাসভবন ও কর্মস্থল থেকে আসা-যাওয়ার সময় ও অনুষ্ঠানে অবস্থানকালে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার থাকা অপরিহার্য। এসব ব্যক্তির বাসাবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় অযথা অবস্থানকারীদের ওপর নজরদারি ও ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার (সিসি ক্যামেরা) আওতায় আনা জরুরী। জঙ্গীগোষ্ঠীর সম্ভাব্য আস্তানাগুলোর ওপর কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করতে হবে। সন্দেহ হলেই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশির সুপারিশ করা হয়েছে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জঙ্গীদের সম্ভাব্য টার্গেট কিলিং বন্ধের সুপারিশে বলা হয়, তথ্য সংগ্রহে সাইবার ইন্টেলিজেন্স গুরুত্ব দিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি বিশ্ব এজেন্ট, সোর্স নিয়োগসহ প্রশাসনে জঙ্গীবাদ সংশ্লিষ্ট মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিদের অবস্থান ও অনুপ্রবেশে সচেতনতা তৈরি ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও গোয়েন্দা সংস্থার গোপন তথ্য চুরি ও হ্যাকিং রোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিত করতে হবে। দেশের স্থিতিশীল পরিস্থিতি বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো, সর্বজনগ্রহণযোগ্য আলেম-ওলামাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে ধর্মের বিধিবিধান সংক্রান্ত সঠিক ব্যাখ্যা, করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো ব্যাপক প্রচারের উদ্যোগ নিতে হবে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়, জঙ্গীবাদ দমনে জনসচেতনতা বাড়াতে মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে জুমার নামাজে খুতবার পর্বে বক্তব্য দিতে হবে। মাদ্রাসা ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জঙ্গীবাদের কুফল সংক্রান্ত পাঠদান চালু করা, মিডিয়া, সামাজিক সংগঠন ও বেসরকারী সংস্থার মাধ্যমে জঙ্গীবাদবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে কথিত প্রগতিশীল, মুক্তমনা ও সুশীল নামধারী ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যমূলকভাবে ধর্ম ও ধর্মীয় নেতাদের বিরুদ্ধে অশালীন, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ, ধর্ম ও দেশের প্রচলিত আইনবিরোধী কর্মকা- থেকে বিরত রাখার জন্য সতর্ক ও সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়াও প্রয়োজনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে উগ্রপন্থীদের ধর্মীয় অপপ্রচার রোধে সর্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।