১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেলেই দ্বিতীয় ময়না তদন্ত রিপোর্ট

নিজস্ব সংবাদদাতা, কুমিল্লা, ১৮ মে ॥ দেশব্যাপী আলোচিত-সমালোচিত কলেজছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির কাছ থেকে ডিএনএ প্রোফাইল হাতে পাওয়ার পর ৩ কার্যদিবসের মধ্যে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত রিপোর্ট তদন্তকারী সংস্থার নিকট দাখিল করা হবে। এছাড়া বৃহস্পতিবার মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যদের নিয়ে এ বিষয়ে বৈঠক করা হবে। বুধবার সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন দ্বিতীয় ময়নাতদন্তকারী মেডিক্যাল বোর্ডের সভাপতি ও কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডাঃ কামদা প্রসাদ সাহা। এদিকে তনুর ডিএনএ রিপোর্টে প্রাপ্ত ৩ ধর্ষকের প্রোফাইল ম্যাচিং করতে অনুমতির জন্য সর্বোচ্চ ১০ দিনের মধ্যে আদালতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শীর্ষ সন্দেহভাজনদের একটি তালিকা পাঠাবে সিআইডি।

জানা গেছে, গত ২০ মার্চ রাতে তনুর লাশ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকার একটি জঙ্গল থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তনুর সুরতহাল শেষে ওইদিন কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রথম ময়নাতদন্ত করা হয়। প্রথম ময়নাতদন্তের ১৬ দিনের মাথায় গত ৪ এপ্রিল তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির নিকট প্রতিবেদনটি দাখিল করেন ময়নাতদন্তকারী কর্মকর্তা ও কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের জুনিয়র প্রভাষক ডাঃ শারমিন সুলতানা। ওই প্রতিবেদনে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি, মৃত্যুর কারণও উল্লেখ করা হয়নি এবং বিষক্রিয়ারও আলামত পাওয়া যায়নি। এতে তনুর পরিবারসহ বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এদিকে আদালতের নির্দেশে গত ৩০ মার্চ ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের জন্য কবর থেকে তনুর লাশ উত্তোলন করে পুনরায় সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয় এবং কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। সূত্র জানায়, প্রথম ময়নাতদন্তকালে পুলিশ ফরেনসিক বিভাগের ওই চিকিৎসকের নিকট তনুর মৃত্যুর কারণ, ধর্ষণের আলামত ও তনু গর্ভবতী কি-না এসব বিষয়ে জানতে চায়। পরে দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্তকালে তনুর মৃত্যুর কারণ, ধর্ষণের আলামত, ভিসেরা প্রতিবেদনসহ অন্যান্য বিষয়ও জানতে চায় তদন্তকারী সংস্থা। এদিকে ডিএনএ প্রতিবেদনের জন্য ৪টি দাঁত ও ভেজাইন্যাল সোয়াব সংগ্রহ করে সিআইডি-ঢাকার ফরেনসিক বিভাগে ডিএনএ পরীক্ষা করার জন্য প্রেরণ করা হয়। গত সোমবার সিআইডি-কুমিল্লার বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান ডিএনএ প্রতিবেদন নিয়ে মুখ খুলেন। তিনি বলেন, ডিএনএ প্রতিবেদনে ৪ জনের প্রোফাইল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি তনুর এবং অপর ৩টি পৃথক ৩ ব্যক্তির। ডিএনএ পরীক্ষায় ৩ জন পুরুষের বীর্য পাওয়া গেছে। এদিকে লাশ উত্তোলনের পর ডিএনএ প্রতিবেদন সিআইডি পেলেও দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্তের ৫০ দিন পেরিয়ে গেলেও এ পর্যন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি ময়নাতদন্তকারী ৩ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড। এ বিষয়ে মেডিক্যাল বোর্ডের সভাপতি ডাঃ কামদা প্রসাদ সাহা বুধবার সাংবাদিকদের জানান, আদালতের নির্দেশে সিআইডি ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে। আমরা ডিএনএর ওই প্রতিবেদনটি চেয়ে সিআইডির নিকট চিঠি দিয়েছি, ডিএনএ রিপোর্টটি পেলে আমরা ৩ সদস্যের বোর্ড বসে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করব এবং এরপর সর্বোচ্চ ৩ কার্যদিবসের মধ্যে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত রিপোর্ট তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির নিকট দাখিল করব। এদিকে তনু হত্যাকা-ের অপরাধ তদন্ত এবং ময়নাতদন্ত ভিন্ন বিষয় হলেও তদন্তকারী সংস্থা ও মেডিক্যাল বোর্ড ডিএনএ প্রতিবেদন নিয়ে জটিলতার কারণে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়টি বিলম্বিত হচ্ছে। বুধবার বিকেল পর্যন্ত ডিএনএ প্রতিবেদনটি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে মেডিক্যাল বোর্ড।

অন্যদিকে ডিএনএ প্রতিবেদনে প্রাপ্ত ৩ ব্যক্তির প্রোফাইল ম্যাচিংয়ে কাজ করে যাচ্ছে সিআইডি। সূত্র জানায়, তনুর ডিএনএ থেকে প্রাপ্ত ৩ ব্যক্তির প্রোফাইল ম্যাচিং করতে শীর্ষ সন্দেহভাজনদের একটি তালিকা সর্বোচ্চ ১০ দিনের মধ্যে আদালতের অনুমতির জন্য প্রেরণ করা হবে। সিআইডি-কুমিল্লার বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান সাংবাদিকদের জানান, ডিএনএ রিপোর্ট ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে, এতে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট প্রদানে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। এছাড়া রিপোর্টটি সরবরাহের জন্য মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।