২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইংল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা প্রথম টেস্ট শুরু আজ

তিন ম্যাচের ‘ইনভেস্টেক’ সিরিজে ফেবারিট স্বাগতিক ইংলিশরা, অধিনায়ক কুকের সামনে রেকর্ডের হাতছানি, নতুন কিছু করতে মরিয়া এ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস বাহিনী, কন্ডিশনকেই বড় চ্যালেঞ্জ মানছেন সফরকারী লঙ্কান দলপতি, অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান

স্পিনার রঙ্গনা হেরাথ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ হেডিংলিতে আজ থেকে শুরু হচ্ছে ইংল্যান্ড-শ্রীলঙ্কার মধ্যকার তিন ম্যাচ ‘ইনভেস্টেক’ সিরিজের প্রথম টেস্ট। যেখানে অভিজ্ঞতা, শক্তি-সামর্থ্য, কন্ডিশন সকল বিচারেই এগিয়ে স্বাগতিক ইংলিশরা। গত বছর জুলাই-আগস্টে ঐতিহ্যের এ্যাশেজ পুনরুদ্ধারের পর থেকে এ্যালিস্টার কুকের নেতৃত্বে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে দারুণ খেলেছে ইংল্যান্ড। আইসিসি টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের চতুর্থ স্থানে ইংলিশরা। জো রুট, জেমস এ্যান্ডারসন, স্টুয়ার্ট ব্রডরা দুরন্ত নৈপুণ্যে ঔজ্জ্বল্য ছড়াচ্ছেন। অপরদিকে নয় দলের র‌্যাঙ্কিংয়ে সাতে শ্রীলঙ্কা। দুই গ্রেট মাহেলা জয়াবর্ধনে ও কুমার সাঙ্গাকারা অবসরে যাওয়ার পর কার্যত ধুঁকছে লঙ্কানরা। দীনেশ চান্দিমাল আর এ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসকে বাদ দিলে টপঅর্ডার ব্যাটিংয়ে করুণ অবস্থা তাদের। ব্যাটিং-বোলিং কিংবা অলরাউন্ডারÑ র‌্যাঙ্কিংয়ের সেরা দশে দলটির একমাত্র মুখ ম্যাথুসই।

শত প্রতিকূলতার মাঝে অতিথি লঙ্কানদের অনুপ্রেরণা হতে পারে প্রথম টেস্টের ভেন্যু! ২০১৪ সালের জুনে সর্বশেষ ইংল্যান্ড সফরে এই হেডিংলিতে জিতেই দুই টেস্টের সিরিজ ১-০তে পকেটে পুরেছিল ম্যাথুসের দল। ওই ম্যাচে মাহেলা-সাঙ্গা দুজনেই ছিলেন। অবশ্য দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬০ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস উপহার দিয়ে জয়ের নায়ক ছিলেন ম্যাথুস। ওই সিরিজে দলে ছিলেন কুশল সিলভা। তরুণ এই ওপেনার বলেন, ‘গতবার ভাল করে আমরা অনেক উচ্ছ্বাসিত ছিলাম। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ নতুন এক সিরিজ। এখানে সঙ্গা ও মাহেলা নেই। তাই নতুনদের অনেক দায়িত্ব। এটাই নিজেদের প্রমাণের সুযোগ। স্কোর বোর্ডে অন্তত ৩০০ রান তুলতে হবে, তাহলেই কেবল ম্যাচে টিকে থাকা যাবে।’ দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল পেসার ধাম্মিকা প্রসাদের। এবার ইনজুরির কারণে খেলতে পারছেন না তিনি।

নিশ্চিত করেই তার অভাবটা অনুভব করবে সফরকারীরা। ইংল্যান্ডের পেসবান্ধব কন্ডিশনে সুরাঙ্গা লাকমল, নুয়ান প্রদীপ ও দুশমান্থা চামিরার মতো প্রতিভাবানদের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। তবে ৬৭ টেস্টে ২৯৭ শিকারের অভিজ্ঞতা দিয়ে দলকে সাহায্য করতে প্রস্তুত ৩৮ বছর বয়সী বাঁহাতি স্পিনার হেরাথ। লিডসের পিচও এখন আর আগের মতো পেসারদের সাহায্য করছে না। চরিত্র বদলে যাচ্ছে। হেডিংলিতে ইংল্যান্ডের সাম্প্রতিক রেকর্ডটাও ভাল নয়। ২০০৭ সালের পর খেলা ৫ টেস্টের মাত্র একটিতেই জিততে পেরেছে তারা, বাকি চারটিতে হার। র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে থাকা ব্রড, তুখোড় এ্যান্ডারসনের সঙ্গে অভিষেক হতে পারে প্রতিভাবান পেসার জে বলের। অথবা স্টিফেন ফিনকেও দেখা যেতে পারে। হার্টের সমস্যায় জেমস টেইলর অকালে অবসর নেয়ায় হ্যাম্পশায়ার ব্যাটসম্যান জেমস ভিন্সের অভিষেক হতে যাচ্ছে। তবে ব্যাটিংয়ে আলোটা থাকবে অধিনায়ক কুক ও ক্রমশ রান-মেশিন হয়ে ওঠা জো রুটের ওপর।

আর মাত্র ৩৬ রান করলেই গ্রেট শচীন টেন্ডুলকরকে (৩২ বছর ১১ মাস) টপকে টেস্ট ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে ১০ হাজার রানের ল্যান্ডমার্কে পা রাখবেন কুক (৩২ বছর সাড়ে ৩ মাস)। দারুণ ফর্মে আছেন তিনি। সর্বশেষ কাউন্টিতে এসেক্সের হয়ে খেলেছেন ১০৫, ৩৫*, ১, ১২৭* ও ১৪২ রানের ইনিংস। অবশ্য গতবারের কথা মনে করিয়ে দিয়ে লঙ্কানদের হালকাভাবে না নিতে সতীর্থদের সতর্ক করে দিয়েছেন স্বাগতিক অধিনায়ক। ১৯৮২-২০১৪ পর্যন্ত মুখোমুখি ২৮ টেস্টের ১০টিতে জিতেছে ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ৮টিতে। অমীমাংসিত ১০। দুদলের মধ্যে এ পর্যন্ত সিরিজ হয়েছে ১৩টি, যেখানে ৬ জয়ে এগিয়ে ইংলিশরা। লঙ্কানদের ঝুলিতে ৫ সিরিজ। গতবারের আগে ইংল্যান্ডের মাটিতে শ্রীলঙ্কা আর একবারই সিরিজ জিতেছিল, ১৯৯৮ সালে, অর্জুনা রানাতুঙ্গার নেতৃত্বে। সেটি অবশ্য ছিল একম্যাচের সিরিজ।

ক্রিকেটে রেকর্ড পরিসংখ্যানের মূল্য সামান্যই। যা করার ক্রিকেটারদের মাঠে করতে হয়। সে অর্থে ইংল্যান্ডই এগিয়ে থাকবে। ব্যাটে-বলে কুক-রুট-ব্রডদের পাশাপাশি সম্প্রতি সাদা পোশাকে দুর্দান্ত অলরাউন্ড নৈপুণ্য প্রদর্শন করছেন বেন স্টোকস আর মঈন আলি।