১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তারেকের খালাসের বিরুদ্ধে দুদকের আপীলের শুনানি ২৫ মে

  • অর্থ পাচার মামলা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। বিচারের শেষ পর্যায়ে থাকা ওই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাকে নতুন করে জেরার আবেদন নাকচের পর মামলার কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে খালেদা জিয়া হাইকোর্টে দুটি আবেদন করলে ১৫ মে তা খারিজ হয়।

অন্যদিকে, অর্থ পাচার মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে দুদকের করা আপীল আবেদনের পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৫ মে দিন ধার্য করেছে হাইকোর্টের পৃথক একটি বেঞ্চ।

খালেদা জিয়ার আপীল ॥ বুধবার সুপ্রীমকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপীল আবেদন দুটি জমা দেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী। আগামী সপ্তাহে চেম্বার বিচারপতির আদালতে আবেদন দুটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন এই আইনজীবী।

এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য নিয়ে আপত্তি তুলে খালেদার আইনজীবীরা গত ১৭ এপ্রিল নতুন করে সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরার আবেদন করলে ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদার তা নাকচ করে দেন। ওই আদেশ বাতিল চেয়ে পরদিন হাইকোর্টে দুটি আবেদন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। সেই আবেদনের ওপর তিনদিন শুনানি শেষে ১৫ মে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ তা খারিজ করে দেন।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে আসা তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা অবৈধভাবে আত্মসাতের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় এই মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। খালেদা জিয়া ছাড়া অন্য চার আসামি হলেন- তার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএ-এর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

তারেক রহমানের মামলার পরবর্তী শুনানি ২৫ মে ॥ অর্থ পাচার মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে দুদকের করা আপীল আবেদনের পরবর্তী শুনানি ২৫ মে। ৩য় দিনের মতো শুনানি শেষে বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পরবর্তী শুনানির এই দিন ধার্য করেন।

শুনানিতে দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বলেন, আইন অনুযায়ী ভিসা কার্ড ব্যবহার করে তারেক রহমান মানি লন্ডারিং আইনে অপরাধ করেছেন। কারণ আইনে বলা আছে, অবৈধ পন্থায় পাচারকৃত অর্থের সঙ্গে যেকোন পর্যায়ে সংশ্লিষ্টতা থাকলে তা মানি লন্ডারিং অপরাধ ধরা হয়।

এই মামলায় তারেক রহমান পলাতক থাকায় তার পক্ষে কোন আইনজীবী নিয়োগ করার সুযোগ নেই। তবে মামলা দ-প্রাপ্ত অপর আসামি গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের পক্ষে ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম শুনানিতে অংশ নেন। আংশিক শুনানি শেষে আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৫ মে দিন ধার্য করে।

২০১৩ সালের ১৭ নবেম্বর তারেক রহমানকে বেকসুর খালাস দিয়ে তার বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে অর্থপাচার মামলায় ৭ বছরের কারাদ- দেয় ঢাকার তৃতীয় বিশেষজজ আদালত। রায়ে কারাদ-ের পাশাপাশি মামুনকে ৪০ কোটি টাকা জরিমানাও করা হয়। পাচার করা ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৬১৩ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দেন আদালত। এ রায়ের বিরুদ্ধে ওই বছরের ৫ ডিসেম্বর আপীল করে দুদক। ২০১৪ সালের ১৯ জানুয়ারি এ আপীল শুনানির জন্য গ্রহণ করে তারেক রহমানকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের আদেশ দেন হাইকোর্ট বেঞ্চ।

২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় এ মামলাটি করে দুদক। ২০১১ সালের ৮ আগস্ট এ মামলায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন আদালত। মামলায় অভিযোগ করা হয়, টঙ্গীতে প্রস্তাবিত ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুতকেন্দ্র স্থাপনের কাজ পাইয়ে দেয়ার জন্য নির্মাণ কন্সট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের মালিক খাদিজা ইসলামের কাছ থেকে গিয়াস উদ্দিন আল মামুন ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৮৪৩ টাকা নেন। সিঙ্গাপুরে এই টাকা লেনদেন হয়। এরপর মামুন ওই অর্থ সিঙ্গাপুরের ক্যাপিটাল স্ট্রিটের সিটি ব্যাংক এনএতে তার নামের ব্যাংক হিসাবে জমা করেন। এ টাকার মধ্যে তারেক রহমান তিন কোটি ৭৮ লাখ টাকা খরচ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।