২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

২০২১ সালে কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য দাঁড়াবে ৪ বিলিয়ন ডলার

  • বিনিয়োগে আকৃষ্ট করার জন্য শীঘ্রই একটি সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ আগামী ২০২১ সালে বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৪-৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে বলে আশা করেছেন ব্যবসায়ী উদ্যোক্তারা। তারা বলছেন, শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত রাখায় গত দশকে কানাডার বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের রফতানি বেড়েছে। যার মধ্যে তৈরি পোশাক, চামড়া, প্লাস্টিক, পাটজাত দ্রব্য, সফটওয়্যার, ওষুধ, জাহাজশিল্পসহ অপ্রচলিত পণ্যের রফতানি বাড়ছে।

কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশীদের এ দেশে বেশি হারে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করার জন্য খুব শীঘ্রই একটি সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। বৃহস্পতিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) অডিটরিয়ামে ‘২০১৫ সালে বাংলাদেশ ও কানাডা’র মধ্যকার ২ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জন’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং কানাডা বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ক্যানচেম) বাংলাদেশ যৌথভাবে সভার আয়োজন করে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার বেনিয়েত পিয়েরে লারামি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন কানাডা বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ক্যানচেম) সভাপতি মাসুদ রহমান, ডিসিসিআই জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি হুমায়ুন রশিদ প্রমুখ।

ডিসিসিআই সভাপতি হোসেন খালেদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। কানাডার হাইকমিশনার বেনিয়েত পিয়েরে লারামি বলেন, প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের সঙ্গে কানাডার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম একটি মাইলফলক। ২০১৪ সালের তুলনায় ১৫ সালে বাণিজ্য বেড়েছে ২৮ শতাংশ। তিনি বলেন, ২০০০ সাল থেকে বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৭ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ২০১৫ সালে তা দাঁড়িয়েছে ২.৪ বিলিয়ন ডলার। দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধিতে তৈরি পোশাক শিল্পের অবদান অন্যতম। কানাডার পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা বড় একটি অংশ সংগ্রহ করে বাংলাদেশ থেকে। তিনি বলেন, কানাডা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের উত্তরোত্তর উন্নতি চায় এবং এ লক্ষ্যে কানাডার পক্ষ হতে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। কানাডার হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি অন্যান্য খাতে নিয়োজিত শ্রমিকদের কাজের পরিবেশের উন্নয়নের জন্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

ক্যানচেম সভাপতি মাসুদ রহমান বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে কানাডা এবং বাংলাদেশের মধ্যকার বাণিজ্য ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। তিনি এ লক্ষ্য অর্জনে কানাডায় রফতানিকৃত পণের বহুমুখীকরণ একান্ত আবশ্যক বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশীদের এ দেশে বেশি হারে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করার জন্য ক্যানচেম খুব শীঘ্রই একটি সম্মেলনের আয়োজন করবে।

ডিসিসিআই সভাপতি হোসেন খালেদ বলেন, শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত রাখায় গত দশকে কানাডার বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের রফতানি বেড়েছে। কানাডা থেকে শূন্য দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার পণ্য আমদানির বিপরীতে বাংলাদেশ ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন পণ্য রফতানি করে থাকে। যার মধ্যে তৈরি পোশাক, চামড়া, প্লাস্টিক, পাটজাত দ্রব্য, সফটওয়্যার, ওষুধ, জাহাজশিল্পসহ অপ্রচলিত পণ্যের রফতানি বাড়ছে। ফলে আগামী ২০২১ সালে দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দাঁড়াবে ৪ বিলিয়ন ডলারে। ডিসিসিআই সভাপতি জানান, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে কানাডায় রফতানির পরিমাণ ছিল ৪০৮ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে আমদানির পরিমাণ ছিল ১২৮ মিলিয়ন ডলার। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রফতানির পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ৪৭৯ দশমিক ৮২ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া আমদানির পরিমাণ ৯০০ দশমিক ১২ মিলিয়ন ডলার।

মুক্ত আলোচনায় ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ফিকি) সভাপতি রূপালী চৌধুরী, বাংলাদেশ নিযুক্ত ফিলিপিন্সের রাষ্ট্রদূত ভিনসেন্ট ভিভেনসিও টি. বেনডালিওয়, নরডিক চেম্বারের সহ-সভাপতি রজার হোভার্ড, ঢাকা চেম্বারের প্রাক্তন সভাপতি এম এইচ রহমান, নেসার মাকসুদ খান প্রমুখ। রূপালী চৌধুরী বলেন, সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের জন্য অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগ সংক্রান্ত নীতিমালার প্রয়োজন।

তিনি তৈরি পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য পণ্যের রফতানি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ডিসিসিআই উর্ধতন সহ-সভাপতি হুমায়ুন রশিদ বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে হলে ৩৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন করে শিল্প-কারখানায় সংযোগ প্রদান করতে হবে। তিনি বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে আরও বেশি হারে বিনিয়োগের জন্য কানাডার ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান।