১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আমদানিকারকদের কারসাজিতে ছোলার বাজার অস্থির

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ রোজাকে সামনে রেখে অস্থিরতায় চলছে ভোগ্যপণ্যের বাজার। বিশেষ করে ডালজাত পণ্যের বাজারে তাকালে কপালে উঠছে চোখ। চট্টগ্রামের বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে পর্যাপ্ত আমদানি থাকা সত্ত্বেও ছোলার বাজার চড়া। ঢাকায়ও ছোলার বাজার অস্থির। ইতোমধ্যে রাজধানীর বাজারগুলোতে ভাল ছোলার দাম ৯০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এ পণ্যের দাম কেন বাড়ছে- এমন প্রশ্নে ব্যবসায়ীরা আমদানিকারকদের কারসাজি বলে মন্তব্য করেন।

চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্যমতে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত গেল ৯ মাসে ছোলা আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার টন। বিপরীতে পুরো বছরের চাহিদা ছিল প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টন।

বাজার চিত্র অনুযায়ী, গত দেড়-দুই মাস ধরে কয়েক দফায় বেড়েছে রমজানের প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য ছোলার দাম। এক সপ্তাহ ধরে বাজারে মানভেদে প্রতিমণ অস্ট্রেলিয়ার ছোলা বিক্রি হচ্ছে ২৭৫০-৩৪০০ টাকা দামে। যা আগে বিক্রি হয়েছে মাত্র ২৪০০-২৫০০ টাকায়। দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দুই সপ্তাহ থেকে বাজারে আসছে মিয়ানমারের ছোলা। প্রথম দিকে এই ছোলা মণ প্রতি ২৮০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩০৫০ টাকায়। প্রতি কেজি অস্ট্রেলিয়ান ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৭৬-৭৭ টাকা। আর মিয়ানমারের ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকা দরে।

কনজুমার এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ চট্টগ্রাম বিভাগের সভাপতি এস এম নাজের হোসেন বলেন, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও রমজানের আগেই পণ্যের দাম বাড়ানো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও বেআইনী। শুধু মুনাফালোভী মনোভাবের কারণে রোজার সময় ভোক্তারা ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে বলে জানান তিনি। বলেন, এ বিষয়ে সরকারকে আগেভাগেই নজর দিতে হবে।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগীর আহমদ বলেন, গত কয়েক বছরের মধ্যে এবারই সর্বোচ্চ পণ্য আমদানি হয়েছে। তাই রমজানে বাজারে অতিরিক্ত দর বাড়ানোর সুযোগ নেই। কিন্তু এরপরও এক-দেড় মাস আগে থেকেই বাড়তি চাহিদার সুযোগ নিয়ে আমদানিকারকরা-ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়েছে।