১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাকিস্তানী কোম্পানিকে কাজ দিতে বার বার দরপত্র আহ্বান!

সংসদ রিপোর্টার ॥ পোকা নিধনে পাকিস্তানী কোম্পানি নোকনকে কাজ পাইয়ে দিতে বার বার দরপত্র আহ্বান করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে সংসদীয় কমিটিতে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই কোম্পানির প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকায় দুই দফা দরপত্র বাতিল করা হয়। এর পরও অযোগ্য প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যাদেশ দিতেই সরকারী ক্রয়বিধি লঙ্ঘন করে দুই দফা দরপত্র বাতিল করে তৃতীয় দফায় দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। বার বার দরপত্র আহ্বান করার কারণে ঠিক সময়ে পোকা নিধনের ওষুধ প্রিমিফস মিথাইল কিনতে না পারায় দেশের বিভিন্ন খাদ্যগুদামের খাদ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগপত্রে।

বুধবার খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির কাছে এ অভিযোগ করেছে সিটিজেন রাইটস মুভমেন্ট নামের একটি নাগরিক সংগঠন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, খাদ্য অধিদফতর ১২ হাজার লিটার প্রিমিফস মিথাইল ওষুধ ক্রয়ের জন্য দরপত্র আহ্বান করার পর কারিগরি কমিটি সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে ওষুধ সরবরাহের কার্যাদেশ দেয়ার সুপারিশ করে। কিন্তু পাকিস্তানী কোম্পানি নোকনের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকায় দুই দফা দরপত্র বাতিল করা হয়। ওই অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দিতেই সরকারী ক্রয়বিধি লঙ্ঘন করে দুই দফা দরপত্র বাতিল করে তৃতীয় দফায় দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সামসুজ্জামান নামে এক ভিআইপির ভাই প্রভাব বিস্তার করে পাকিস্তানী কোম্পানিকে কাজ পাইয়ে দিতে তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। আর দুই দফা দরপত্র বাতিল হওয়ায় খাদ্যে পোকা ঠেকাতে ওষুধ ক্রয়ের প্রক্রিয়া প্রায় পাঁচ মাস দেরি হয়েছে। এ কারণে দেশের অনেক গুদামে ইতোমধ্যে পোকার আক্রমণ শুরু হয়েছে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি। অন্যদিকে দেশে খাদ্য সঙ্কটের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, খাদ্য অধিদফতর খাদ্যগুদামে পোকা নিধনের জন্য প্রতি বছর প্রায় ১৫ মেট্রিক টন এ্যালুমিনিয়াম ফসফেট ট্যাবলেট ও ১২ হাজার লিটার প্রিমিফস মিথাইল ওষুধ কিনে থাকে। ওষুধ সময়মতো কিনতে না পারলে গুদামের লাখ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য পোকায় খেয়ে নষ্ট করে। ওই ওষুধ সরবরাহ করে থাকে পাকিস্তানী কোম্পানি নোকনসহ দেশী-বিদেশী কয়েকটি কোম্পানি। কিন্তু নোকনের বিরুদ্ধে জঙ্গী পৃষ্ঠপোষকতার সঙ্গে জড়িত বলে ইতোপূর্বে গোয়েন্দা সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, যে কারণে ওই কোম্পানিকে কার্যাদেশ দেয়ার পরিবর্তে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়েছে সংসদীয় কমিটির কাছে আনীত লিখিত অভিযোগে।