২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিসিএসে উত্তীর্ণদের নিয়োগে গোয়েন্দা রিপোর্টে জোর

বিসিএসে উত্তীর্ণদের নিয়োগে গোয়েন্দা রিপোর্টে জোর

তপন বিশ্বাস ॥ চাকরি নামক সোনার হরিণ ধরতে বাদ সাধছে গোয়েন্দা রিপোর্ট। মেধাবীরা কাঠখড় পুড়িয়ে বিসিএসএ উত্তীর্ণ হয়ে যোগদানের মুহূর্তে গোয়েন্দা আপত্তির মুখে পড়ছেন। এমনকি আগের ব্যাচে ফিট হলেও পরের ব্যাচে আনফিট হওয়ার মতো নতুন নতুন নজির তৈরি করছে বিভিন্ন গোয়েন্দা রিপোর্ট। এতে একদিকে যেমন কোন কোন মেধাবীর চাকরি অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে, তেমনি গোয়েন্দা রিপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সম্প্রতি ৩৪তম বিসিএসের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। পিএসসি’র সুপারিশ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন পর্যালোচনা করে জানা গেছে, এতে মোট ১৫৫ প্রার্থীকে বাদ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

জানা গেছে, এদের অনেকেই গোয়েন্দা রিপোর্টে আপত্তির কারণে নিয়োগ পাচ্ছেন না। এছাড়া কেউ কেউ মেডিক্যাল পরীক্ষায় অংশ নেননি বা আনফিট রয়েছেন, তারাও নিয়োগ পাননি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিয়োগ না পাওয়াদের তালিকায় প্রশাসন ক্যাডারের ২৩, পররাষ্ট্র ক্যাডারের ৪, পুলিশ ক্যাডারের ১০, শিক্ষা ক্যাডারের সর্বোচ্চ ৫৫ এবং অন্যান্য ক্যাডারের ৬৩ জন রয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৩২ ব্যাচের এক ক্যাডার কর্মকর্তা (বর্তমানে চাকরিতে রয়েছেন) ৩৪ ব্যাচে আবারও পরীক্ষায় অংশ নেন। এবার তিনি তার পছন্দের প্রশাসন ক্যাডার পান। কিন্তু তার এই প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি করা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। ৩২ ব্যাচে অনাপত্তি পেয়ে ক্যাডার সার্ভিসে যোগদান করলেও এবার তিনি গোয়েন্দাদের আপত্তির কবলে পড়েছেন। সরকারের দুটি গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত রিপোর্ট দেয় বিসিএসে নিয়োগ প্রার্থীদের। এর মধ্যে একটি গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে অনাপত্তি দেয়া হয়েছে। অপরটিতে দেয়া হয়েছে আপত্তি। অথচ ৩২ ব্যাচের নিয়োগের সময় তিনি দুই গোয়েন্দা সংস্থারই অনাপত্তি পেয়েছিলেন। কীভাবে এটা হলো তার কোন সদুত্তর দিতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বলছে, আমাদের কাছে কেউ আবেদন করলে তা পুনতদন্তের জন্য পাঠিয়ে দেই।

একটা-দুইটা নয়। এমন অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে ৩৪তম বিসিএসে। ২০১৫ সালে প্রথম শ্রেণীর পদে (পিটিআই ইন্সট্রাকটর) চাকরিতে যোগদান করেছেন। এ ক্ষেত্রে যথারীতি গোয়েন্দা রিপোর্টে অনাপত্তি দেয়া হয়েছে। বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডার পাওয়া এই কর্মকর্তা এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তিনি বলেন, তার গ্রামের বাড়িতে সরকারের দুটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি তদন্ত করতে গিয়েছিলেন। চাকরির সুবাদে তিনি বাড়িতে না থাকলেও তার মা বোনের সঙ্গে তাদের কথা হয়। এমনকি প্রত্যন্ত গ্রামে তদন্ত করতে যাওয়ার কারণে উভয় প্রতিনিধি (ভিন্ন ভিন্ন ভাবে) যাতাযাত খরচ বাবদ এক হাজার করে টাকাও নিয়ে আসেন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে এর একটি গোয়েন্দা সংস্থা অনাপত্তি রিপোর্ট দেয়ায় তার নিয়োগ আটকে রয়েছে। এমন আরও ঘটনার খবর পাওয়া গেছে পররাষ্ট্র ক্যাডারের ক্ষেত্রেও। এ ক্ষেত্রেও সরকারের দুই গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে একটি করে আপত্তি দিয়েছে।

সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনকণ্ঠকে বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার এ জাতীয় কর্মকা-ে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। এদের মধ্যেও ভাল মন্দ রয়েছে। কিছু সদস্যের এ জাতীয় রিপোর্টের কারণে গোটা গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, সরকারের কোন কোন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের পুলিশ কনস্টেবল থেকে আনা হয়। এরা সাধারণত স্বল্প শিক্ষিত হওয়ায় মূলত গোয়েন্দা কাজে এরা পিছিয়ে থাকে। আবার কোন কোন সংস্থায় গোয়েন্দা কাজের জন্য আলাদাভাবে নিয়োগ দেয়া হয়। এরা সাধারণত ভাল করে থাকে। তাই সরকারের উচিত পুলিশ কনস্টেবল থেকে না নিয়ে, গোয়েন্দাগিরি করতে সরাসরি নিয়োগ দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে সরকার দক্ষ জনবল নিয়োগ করতে পারবে।

৩৪তম বিসিএসে দুই হাজার ২০ ক্যাডারকে নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ৩৪তম বিসিএস পরীক্ষায় বিভিন্ন ক্যাডারে দুই হাজার ১৭৫ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। ২০১৩ সালের ২৪ মে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দুই লাখ ২১ হাজার ৫৭৫ প্রার্থী এই পরীক্ষার জন্য অনলাইনে আবেদন করেন। পরীক্ষায় অংশ নেন এক লাখ ৯৫ হাজার পরীক্ষার্থী। ২০১৩ সালের ৮ জুলাই ৩৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১২ হাজার ৩৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। তবে এবারই প্রথমবারের মতো প্রিলিমিনারিতে কোটা পদ্ধতি চালু করায় অনেক মেধাবী বঞ্চিত হন। এ নিয়ে সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়লে ১০ জুলাই ফল পুনঃমূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেয় পিএসসি। এরপর প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সংশোধিত ফল ১৪ জুলাই প্রকাশ করা হয়। নতুন এ ফল অনুযায়ী ৪৬ হাজার ২৫০ জন উত্তীর্ণ হন। ২০১৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে নয় হাজার ৮২২ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দিতে ২০১৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি এ বিসিএসের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে পিএসসি।