১৮ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চলতি মৌসুমে প্রায় ৯শ’ মেট্রিক টন আম রফতানি

  • এ পর্যন্ত ১৩৪টি রফতানিকারক নিবন্ধিত হয়েছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ থেকে চলতি মৌসুমে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশে প্রায় ৯শ’ মেট্রিক টন আম রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার আমের প্রথম চালান ইউরোপে পাড়ি দিয়েছে। ন্যানো নামের একটি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান এ আম পাঠাচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইংয়ের পরিচালক সৌমেন সাহা বলেন, গত মৌসুমে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে ৭৮৭ মেট্রিক টন আম রফতানি হয়েছিল। এর মধ্যে ৫২০ মেট্রিক টন আম গিয়েছিল ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে। চলতি মৌসুমে ৮০০ থেকে ৯০০ মেট্রিক টন আম ইউরোপসহ বিদেশে রফতানি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আম রফতানি-সংক্রান্ত নীতিমালার আলোকে এ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়নের মাধ্যমে রফতানির এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা চলছে। আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশ থেকে আরও ব্যাপক পরিমাণে আম ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাবে। এ দেশ থেকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ল্যাংড়া, হিমসাগর, আম্রপালি ও ক্ষিরসাপাতি জাতের আম রফতানি হয়ে থাকে। কিছু কিছু ফজলি আমও বিদেশে যায়। বিদেশে আমাদের আমের কদর রয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশি ছাড়াও বিদেশিদের মাঝেও এ দেশের আমের চাহিদা রয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইংয়ের উপ-পরিচালক (রফতানি) আনোয়ার হোসেন খান বলেন, নীতিমালার আলোকে তৈরি এ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়ন করেই বিদেশে আম রফতানি করা হচ্ছে। দেশের নিবন্ধিত রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান কনট্রাক্ট ফার্মিংয়ের মাধ্যমে উৎপাদন করে আম ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিদেশে পাঠাচ্ছে।

রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঈশ্বরদী, নাটোর, সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের কৃষকরা রেজিস্ট্রেশন ফরমের মাধ্যমে চুক্তিবদ্ধ হয়ে এসব আম উৎপন্ন করেছেন। নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত আম উৎপাদনের সব ক্ষেত্রে জিএপি (গুড এগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিস) ও এমআরএল (ম্যাক্সিমাম রেজিডিউয়্যাল লেভেল) পরীক্ষা করাসহ নানা সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে।

জানা যায়, ১৩৪টি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান এ পর্যন্ত নিবন্ধিত হয়েছে। এর মধ্যে ন্যানো, মরিসনস এন্টারপ্রাইজ, ইসলাম এন্টারপ্রাইজসহ ৮-১০টি রফতানিকারক ইউরোপসহ বিদেশের বাজারে আম রফতানি করে থাকে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হর্টিকালচার উইংয়ের পরিচালক এস এম আবু জার বলেন, শিলাবৃষ্টির বিরূপ প্রভাবের পরেও চলতি মৌসুমে দেশে আমের উৎপাদন স্বাভাবিক রয়েছে। এ মৌসুমে দেশে গত বছরের মতোই প্রায় ২০ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপন্ন হবে।

হর্টিকালচার উইংয়ের উপ-পরিচালক এ কে এম মনিরুল আলম বলেন, চলতি মৌসুমে গত বছরের চেয়ে অতিরিক্ত প্রায় ১০০০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এবার দেশের ১ লাখ ৬৯ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। গত মৌসুম অর্থাৎ ২০১৫ সালে দেশের ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩১৭ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছিল। এতে আম উৎপন্ন হয়েছিল ১৯ লাখ ৬৯ হাজার ৭৪২ মেট্রিক টন।

তিনি আরও জানান, বালাই দমনের জন্য স্প্রে দেয়ার অন্তত ৪৫ দিন পর গাছ থেকে আম পাড়া হচ্ছে। সাধারণত কীটনাশক দেয়ার পর সরাসরি ২১ দিন এবং পরে আরও ১০ দিন রেজিডিউয়্যাল ইফেক্ট থাকে। সেখানে ৪৫ দিন পর সংগ্রহের কারণে এখন দেশে যেসব আম পাওয়া যাচ্ছে, তা অনেকটাই নিরাপদ। আমে ফরমালিন দেয়া হচ্ছে ঢালাওভাবে এ রকম ধারণা করা অনেক ক্ষেত্রেই উচিত নয়।

সিলগালা করা ছাড়া দেশের কোন আম ঢাকায় আসতে দেয়া হচ্ছে না। সিলগালা ও সনদপত্র ছাড়া কোন আম এলে তা গাবতলী থেকে নামিয়ে নেয়া হচ্ছে। তবে কাওরান বাজারসহ ঢাকার অন্যান্য স্থানে আমের নজরদারি কেমন হচ্ছে তা আমাদের জানা নেই। ঢাকার খামারবাড়িতে অনেক আমের এমআরএল পরীক্ষা করা হয়েছে। একবার এমআরএল পরীক্ষায় ২৯০০০ টাকা খরচ হয়ে থাকে।