২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঈশ্বরদীর লিচুর হাট জমে উঠেছে

  • বিক্রি হবে প্রায় সাড়ে ৩ শ’ কোটি টাকার লিচু

তৌহিদ আক্তার পান্না, ঈশ্বরদী ॥ লিচুর রাজধানী বলে খ্যাত ঈশ্বরদীতে উৎপাদিত লিচুর সারাদেশেই কদর ও সুনাম রয়েছে। বর্তমানে লিচু গাছের প্রতি ডালে থোকায় থোকায় লিচু পেকে টকটকে লালচে হলুদ রং ধারণ করতে শুরু করেছে। ঈশ্বরদীর জয়নগর লিচু হাটে ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত পাইকারি লিচু ক্রেতার পদভারে সরগরম হয়ে উঠেছে। চাষীদের আশানুরূপ ফলন না হলেও মোটামুটি ভাল ফলন হয়েছে। দেশীয় লিচু চাষীরা খরার কারণে কিছুটা বিপাকে পড়লেও বোম্বাই লিচু চাষীদের বড় কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা খরা পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়নি। চৈত্রের শুরুতে ও বৈশাখের শেষে প্রায়ই বৃষ্টি হওয়ায় লিচু গাছে তেমনভাবে পানিও দিতে হয়নি। গত মৌসুমের তুলনায় এবারে সম্প্রসারিত হয়ে ২৭ শ’ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশী, বোম্বাই, চায়না ৩, মোজাফফর জাতের লিচু বাজারে উঠতে শুরু করেছে। এই লিচু প্রতি হাজার ২ হাজার থেকে ২৫ শ’ টাকা পর্যন্ত দরে আবার কোন কোন সময় ৩ হাজার টাকাও কোয়ালিটি অনুযায়ী বিক্রি হচ্ছে। তবে অন্যন্যা জাতের লিচুর পরিমাণ কম। ঈশ্বরদীতে বোম্বাই লিচুই বেশি পরিমাণে উৎপাদিত হয়। সবকিছু মিলিয়ে চলতি মৌসুমে ঈশ্বরদীতে ৩ শ’ থেকে সাড়ে তিন শ’ কোটি টাকার লিচু বিক্রি হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট লিচু ব্যবসায়ী ও চাষীরা।

সরজমিনে লিচুর বিভিন্ন বাগানে গিয়ে জানা গেছে, লিচু বাঁধতে, বাছতে, ঝুড়ি করতে লিচু চাষীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। ছলিমপুর ইউনিয়নের মিরকামারী গ্রামের লিচু চাষী ও স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত আব্দুল জলিল কিতাব ম-ল লিচু কিতাব বলেন, প্রচ- খরার কারণে দেশীও লিচুর কিছুটা ক্ষতি হলেও এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূল থাকায় বোম্বাই লিচুর আশানুরূপ ফলন হবে ও বাজারমূল্যও ভাল হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

অন্যান্য লিচু চাষীরাও বলেন, লিচু চাষ লাভজনক হওয়ায় উপজেলার কৃষকরা অল্প জায়গায় বাগান করে সহজে স্বাবলম্বী হতে পারছেন। এছাড়া ঈশ্বরদীতে লিচু চাষের জন্য অনুকূল পরিবেশ থাকায় লিচু বাগানগগুলো থেকে তুলনামূলকভাবে ভাল ফলন হচ্ছে। ঈশ্বরদীতে সাধারণত তিন প্রজাতির লিচুর বেশি ফলন হয়ে থাকে। এগুলো হলো দেশী (আঁটি) লিচু, বোম্বাই লিচু ও চায়না-৩ লিচু। এছাড়াও বিভিন্ন বাগানে কদমী লিচু, কাঁঠালী লিচু, বেদানা লিচু ও চায়না ১, ২, ৩ জাতের লিচুরও চাষ হচ্ছে। তিন প্রজাতির লিচুর মধ্যে সবার আগে দেশী লিচু পেকে থাকে। তাই চাষী ও ব্যবসায়ীরা বাজারে সবার আগে দেশী লিচু নিয়ে আসেন। বোম্বাই ও চায়না-৩ লিচু বেশি দামে বিক্রি করেন।

কৃষি অফিস সূত্র জানায়, ঈশ্বরদীর ছলিমপুর, সাহাপুর, দাশুড়িয়া ও লক্ষ্মীকু-া ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি লিচুর আবাদ হয়ে থাকে। প্রতি বাড়িতেই রয়েছে লিচুর বাগান। উপজেলার ৭ ইউনিয়নের প্রতি গ্রামে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ব্যাপক হারে লিচুর চাষ হচ্ছে। আগে যেসব জমিতে সবজি, হলুদ, আম এবং কাঁঠাল হতো এখন সেখানে হয়েছে লিচু বাগান। লিচু চাষে লাভ বেশি হওয়ায় ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে চাষীরা লিচু চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন।

মঙ্গলবার সকালে সরজমিনে জয়নগর লিচু হাটে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি হাজার দেশী (আঁটি) লিচু বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত। বোম্বাই লিচু বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২৭ শ’ টাকা পর্যন্ত। স্থানীয় লিচু ব্যবসায়ী আবু তাহের ও ছানাউল প্রামাণিক জানান, ভাল জাতের বোম্বাই লিচু প্রতি হাজার ২৫ শ’-২৭ শ’ টাকা দরে বাগান ও লিচু হাট থেকে কিনতে হচ্ছে। ঢাকার পাইকারি ব্যবসায়ী রহমত, মসলেম ও মোজাম্মেল জানান, তারা প্রতিদিন ঈশ্বরদীর বিভিন্ন হাট ও লিচু বাগান থেকে লিচু কিনে ঢাকার বিভিন্ন পাইকারি আড়তে বিক্রি করছেন।

ঈশ্বরদী উপজেলার জয়নগর শিমুলতলা, আওতাপাড়া, বাঁশেরবাদা, সাহাপুর, দাশুড়িয়া প্রভৃতি স্থানে শুধু লিচু মৌসুমে জমে উঠেছে ছোট-বড় পাইকারি লিচুর হাট। প্রতিদিন সকালে বসছে লিচুর বিশাল হাট। এসব হাট থেকে প্রতিদিন গড়ে ১শ’ থেকে ১৫০ ট্রাক লিচু ঢাকা, বরিশাল, রাজশাহী, সিলেট, চিটাগাং, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যবসায়ীরা লিচু বিক্রি করছেন। ঈশ্বরদীর এই লিচু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মার্কেটে বেশ সুনাম ও চাহিদা রয়েছে।