১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘সরকারী ডাকাত’ এসেছে বলে মসজিদের মাইকে প্রচার

‘সরকারী ডাকাত’ এসেছে বলে মসজিদের মাইকে প্রচার

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁশখালী, ১৮ মে ॥ চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকায় যৌথবাহিনীর অভিযান শুরু হয়েছে। বুধবার বিকেল চারটা থেকে ছয়টা পর্যন্ত গ-ামারা এলাকায় পুলিশ বিজিবি যৌথ অভিযান শুরু করে। এ সময় পুরো গ-ামারা এলাকা পুরুষশূন্য হয়ে পড়ে। অভিযানে নাছির উদ্দিন (৩৮) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। নাছিরের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে। যৌথবাহিনী গ-ামারা এলাকায় ঢুকলে মসজিদের মাইক ব্যবহার করে ‘সরকারী ডাকাত’ এসেছে বলে প্রচার করে লিয়াকত বাহিনী। এদিকে যৌথবাহিনীর অভিযানে বড় ধরনের সফলতা না এলেও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানা যায়।

বুধবার অভিযানে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার কে. এমরান ভুঁইয়া, সহকারী পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) কামরুল হাসান, বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আলমগীর হোসেন, আনোয়ারা, লোহাগাড়া ও পটিয়া থানার ওসিসহ শতাধিক বিজিবি ও শতাধিক পুলিশ সদস্য অংশ নেন।

কয়লা বিদ্যুত প্রকল্প নির্মাণ কেন্দ্র করে গত ৪ এপ্রিল সংঘটিত ত্রিমুখী সংঘর্ষে ৪ গ্রামবাসী নিহত ও পুলিশসহ আহত হয়েছিল অন্তত অর্ধশতাধিক। সেই ঘটনায় পুলিশ ও স্বজনদের পক্ষ থেকে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় গন্ডামারা বসত-ভিটা রক্ষা কমিটির সভাপতি ও বিএনপি নেতা লিয়াকত আলীকে প্রধান আসামি করা হয়েছিল। একাধিক মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও এই নেতা ঐ এলাকায় প্রকাশ্য মিছিল সভা-সমাবেশ করে আসছিল। তাছাড়া এই নেতা এই এলাকার সাধারণ নিরীহ লোককে পুঁজি করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। গত সোমবার এই নেতার গ-ামারা হাদিরপাড়া মুজিব কেল্লার মাঠে সভা করার কথা ছিল। সেদিন পুলিশের ৫ শতাধিক সদস্য ঐ এলাকায় অভিযান চালায়। বিএনপি নেতা লিয়াকতকে না পেয়ে তার পিতা দুদু মিয়াকে আটক করে পুলিশ। ঐদিনও পুলিশের অভিযানে বাধা দিয়েছিল লিয়াকত বাহিনী। বুধবার আবারও শতাধিক বিজিবি সদস্য ও ৫ শতাধিক পুলিশ সদস্য নিয়ে গ-ামারা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। তবে অভিযানের খবর আগে থেকেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় পুরো গ-ামারা এলাকা পুরুষশূন্য হয়ে পড়ে। তবে কিছু এলাকায় লিয়াকত বাহিনীর লোক জড়ো হয়ে মসজিদের মাইকে সরকারী ডাকাত এসেছে বলে প্রচার করতে থাকে। পুলিশ কৌশলে অভিযান চালানোয় কোন ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। এদিকে পুরো উপজেলায় বিএনপি নেতা লিয়াকতের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বিরাজ করছে। পাশাপাশি পরিবহন মালিক শ্রমিক ও যাত্রীরা প্রকাশ্য বলে বেড়াচ্ছে বিএনপি নেতা লিয়াকত নিজের স্বার্থের জন্য উপজেলাবাসীকে কষ্ট দিয়ে যাচ্ছে। তাকে অচিরেই গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় নিয়ে এসে বাঁশখালীবাসীকে নিরাপদে বসবাসের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি।