১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বীমা কর্মকর্তা ৫০ লাখ টাকা নিয়ে লাপাত্তা

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাউফল, ১৯ মে ॥ বাউফলে মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স আঞ্চলিক কর্মকর্তা হেমায়েত উদ্দিন ওরফে হিমু সহস্রাধিক নারী-পুরুষের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছেন। জানা গেছে, ওই কর্মকর্তা ২০০৩ সালের মে মাসে কালাইয়া বন্দরের সবুজবাগ সড়কে তার নিজ বাসায় মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির বীমা কার্যক্রম শুরু করেন। ওই অফিসে শতাধিক কর্মী নিয়োগ দিয়ে অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মাসিক, বাৎসরিক, হজ বীমা, এককালীন সঞ্চয় আদায় শুরু করে। মাসিক ৫০ থেকে ১ হাজার টাকা হারে বিভিন্ন প্রকল্পের নামে অর্থ আদায় করে। এছাড়াও দ্বিগুণ মুনাফা লাভের লোভ দেখিয়ে এককালীন/বাৎসরিক অর্থ সংগ্রহ করে। এভাবে সহস্রাধিক মানুষের কাছ থেকে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে কয়েক দিন আগে হেমায়েত উদ্দিন ওরফে হিমু অফিসে তালা মেরে পালিয়ে যায়। কালাইয়া ইউনিয়নের শৌলা গ্রামের বেল্লাল নামের এক সদস্য বলেন, আমি ২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসে মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে একটি পলিসি করি। যাহার পলিসি নং সিএ ২৩৭৭৮-৩ এবং বাৎসরিক কিস্তি ১০ হাজার ৮৮ টাকা এবং বীমা অংক ১ লাখ টাকা। ১২ বছর মেয়াদী ৪ কিস্তি দেয়ার পর বোনাস ২৫ হাজার টাকা পাই। এরপর ২০১৩ সালের জুন মাসে ৩ কিস্তিতে ৩০ হাজার ২ শত ৬৪ টাকা জমা দেই। কিন্তু আমাকে রিসিভ দেয়া হয়নি। রিসিভ চাইলে দেই দিচ্ছি দেব বলে দিন পার করে। এরপর জানতে পারলাম ওই কর্মকর্তা অফিসে তালা মেরে লাপাত্তা হয়ে গেছেন। ফোন করলে রিসিভ করে না। দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সহায়ক মোঃ মানিক মৃধা নামের আরেক সদস্য বলেন, আমি ৩১/১২/২০০৯ বাউফল অঞ্চলে একটি একক বীমা করি। যাহার পলিসি নং সিএ ৫২১৪৪-৯ বাৎসরিক কিস্তি ১০ হাজার ১শ’ ৯০ টাকা ও বীমা অংক ১ লাখ। পলিসি শুরু করা থেকে নিয়মিত টাকা দিয়ে আসছি। যখন ৬ কিস্তি দিলাম তখন আমাকে বোনাস দেয়া হলো না। এরপর আমি টাকা দেয়া বন্ধ করে দিলাম; পরে পটুয়াখালী অফিসে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানলাম আমার মাত্র একটি কিস্তি জমা হয়েছে। এছাড়া কেশবপুর ইউনিয়নের মমিনপুর গ্রামের কালাম মোল্লা, আমীর হোসেন গাজী, কালাইয়ার ইউনিয়নের কোডপাড় এলাকার নাছিমা বেগম, চানবানু, মমতাজ বেগম, রাহিমা বেগম, রবি হাওলাদার, মাসুদ শরিফ টাকা জমা রাখেন। এখন সঞ্চয়ের অর্থ ফেরত না পেয়ে সাধারণ গ্রাহকরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। নাছিমা বেগম নামের এক সদস্য বলেন, কষ্টে উপার্জিত অর্থ তিলে তিলে সঞ্চয় করে টাকা জমা করেছি। অধিক মুনাফার আশায় সেই টাকা মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির আঞ্চলিক কর্মকর্তা হেমায়েত উদ্দিন ওরফে হিমু নিয়ে গেছেন। টাকা ফেরত না পেলে আমার স্বামী আমাকে তালাক দেয়ার হুমকি দিয়েছেন। সদস্যদের প্রতারণার বিষয়টি জানতে মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির আঞ্চলিক কর্মকর্তা হেমায়েত উদ্দিন ওরফে হিমুর মুঠোফোনে ০১৭১৭২৯৫৫৭৮ নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।