২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জাতীয় দলে ফেরার আশা শরীফের

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মিলিয়ে একদিনের ম্যাচে বাংলাদেশের অনেক বোলারেরই হ্যাটট্রিক রয়েছে। আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচে স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক, তাইজুল ইসলাম, পেসার রুবেল হোসেন ও শাহাদাত হোসেন রাজিব এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে রুবেল হোসেন ও তাপস বৈশ্য হ্যাটট্রিক করেছেন। বুধবার হ্যাটট্রিক করলেন মোহাম্মদ শরীফ। শুধু হ্যাটট্রিকই করলেন না, গাজী ট্যাংক ক্রিকেটার্সের হয়ে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের বিপক্ষে টানা চার বলে চার উইকেট নিয়ে ইতিহাসই গড়ে ফেললেন। টানা চার বলে চার উইকেট এখন পর্যন্ত কোন বাংলাদেশী বোলার নিতে পারেনি।

এমন রেকর্ড ইংল্যান্ডের এ্যালান ওয়ার্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার শন পোলক, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভাসবার্ট ড্র্যাকস, শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গা, ইংল্যান্ডের ডেভিড পেইন ও ইংল্যান্ডের গ্রাহাম নেপিয়ার গড়েছেন। এ বোলারদের মধ্যে মালিঙ্গা শুধু আন্তর্জাতিক একদিনের ক্রিকেটে রেকর্ডটি গড়েছেন। বাকিরা সবাই ঘরোয়া ক্রিকেটে এমন কীর্তি দেখিয়েছেন। এ বোলারদের দলে এবার যোগ হলেন ৩২ বছর বয়সী বাংলাদেশের মিডিয়াম পেসার মোহাম্মদ শরীফও। ৩৩.৩ ওভারে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, পরের বলে জাবিদ হোসেন, ৩৩.৫ ওভারে নাজমুস সাদাত ও ওভারের শেষ বলে মুক্তার আলীকে আউট করেন শরীফ। টানা চার উইকেট নেয়ার পর দিনটি শেষে শরীফ জানিয়ে দেন এখনও তার জাতীয় দলে খেলার আশার কথা। ২০০৭ সালের পর যে আশা মনের মধ্যে লুকিয়েই রেখেছেন। কিন্তু আশা পূরণ আর হচ্ছে না ১০ টেস্ট ও ৯ ওয়ানডে খেলা এ ক্রিকেটারের। কীর্তি গড়ার পর এবার বলে দিলেন, ‘আমার ইচ্ছা আছে জাতীয় দলে ফিরে আসার।’

হ্যাটট্রিকের অনুভূতি জানাতে গিয়ে শরীফ বললেন, ‘জাতীয় লীগে এর আগে দুইবার না তিনবার করেছিলাম। আসলে আমাদের দেশের কালচার এটা, ৩০ বছর হলেই বলে বুড়ো। অন্যদেশে এটা না, অন্যদেশে ৩০ হলে তাকে বলে সবে অভিজ্ঞ হয়েছে। আমার কাছে মনে হয় না আমি শেষ হয়ে গেছি। আমার কাছে মনে হয় আমার দেয়ার আরও কিছু আছে। আমার ইচ্ছা আছে জাতীয় দলে ফিরে আসার। যতদিন পারি ফিটনেস ধরে খেলে যাব।’ জাতীয় দলে খেলার বিষয়ে অবিচার পাওয়ার বিষয়েও ইঙ্গিত দিলেন শরীফ, ‘দুইবছর আগে আমি জাতীয় লীগে তৃতীয় সেরা উইকেট শিকারি ছিলাম। পাশাপাশি ভাল রানও করেছিলাম। আমাকে ডাকা হয়েছিল, বলা হয়েছিল আমি ‘এ’ দলের হয়ে খেলতে যাচ্ছি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আমাকে নেয়া হয়নি। আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম কেন আমাকে বাদ দেয়া হল? আমি কি ওভার এজ, নাকি চাচ্ছেন না আমি খেলি? তারা বলেছে এটা না, অন্য একটি কারণ। কিন্তু কারণ আমাকে বলেনি।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘আমি এখন উদাহরণ। জাতীয় দলে, ক্রিকেট লাইফ দিয়ে ও ইনজুরিতেও। আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম ২৫ বছর হলেই কি বাদ দিয়ে দিবেন। পরের প্রজন্ম তো দেখতেছে। সাকিবের এখন ২৮ হয়েছে, পরের বছর পারফর্ম না করলে বাদ দিয়ে দিবেন? আমি চাই এদেশে যেন এইটা উঠে যায়। মিসবাহ যদি ৪০ বছরে খেলতে পারে ফিটনেস থাকলে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা কেন পারবে না। আশিস নেহরা আছে, অনেকেই আছে।’ ২০০৭ সালের পর যে আর জাতীয় দলে দেখা যায়নি শরীফকে, এর পেছনে কোনভাবেই নিজের দায় নেই বলেই মনে করছেন শরীফ, ‘আমি তা মনে করি না। কারণ আমার যখন প্রথম ইনজুরি হল, তখন অনেক দেরি করে আমাকে অস্ট্রেলিয়াতে পাঠানো হয়েছে। ওইটা আগে হলে আমি আর তিন চার মাস আগে ফিরতে পারতাম। আমি ২০০৩ বিশ্বকাপও খেলতে পারি নাই। তবে তারপরও বোর্ডকে ধন্যবাদ দেই দেরি হলেও আমাকে তারা পাঠিয়েছে। যেটা বললেন উদাহরণ। আমার পরে মাশরাফির হয়েছে। আমাকে দেখেই মাশরাফিকে দ্রুত পাঠানো হয়েছে।’ শরীফ শুধু পারফর্ম করে যেতে চান, ‘আমার কাজ পারফর্ম করে যাব। আমার ইচ্ছা আমি আরও খেলে যাব। বাকিটা নির্বাচকদের ব্যাপার। আমি ওপরে খেলবো কিনা। আমি তো জোর করে ঢুকতে পারবো না। পারফর্মেন্সই কথা বলবে। কেই অপরিহার্য থাকে। কারও ভাগ্য ভাল থাকে।’

নির্বাচিত সংবাদ