১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নারীর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় সব বাধা ভাঙব ॥ প্রধানমন্ত্রী

  • গ্লোবাল উইমেন লিডারস ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন

বিডিনিউজ ॥ সমাজ ও রাষ্ট্রের সব পর্যায়ে নারী-পুরুষের সমতা আনতে সব বাধা দূর করার অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় গ্লোবাল উইমেন লিডারস ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অঙ্গীকার করেন।

ইউরোপ সফরে লন্ডন থেকে সোফিয়া গিয়ে বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট রোসেন প্লিভনিলিয়েভের সঙ্গে বৈঠকের পর ফোরামের অনুষ্ঠানে যান তিনি।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ তিনি উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘ সংস্থা ইউনিসেফের মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান।

তিনবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়নে তার নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে বলেন, নারী ও পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠায় যত প্রতিবন্ধকতা আছে, সব দূর করার অঙ্গীকার রয়েছে আমার।’

নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বাংলাদেশকে দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে বাংলাদেশই সম্ভবত একমাত্র দেশ যেখানে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা, সংসদ উপনেতা, বিরোধীদলীয় নেতা ও স্পীকার নারী।

দেশের বর্তমান সংসদে ৭০ নারী সদস্যের উপস্থিতির কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এ সংখ্যা মোট সংসদ সদস্যের ২০ শতাংশ।

২০২০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের সব পর্যায়ের কমিটিতে ৩০ শতাংশ নারী সদস্য থাকার বিষয়ে বাধ্যবাধকতা আরোপের বিষয়টি বৈশ্বিক এই সম্মেলনে তুলে ধরেন তিনি।

এছাড়া স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে নারী ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচন, তৃণমূলে ইউনিয়ন পরিষদে নারীদের জন্য এক তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের কথাও বলেন তিনি।

নারী শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় তার সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করা হয়েছে, প্রাথমিক থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত প্রায় এক কোটি ৭২ লাখ শিক্ষার্থী বিভিন্ন ধরনের বৃত্তি পাচ্ছে।

এছাড়া প্রাথমিক পর্যায়ে ৬০ শতাংশ নারী শিক্ষক এবং দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের জন্য বিনামূল্যে খাবার চালুও শিক্ষায় লৈঙ্গিক সমতা আনতে ভূমিকা রাখছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। মায়ের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির দিকে গুরুত্ব দেয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশজুড়ে হাসপাতালের পাশাপাশি সাড়ে ১৬ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া সন্তান প্রসব নিরাপদ এবং মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সেবায় মাতৃ স্বাস্থ্য ভাউচার স্কিম চালু করার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক খাতে নারীর ভূমিকা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান বিশ্বে তৈরি পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে, যেখানকার প্রায় ৪৫ লাখ শ্রমিকের ৮৫ শতাংশই নারী।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, কূটনীতি, জঙ্গী বিমান পরিচালনা ও শীর্ষ উদ্যোক্তাদের মধ্যেও রয়েছেন নারী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রা আয়েও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে তারা।

‘এভাবে বাংলাদেশে নারীরা সত্যিকার অর্থে বাধা ভাঙছে এবং জাতি গঠনে এখন সক্রিয় উন্নয়ন নিয়ামকে পরিণত হয়েছে।’

সরকারের এসব পদক্ষেপের স্বীকৃতি হিসেবে ইউনেস্কোর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে যে ‘শাস্তিবৃক্ষ’ পদক দেয়া হয়েছিল তা বিশ্বের নিপীড়িত নারীদের প্রতি উৎসর্গ করেন শেখ হাসিনা। অনেক অর্জন সত্ত্বেও এখনও নারীর প্রতি সহিংসতা, বাল্য বিয়ে এবং নারী ও মেয়ে শিশু পাচার প্রতিরোধে পুরোপুরি সাফল্য আসেনি বলে স্বীকার করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ ধরনের অপরাধের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ‘বিপুল’ পরিমাণ বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

নারী ও মেয়ে শিশুর জন্য নিরাপদ পরিবেশ, তাদের যথাযথ শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জন এবং সামাজিক পরিবর্তনের নিয়ামক হিসেবে গড়ে তুলতে ক্ষমতায়নের জন্য যেসব চ্যালেঞ্জ তা মোকাবেলায় একযোগে কাজ করার জন্য বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্বকে নারীর জন্য নিরাপদ করতে এবং সমতা প্রতিষ্ঠায় বিশ্বনেতাদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। ‘আমরা পারব’- নিজের এই সেøাগানে সবাইকে কণ্ঠ মেলানোর আহ্বান জানান তিনি।

বাসস জানায়, অনুষ্ঠানে বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট রোজেন প্লেভনেলিয়েভ, উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং শ্রম ও সামাজিক নীতিবিষয়ক মন্ত্রী ইভায়লো কালফিন, জ্বালানিমন্ত্রী তামেনুজকা পাতকোভা, আঞ্চলিক উন্নয়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী লিলিয়ানা পাভলোভা, বুলগেরিয়া জাতীয় পরিষদের চেয়ারম্যান তাসতাসকা তাচেভা এবং সিমেন্স বুলগেরিয়ার সিইও ও সে দেশের কাউন্সিল অব উইমেন ইন বিজনেসের চেয়ারপার্সন বুরিয়ানা ম্যানোলোভাও বক্তৃতা করেন।

বুলগেরিয়ায় উষ্ণ সংবর্ধনা ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার লন্ডন থেকে বুলগেরিয়ার রাজধানীতে পৌঁছলে তাঁকে উষ্ণ সংবর্ধনা দেয়া হয়। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে বেলা দেড়টায় (স্থানীয় সময়) সোফিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বুলগেরিয়ার সংস্কৃতি মন্ত্রী ভেজদি রাশিদভ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এবং সোফিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আল্লামা সিদ্দিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার এবং ফুলের তোড়া উপহার দেয়া হয়।

বিমানবন্দর থেকে আনুষ্ঠানিক মোটর শোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রীকে হোটেল ম্যারিনেলা সোফিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। পূর্ব ইউরোপের দেশটি সফরকালে শেখ হাসিনা এই হোটেলে অবস্থান করবেন।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের কোন রাষ্ট্র এবং সরকার প্রধানের এটাই প্রথম বুলগেরিয়া সফর। বুলগেরিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি প্রদানকারী চতুর্থ দেশ।

আগামীকাল ২০ মে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর উভয়ের উপস্থিতিতে ঢাকা ও সোফিয়ার মধ্যে কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে এবং তাঁরা যৌথ বিবৃতি প্রদান করবেন।

প্রধানমন্ত্রী গ্রান্ড হোটেল সোফিয়াতে ইউনেস্কোর মহাপরিচালক আইরিনা বোকোভা এবং সিমেন্স মনোলোভা ও বুলগেরিয়ান কাউন্সিল অব উইমেন ইন বিজনেসের চেয়ারপার্সন বরিয়ানা আয়োজিত এক নৈশ ভোজসভায় যোগ দেবেন।