২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

স্বপদে বহাল

স্বপদে বহাল
  • অভিযোগের সত্যতা পায়নি তদন্ত কমিটি ;###;স্কুল পরিচালনা কমিটি বাতিল ;###;সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনার দাবি ;###;কোন অবস্থাতেই ক্ষমা না চাওয়ার ঘোষণা সেলিম ওসমানের

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নারায়ণগঞ্জে লাঞ্ছিত প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে কথিত ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার’ অভিযোগের সত্যতা পায়নি সরকার গঠিত তদন্ত কমিটি। এ তথ্য জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সাময়িক বরখাস্ত প্রধান শিক্ষককে স্বপদে বহাল রেখে স্কুল পরিচালনা কমিটি বাতিল ঘোষণা করেছেন। এদিকে শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে মানববন্ধন থেকে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের বিরুদ্ধে সংসদে অভিশংসন প্রস্তাব আনার দাবি জানিয়েছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। একই সঙ্গে ওই ঘটনায় জড়িত সকল অপরাধীর গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেছেন তারা।

এদিকে শিক্ষক জীবন বাঁচানোর জন্য স্বেচ্ছায় কান ধরে উঠবস করেছেন বলে দাবি করেছেন সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। বলেছেন, আমি মরে গেলেও ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্ন উঠে না। তবে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত অভিযোগ করেছেন, ঘটনার দিন সেলিম ওসমান নিজ হাতে তাকে কয়েকটা থাপ্পর দিয়ে জনসম্মুখে ক্ষমা চেয়ে কান ধরে উঠবস করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর আগে বৃহস্পতিবার অব্যাহত প্রতিবাদের মধ্যে শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে সরকার। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ ঘোষণা দিয়ে বলেন, শিক্ষক শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার যে অভিযোগ আনা হয়েছিল তার কোন সত্যতা পায়নি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মাউশির প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষককে স্বপদে বহাল রেখে বেআইনী কার্যক্রমের জন্য পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করেছে। শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ অবৈধভাবে দেয়া হয়েছে। তাই ওই আদেশ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জে শিক্ষক অপমান করে চরম ধৃষ্টতা স্থাপন করা হয়েছে। মাউশির তদন্ত কমিটি সরেজমিনে দিন-রাত কাজ করে গতকাল (বুধবার) প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

রিপোর্টে সমস্যাগুলো তুলে আনা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, একই সঙ্গে সুপারিশও করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা রিপোর্ট পর্যালোচনা করে আপাতত যে সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছি, তদন্তের মাধ্যমে দেখতে পাচ্ছি কমিটির বিরুদ্ধে রিপোর্ট এসেছে। সেই কমিটির যে দায়িত্ব বা যোগ্যতা বা ভূমিকা থাকা উচিত কমিটি তার যোগ্য নয়। সে হিসেবে আমরা সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি, আমরা আইন অনুযায়ী পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের নিয়ে গঠিত পুরো কমিটি বাতিল ঘোষণা করছি। তার স্থলে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করে দিচ্ছি, আপাতত সেই কমিটি স্কুল পরিচালনা করবে। নিয়ম-নীতি অনুসারে যা করা প্রয়োজন তা করবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সেখানে প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, এটা কার্যকর হবে না। নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে হয়নি, যে সভায় তারা করেছেন তার কোন এজেন্ডা ছিল না, তাকে অন্যায়ভাবে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন। তারা তাকে সাময়িক বরখাস্তের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটাই বেআইনী। প্রধান শিক্ষক স্বপদে বহাল থাকবেন এবং দায়িত্ব পালন করে যাবেন। তাদেরকেই (কমিটি) বাতিল করলাম। অন্যায় সিদ্ধান্ত বাতিল করা হলো।

হাইকোর্টের নির্দেশের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আমাদের ওপর যা বর্তায় সেগুলো আমরা করব। আইন-শৃঙ্খলার বিষয় জড়িত আছে, সেগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন আইন-শৃঙ্খলার বিষয়ে যা যা করণীয় হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি উদ্যোগ নেবেন।

প্রধান শিক্ষককের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ পাওয়া গেছে কি না- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এই ধরনের কিছু আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি। অভিযোগটা অন্য একটু ইস্যু নিয়ে, ৮ তারিখের ঘটনা। প্রাথমিকভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

শিক্ষকরা মূল শক্তি জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নারায়ণগঞ্জে যেভাবে শিক্ষককে অপমান করা হয়েছে, লাঞ্ছিত করা হয়েছে, এই রকম নিদর্শন খুঁজে পাওয়া যাবে না। এজন্য আমরা খুবই ক্ষুব্ধ, আমরা নিন্দা ও ঘৃণা জানিয়েছি। এ ধরনের ঘটনা কোন সভ্য জগতে ঘটতে পারে না।

তিনি বলেন, বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে বলেছি, আমাদের নিয়মতান্ত্রিকভাবে এগোতে হয়েছে, নইলে আইনগতভাবে টিকিয়ে রাখতে পারব না। আমরা তদন্ত কমিটি করি এবং কমিটি রাত দিন খাটুনি করে প্রতিবেদন যথাসময়ে জমা দিয়েছে।

স্থানীয় সংসদের পক্ষে ব্যবসায়ীরা শোডাউন করেছেন এবং বলা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে, এ বিষয়ে আপনার অবস্থান কী- এমন প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, এটা এখনই বলার কিছু নেই, এখানে যে কেউ যে কিছু বলতে পারেন। আইন, নিয়ম-কানুন, হাইকোর্টের রায়- সব কিছু মিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমাদের ওপর কী বর্তায় তা পর্যালোচনা করে দেখব। হাইকোর্টের রায়ও দেখব।

তিনি আরও বলেন, ১৪ দলও বক্তব্য দিয়েছে, এখানে রাখ ঢাক করার বিষয় নেই। আইন-বিধি-বিধান অনুযায়ী পদক্ষেপ না নিলে, পরবর্তীকালে সিদ্ধান্তগুলো টিকিয়ে রাখতে হবে। আইনে প্রটেকশন দিতে না পারলে হাইকোর্টে টিকবে না। সে জন্য হিসেব করে এগোতে হবে।

শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় প্রতিবাদে ফেটে পড়া ক্ষোভে উত্তাল জনতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণের ন্যায়ের পথে থাকার সহমর্মিতা বিলুপ্ত হয়ে যায়নি। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, জনগণ, অভিভাবক নানা পন্থায় প্রতিবাদ করেছেন, এজন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমরা খুবই শক্তি অনুধাবন করছি এবং মনে করছি দেশবাসী অন্যায়ের বিপক্ষে আছি, ন্যায়ের পক্ষে আছি। শিক্ষকের মর্যাদার বিষয়ে সমাজের মৌলিক দিক এর মধ্যে দিয়ে ফুটে উঠেছে। এ ধরনের ঘটনায় নিন্দা ও ঘৃণা জানাচ্ছি, খুবই ঘৃণাজনক, এরূপ কখনও হতে পারে না।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা সচিব মোঃ সোহরাব হোসাইন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এবং ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়াম্যান অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

অপরাধীদের শাস্তির দাবিতে শিক্ষক আন্দোলন সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ॥ শিক্ষককে কান ধরে উঠবস করিয়ে সমালোচিত নারায়ণগঞ্জের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের বিরুদ্ধে জাতীয় সংসদে অভিশংসন প্রস্তাব আনার দাবি জানিয়েছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। একই সঙ্গে অন্যান্য সকল অপরাধীর কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন তারা। হতাশা প্রকাশ করে শিক্ষকরা বলেছেন, শ্যামল কান্তি ভক্তকে কানধরে উঠবস করানোর সময় উপস্থিত জনতা জয় বাংলা সেøাগান দিয়েছিল। জয় বাংলা সেøাগান দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। আর আজকে শিক্ষককে অপদস্থ করে জয় বাংলা সেøাগান দেয়া হচ্ছে। জয় বাংলা সেøাগান কি শিক্ষক অপমানের জন্য?

অপরাধীদের বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে মানববন্ধনে শিক্ষকরা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের ব্যানারে মানববন্ধনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষক অংশ নেন। একই দাবিতে দেশের ৩৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে সকাল ১১টা থেকে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেন শিক্ষকরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচীতে শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক এ এসএম মাকসুদ কামাল বলেন, কিছুদিন আগে আমরা দাঁড়িয়েছিলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রেজাউল করিম হত্যার প্রতিবাদে। শ্যামল কান্তিকে যে অপমান, অসম্মান করা হয়েছে, তার প্রতিবাদে ছাত্র-শিক্ষকরা জেগে উঠেছে। সাংসদ সেলিম ওসমানের সমালোচনা করেন তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির এমপি তিনি সেখানে যেয়ে শিক্ষককে কান ধরে উঠবস করান, আপনি প্রমাণ করেছেন আপনি অকর্মণ্য, প্রমাণ করছেন আপনি অসভ্য, বর্বর। সাংসদ হিসেবে থাকার অধিকার আপনার নেই। আপনি সরে দাঁড়ান। নইলে আমাদের শিক্ষকরা জানে আপনাকে কিভাবে সরাতে হবে। জাতীয় পার্টি থেকেও তাকে বহিষ্কারের দাবি জানান এ শিক্ষক নেতা।

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাকসুদ কামাল বলেন, আমরা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব করছি, শিক্ষককে অপমান করার জন্য সংসদ অধিবেশনে তার বিরুদ্ধে নিন্দা এবং অভিশংসনের প্রস্তাব আনা হোক। একই সঙ্গে সেলিম ওসমানসহ ঘটনায় জড়িতে গ্রেফতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক। তিনি বলেন, একটি চক্র দেশকে এবং শিক্ষা পরিবারকে অশান্তর চেষ্টা চালাচ্ছে। সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য ধর্মীয় অনুভূতির কথা বলে কারা এদেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তা লক্ষ্য রাখতে হবে। এ ঘটনা হচ্ছে একটা চক্রান্ত। লেবাস লাগানো হয়েছে ধর্মীয় অনুভূতির। এ ঘটনায় সেলিম ওসমানকে পদত্যাগের দাবি করেন তিনি।

অধ্যাপক ড. আ জ ম শফিউল আলম ভূইয়া বলেন, সেলিম ওসমান এই কর্মকা- করার মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি থেকে জনদস্যুতে পরিণত হয়েছেন। শিক্ষক পরের কথা, একজন সাধারণ মানুষকে এভাবে অপমান করার দায়ে অভিশংসন প্রস্তাব আনার জন্য স্পীকার এবং সংসদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। কর্মসূচীতে আরও উপস্থিত ছিলেন হাজী মুহাম্মদ মহসীন হলের প্রাধ্যক্ষ নিজামুল হক ভূইয়া, অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক মশিউর রহমান, সিনেট সদস্য অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী, অধ্যাপক ড. আব্দুল বাছির, অধ্যাপক ড. আজিজুর রহমান প্রমুখ।

আন্দোলন রাবিতে ॥ ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা। বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ভবনের সামনে শিক্ষক নির্যাতন ও লাঞ্ছনার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন থেকে এ দাবি উঠেছে। মানববন্ধনে সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মোঃ শহীদুল্লাহ মানববন্ধনে বলেন, যেভাবে একজন প্রবীণ শিক্ষকের মান-সম্মান ধূলিসাত করা হয়েছে তা আমাদের অত্যন্ত মর্মাহত করেছে।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহ আজম শান্তনু বলেন, ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে মারধর ও কান ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় জড়িতদের ‘হত্যাকা-ের অনুরূপ’ শাস্তি হওয়া উচিত। আমরা চাই এই ঘটনাকে কোনভাবেই যেন ধামাচাপা না দেয়া হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ওই নির্যাতিত শিক্ষকের বরখাস্ত অবৈধ ঘোষণা করে স্কুলের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করায় শিক্ষামন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এ শিক্ষক নেতা।

শাবিতেও বিচারের দাবি ॥ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেছেন, শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম একটা ভয়ঙ্কর ঘটনা। এ ঘটনার বিচার না হলে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হবে দুঃখজনক বাংলাদেশ। এ ঘটনায় আমি অত্যন্ত মর্মাহত। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন পালনকালে এ কথা বলেন তিনি। অধ্যাপক জাফর ইকবাল বলেন, এটা আমাদের ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কোন দিকে যাবে, তা নির্ধারণ করবে। সাধারণ মানুষ দূরে থাক, অপরাধীকেও আমরা অপমান করি না। বাংলাদেশে সবচেয়ে ঘৃণিত মানুষ অপরাধী হলো যুদ্ধাপরাধী। কিন্তু তাদেরও সম্মানের সঙ্গে বিচার সম্পন্ন করে শাস্তি দেয়া হয়েছে। অসম্মান করা হয়নি।

আন্দোলনে খুবির শিক্ষকরা ॥ শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছনাকারীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) শিক্ষক সমিতি। দুপুরে খুবি ক্যাম্পাসে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। খুলনা শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. সরদার সফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোঃ সারওয়ার জাহান, অধ্যাপক ড. আশীষ কুমার দাস প্রমূখ। তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। বলেন, শিক্ষককে কান ধরে উঠবস করানো অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। জাতি হিসেবে আমরা এ ঘটনায় লজ্জিত।

আইনী সহায়তা দেবে সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতি ॥ লাঞ্ছনার শিকার স্কুল শিক্ষক চাইলে তাঁকে সব ধরনের আইনী সহায়তা দেবে সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতি। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি এ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ূন বলেন, এটি নির্যাতনের মামলা হতে পারে, মানহানির মামলা হতে পারে, কি হবে তা সময়ের ব্যাপার।

এ ব্যাপারে আইনী সহায়তা দেবেন কি না- এমন প্রশ্নে জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী বলেন, অবশ্যই দেব। যদি শ্যামল কান্তি আইনী সহায়তা চান, তাহলে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আইনী সহায়তা দেব। তবে একটি কথা বলা দরকার, অপরাধী যারা হবেন তাদের দেব কিনা- এ বিষয়ে পরে চিন্তা করতে হবে। শিক্ষক লাঞ্ছনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন এই আইনজীবী নেতা।

হুমায়ূন বলেন, এই ঘৃণ্য অপরাধের সঙ্গে যে সকল ব্যক্তি সম্পৃক্ত, তাদের সকলকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে কোষাধ্যক্ষ রমজান আলী সিকদার, সাবেক সম্পাদক ড. মমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদীসহ সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আজ দেশব্যাপী মানববন্ধন বিক্ষোভ শিক্ষক কর্মচারী ফ্রন্টের ॥ শিক্ষক লাঞ্ছনাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে দেশব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচী দিয়েছে জাতীয় শিক্ষক কর্মচারী ফ্রন্ট। বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন থেকে আজ বেলা এগারোটায় সারা দেশে একযোগে শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচীর ঘোষণা দেয়া হয়। সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ জানান, শ্যামল কান্তি ভক্তসহ দেশব্যাপী শিক্ষক নির্যাতনের প্রতিবাদে এ কর্মসূচী। সরকার শিক্ষকদের সম্মানের বিষয়টি বিবেচনা করে শিক্ষক লাঞ্ছনাকারীদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

দোষ প্রমাণিত হলে ফাঁসির শাস্তি মেনে নেবÑ সংবাদ সম্মেলনে সেলিম ওসমান ॥ বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ ক্লাব কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান বলেছেন, শিক্ষককে লাঞ্ছিতের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারে সারাদেশে যে প্রতিক্রিয়া হচ্ছে-এজন্য আমি দুঃখিত ও লজ্জিত। তদন্তে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ফাঁসির শাস্তি হলেও তা মেনে নেব। শিক্ষক ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করেছেন। জীবন বাঁচানোর জন্য তিনি স্বেচ্ছায় কান ধরে উঠবস করেছেন। এই ঘটনায় সারা দেশের লোক ‘সরি স্যার’ বলছে, সাধারণ জনগণ ও রাজনৈতিক মহল থেকে সংসদ সদস্যের ক্ষমা চাওয়ার দাবি উঠেছে। আপনি ক্ষমা চাইবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের পাল্টা প্রশ্ন করে সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমি কার কাছে ক্ষমা চাইব? আল্লাহর কটাক্ষকারীর সাজা হয়েছে। আমি যদি মরেও যাই তাও ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’ আমার কাছে যথেষ্ট ডকুমেন্ট রয়েছে।

তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির আমার সঙ্গে কোন যোগাযোগ করেনি বা কোন কথা বলেনি। প্রধান শিক্ষককে শ্যামল কান্তি ভক্তকে স্ব পদে পুনর্বহালের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষককে বরখাস্ত করার এখতিয়ার এমপির নয়, এটা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিষয়। এতে আমার বলার কিছু নেই। তিনি বলেন, আমি বিকেএমইএ ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির সভাপতি এবং এফবিসিসিআই পরিচালক, নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনের সংসদ সদস্য। যেহেতু আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তদন্ত হচ্ছে এবং উচ্চ আদালতের রুল হয়েছে, তাই আমি এখন থেকে বিকেএমইএ, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার ও এফবিসিসিআইর কোন সভায় যাব না, ওই চেয়ারে বসব না। এমনকি জাতীয় সংসদ অধিবেশনেও যাব না। তদন্তে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আমি ওই পদগুলো থেকে পদত্যাগ করব।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ ক্লাব কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নারায়ণগঞ্জ-৫(শহর-বন্দর) আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ-৩ ( সোনারগাঁও) আসনের জাতীয় পার্টি দলীয় এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস এ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির সিনিয়র সহসভাপতি মঞ্জুরুল হক, বিকেএমইএ পরিচালক আবু আহম্মেদ সিদ্দিক, বিকেএমইএ সাবেক সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ ইয়ার্ন মার্চেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লিটন সাহা, বাংলাদেশ নিটিং ওনার্স এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবু তাহের শামীম, বাংলাদেশ হোসিয়ারি এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল আলম সজল, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনিসুর রহমান দিপু, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট খোকন সাহা ও বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রশিদ।

গত শুক্রবার প্রধান শিক্ষককে কান ধরার বিষয় অপরাধ ও এতে আইন ভঙ্গ হয়েছে এ কথা স্বীকার করে সেলিম ওসমান বলেন, শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে বাঁচানোর জন্য তিনি সেটি করেছেন। ইমানদার মুসলমানরা শিক্ষকের শাস্তি চেয়েছিলেন দাবি করে তিনি সাংবাদিকদের কাছে জানতে চান, ‘আমরা কি ইবলিসের রাজত্বে বাস করছি? আপনারা জবাব দেন।’ তিনি অভিযোগ করেন, এলাকার লোকজন সাংবাদিকদের কাছে এক রকম বক্তব্য রাখেন আর গণমাধ্যমে আসে আরেক রকম।

সংবাদ সম্মেলনে সেলিম ওসমান সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, সেদিন ঘটনা শুরু হয়েছিল সকাল দশটার দিকে। এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে আমি সেখানে গিয়েছি বিকেল চারটায়। গিয়ে দেখি চার থেকে পাঁচ হাজার নারী-পুরুষ সেখানে জড়ো হয়েছেন। তারা জুমার নামাজ পড়েননি। গিয়ে শুনেছি, ওই শিক্ষক একজন ছাত্রকে মেরেছিল। ছাত্র পরে অসুস্থ হয়ে যায়। শিক্ষক বাজার থেকে ওষুধ এনে ছাত্রকে খাওয়ান। ওই ছাত্র আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে। এই ঘটনায় ওই দিন বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির মিটিং ছিল। সেখানে কিন্তু ইউএনও, স্থানীয় চেয়ারম্যান, পুলিশ কেউ ছিল না। এর মধ্যেই ওই শিক্ষক ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করেছে বলে এলাকার লোকজন তাকে গণপিটুনি দিয়েছিল। পুলিশ শিক্ষককে একটি ঘরে নিরাপত্তা দিয়ে রাখে। আমি সেখানে যাওয়ামাত্র এলাকার লোক আমাকে বলেছে, ‘ওই শিক্ষককে আমাদের হাতে ছেড়ে দেন।’ আমরা তাকে কুচি কুচি করে কেটে কাক দিয়ে খাইয়ে দেব। তবুও শিক্ষককে যেতে দেব না। আমি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা চিন্তা করে মুখ বুঝে রেখেছিলাম। আমি রামুর কথা চিন্তা করেছি, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কথা চিন্তা করেছি। আমার নারায়ণগঞ্জ হিন্দু এলাকা আমার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি হোক আমি চাইনি। আমার বিরুদ্ধে এত লেখার পরও আমি তা চাইনি।

সেলিম ওসমান কান ধরে উঠবস করার নির্দেশ দিয়েছিলেনÑ শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত ॥ সংবাদ সম্মেলনের পর সেলিম ওসমানের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে লাঞ্ছিত শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত বলেন, তিনি ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে সেলিম ওসমানের কাছে লিখিতভাবে কোন চিঠি পাঠানো হয়নি। সেলিম ওসমানের ব্যক্তিগত সহকারী বিশ্বজিতের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে তার কাছে কম্পিউটারে কম্পোজ করা একটি কাগজ এনে তার স্বাক্ষর নিতে চেয়েছিল। তিনি সেখানে কোন স্বাক্ষর করেননি।

ঘটনার দিন হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর সাংসদ সেলিম ওসমান বেশ কয়েকবার তার মোবাইলে ফোন করে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার প্রলোভন দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। ঘটনার দিন সেলিম ওসমান নিজ হাতে তাকে কয়েকটা থাপ্পড় দিয়ে জনসম্মুখে ক্ষমা চেয়ে কান ধরে উঠবস করার জন্য নির্দেশ দেন বলেও তিনি জানান।

হাসপাতালে নিরাপত্তা নিয়েও শংকিত বলে অভিযোগ করেন। তিনি সেলিম ওসমানের সংসদ সদস্যের পদ থেকে অপসারণের দাবি জানিয়ে সরকারের কাছে নিজের নিরাপত্তা চেয়েছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত সেলিম ওসমান সংসদ সদস্য পদে বহাল থাকবেন ততক্ষণ পর্যন্ত তার যে কোন ধরনের ক্ষতি করা হতে পারে বলে এমন আশঙ্কার কথাও সাংবাদিকদের জানান তিনি।

ধর্মের বিরুদ্ধে তিনি কখনও কোন ধরনের কটূক্তি করেননি বলে আবারও দাবি করেন তিনি। বিদ্যালয়ে তাকে পুনর্বহালের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীসহ দেশবাসীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পুনর্বহালের ব্যাপারে এখনও কোন চিঠি তার কাছে আসেনি। চিঠি এলে তিনি পুনরায় বিদ্যালয়ে তার দায়িত্ব বুঝে নেবেন।

এর আগে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে শ্যামল কান্তি ভক্তকে দেখতে যান। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মোঃ মহসীন রেজা জানান, একজন শিক্ষককে কান ধরে উঠবস করানোর মতো অপমান কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তারা সরকারের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

সংসদ সদস্যপদ খারিজ এবং সেলিম ওসমানকে গ্রেফতার দাবি ॥ সেলিম ওসমানের সংবাদ সম্মেলন শেষে উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে। সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংসদ সেলিম ওসমান তার সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়েছেন। তার এই উস্কানিমূলক বক্তব্যের কারণে নারায়ণগঞ্জে যে কোন সময় বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সৃষ্টি হতে পারে। এ জন্য সরকারকে কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল, জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, বাসদের জেলা সমন্বয়ক নিখিল দাস।

সংবাদ সম্মেলনে রফিউর রাব্বি বলেন, ওসমান পরিবার ইলেকশনসহ যে কোন সময় যে কোন ইস্যুতে নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য কখনও ধর্মকে ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেন, উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ সেলিম ওসমান যে অপরাধ করেছে তার জন্য তার সংসদ সদস্যপদ খারিজ এবং সেলিম ওসমানকে গ্রেফতার দাবি করেন।