১৭ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বরিশালে অপ্রতিরোধ্য ছাত্রলীগ

  • থামানো যাচ্ছে না টেন্ডার সন্ত্রাস

খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল ॥ বরিশালে ছাত্রলীগের একের পর এক টেন্ডার সন্ত্রাসের কারণে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা। অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলা কতিপয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর কোন কিছুর বিনিময়েই টেন্ডার সন্ত্রাস থেকে পিছু ফেরানো যাচ্ছে না। সাধারণ ঠিকাদারদের মারধর করে শুধু টেন্ডার বাগিয়ে নেয়াই নয়; টেন্ডারের জন্য পত্রিকার বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণও করছেন ওই সব ছাত্রলীগ নেতাকর্মী। ফলে গুটিকয়েক নেতাকর্মীর কারণে পুরো সংগঠনকে এর দায়ভার নিতে হচ্ছে। ওই সব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে এখনই পদক্ষেপ নেয়া না হলে ভবিষ্যতে গৌরবোজ্জ্বল এ সংগঠনকে এর জন্য বড়ধরনের খেসারত দিতে হবে বলে আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র মতে, সর্বশেষ গত ১৬ মে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের পৌনে ১ কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে মহানগর ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। সাধারণ ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের পৌনে ১ কোটি টাকার কাজের মধ্যে ফার্নিচারের চারটি কাজের জন্য সম্প্রতি দরপত্র আহ্বান করা হয়। ১৬ মে ছিল দরপত্র জমাদানের শেষ দিন। ওই দিন সকাল থেকে বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিন পারভেজ, টেন্ডারবাজ ও নানা সন্ত্রাসী কর্মকা-ের অভিযোগে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতারকৃত নাহিদ সেরনিয়াবাতের পিএস ইমরানের নেতৃত্বে তাদের সহযোগীরা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরে অবস্থান নিয়ে সাধারণ ঠিকাদারদের দরপত্র জমা দানে বাঁধা সৃষ্টি করে তাড়িয়ে দেয়। এরপূর্বে গত ১২ মে বরিশাল র‌্যাব-৮ এর ডিজিটাল লিফটের ৭২ লাখ টাকার দরপত্র গুচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাগিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে মহানগর ছাত্রলীগ নেতা সেজান, সুমন ও প্রদীপের বিরুদ্ধে। সাধারণ ঠিকাদারদের অভিযোগ, বরিশাল গণপূর্ত নির্বাহী প্রকৌশলী অফিসের ঠিকাদার সমিতির সামনে অবস্থান নিয়ে কথিত ছাত্রলীগ কর্মীরা বিক্রি হওয়া ১৩টি দরপত্রের মধ্যে নয়টি গুচ্ছ করে। বাকি চারজন ঠিকাদারকে দরপত্র জমা দিতে বাধা দিয়ে সেজান ও তার সহযোগীরা মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। অপরদিকে গত ১১ মে নগরীর বান্দ রোডে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) প্রকৌশলী বিভাগের প্রায় অর্ধকোটি টাকার টেন্ডার জমাদানে বাধা দিয়েছে মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এমনকি বেশ কয়েকজন ঠিকাদারকে প্রকৌশলী কার্যালয়ের মধ্যে ঢুকতেও দেয়া হয়নি। বিআইডব্লিউটিএ’র প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিআইডব্লিউটিএ’র বাংলো, ভোলা লঞ্চঘাট টার্মিনাল ও প্রকৌশলী বিভাগের ফার্নিচার ক্রয়ের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। তিন গ্রুপের মোট ৪০ লাখ টাকার টেন্ডারের বিপরীতে সিডিউল বিক্রি হয়েছে ৬৬টি। গত ১১ মে ছিল সিডিউল জমাদানের শেষ দিন। ওই দিন তিন গ্রুপে ২৮টি সিডিউল জমা পড়েছে। সাধারণ ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন, মহানগর ছাত্রলীগ নেতা সাকিব আলম দোলন, কাজী মিলন, বিন পারভেজ, আনোয়ার, সোহাগ, কাননসহ ১৫-২০ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাদের সিডিউল জমাদানে বাধা প্রদান করে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছে।

এছাড়া গত ৯ মে বরিশালে স্কুল নির্মাণের অর্ধকোটি টাকার দরপত্র ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বাগিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। এ সময় একজন ঠিকাদারকেও মারধর করা হয়। সাধারণ ঠিকাদারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সিডিউল জমা দিতে দেয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ এ কাজ করে থাকতে পারেন। তবে দলের প্রকৃত কোন নেতা টেন্ডারবাজির সাথে জড়িত নেই। তারপরও অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে ছাত্রলীগের কোন নেতাকর্মী টেন্ডারবাজির সাথে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দলের সিনিয়র নেতাদের সাথে আলোচনা করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।