২২ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আবাহনীর অস্ট্রিয়ান কোচ জর্জ কোটান ঢাকায়

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ‘গত মৌসুমে একটু আগেই এসেছিলাম। ইচ্ছে ছিল মৌসুমের শেষ পর্যন্ত থাকার, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে লীগও পিছিয়ে গেল আর আমারও ফিরে যাওয়া ছাড়া করার কিছু ছিল না। কারণ একটি ক্লাবের সঙ্গে আমার চুক্তি ছিল, এছাড়া ফিফার গোল প্রজেক্টের সঙ্গেও ছিল কিছু সম্পৃক্ততা। এ জন্য লীগ শেষের আগেই চলে গিয়েছিলাম। এবার ম্যানেজার রূপু আমার সঙ্গে আগে থেকেই যোগাযোগ করেছে, সে আমাকে জানিয়েছে এবারের দল গত মৌসুমের দলের চেয়ে ভাল। ভেবে দেখলাম আগামী ছয় মাস যেহেতু আমার হাতে সময় আছে, তাই এ সময়টুকু আমি আবাহনী ও বাংলাদেশে দিতে পারি। আমি এ দেশকে ভালবাসি। যখনই এখানে কোন ডাক পাই এখানে ছুটে আসি। এটিও সত্যÑ আমি বসে থাকতে পছন্দ করি না, আমি কাজ পাগল মানুষ। আশাকরি এবার আমি লীগ শেষ করে যেতে পারবো। এবার তো বিদেশী খেলোয়াড়রা আগেই নিবন্ধিত হয়েছে। গতবার হাঙ্গেরি থেকে খেলোয়াড় এনেছিলাম। এবার আর আনছি না। বাংলাদেশের ফুটবলে এখন সাফল্য বড় প্রয়োজন, গত তিন বছরে তারা কোন কিছুই জিততে পারেনি। আমি বাংলাদেশ ফুটবলকে সেবা দিতে চাই, যদি জাতীয় দলে বা অন্য কোথাও আমাকে প্রয়োজন মনে করে বাফুফে, তবে তা আমি করতে রাজি আছি।’ কথাগুলো জর্জ কোটানের। বয়সটা হয়ে গেছে প্রায় ৭০। তারপরও ফুটবল ছাড়া কিছুই বোঝেন না। সর্বক্ষণই ধ্যানে-জ্ঞানে, চিন্তা-চেতনায় শুধু ফুটবল আর ফুটবল। এমন লোককেই তো সবাই চায়। তবে পায় শুধু ঢাকা আবাহনী লিমিটেডই! এ নিয়ে দ্বিতীয় দফায় ‘দ্য স্কাই ব্লু ব্রিগেড’ বাহিনীকে কোচিং করাতে এলেন এই হাঙ্গেরিয়ান বংশোদ্ভূত অস্ট্রিয়ান এই বর্ষীয়ান কোচ, যিনি ২০০৩ সালে সাফ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন করিয়েছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলকে। বুধবার ভোরে আবাহনীর হেড কোচের দায়িত্ব নিতে কোটান বিমানযোগে আসেন বাংলাদেশে। এর আগে ২০১৪-১৫ মৌসুমে একই দলের কোচ হিসেবে এসেছিলেন। তবে সেবার আবাহনী কোন শিরোপা জেতেনি। প্রিমিয়ার লীগেও হয়েছিল চতুর্থ। ‘কোটানের এবার আসার তেমন আগ্রহ ছিল না, তবে ক্লাব ম্যানেজমেন্টের অনুরোধ ফেলতে না পেরে এবার তিনি আসছেন।’ জনকণ্ঠকে এমনটাই জানান আবাহনীর ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রূপু।

বাংলাদেশে অবস্থানকালে কোটান স্ত্রীসহ ধানম-িতে আবাহনীর ভাড়া করা একটি এ্যাপার্টমেন্টে থাকবেন বলে জানা গেছে। জর্জ ২০০৩ সালে বাংলাদেশ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের কোচ ছিলেন। এরপর তিনি স্থানীয় ক্লাব মুক্তিযোদ্ধার কোচ ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাকে ফেডারেশন কাপও জিতিয়েছিলেন।

৬৯ বছর বয়সী এই কোচকে আপাতত ছয় মাসের জন্য দায়িত্ব দিয়েছে আবাহনী। গত মৌসুমের শেষদিকে কোচিং কোর্সের কারণে দায়িত্ব ছেড়ে চলে যান কোটান। ম্যানেজার রূপু জানিয়েছেন, ‘তার সঙ্গে আমাদের চুক্তি ছয় মাসের। আশাকরি, ছয় মাসের মধ্যেই লীগ শেষ হয়ে যাবে। যদি তা না হয়, তাহলে তিনি চুক্তি নবায়ন করে থেকে যাবেন।’

কদিন আগে স্বাধীনতা কাপে আবাহনীর কোচ হন দ্রাগো মামিচ। তবে ক্রোয়েশিয়ার এই কোচ স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে দেশে যাওয়ার পর আর ফেরেননি। কোচ অমলেশ সেনের কোচিংয়ে স্বাধীনতা কাপে রানার্সআপ হয় আবাহনী।