১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এবার ধামরাইয়ে প্রধান শিক্ষিকা লাঞ্ছিত

এবার ধামরাইয়ে প্রধান শিক্ষিকা লাঞ্ছিত

নিজস্ব সংবাদদাতা, সাভার, ১৯ মে ॥ নারায়ণগঞ্জের একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে অপপ্রচার চালিয়ে কান ধরে উঠবসের ঘটনায় যখন সারা দেশে তোলপাড়, ঠিক সেই মুহূর্তে ধামরাইয়ে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাকে টয়লেট থেকে বের করে মারধর ও লাঞ্ছিতের অভিযোগ পাওয়া গেছে ওই বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন ওই প্রধান শিক্ষিকা। বুধবার উপজেলার ১১নং পশ্চিম সূত্রাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ সহ-সভাপতি আব্দুল মালেককে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে।

ওই বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরা জানান, প্রধান শিক্ষিকা মোছাঃ ফৌজিয়া ইয়াসমিন শনিবার অফিস কক্ষ পরিবর্তন করে অন্য একটি কক্ষ অফিস হিসেবে ব্যবহার করেন। এ নিয়ে সহকারী শিক্ষিকা কানিজ নাসিমা ও সহকারী শিক্ষক আক্তার হোসেনের সঙ্গে তার কয়েকদিন ধরে কথা কাটাকাটি চলতে থাকে। এক পর্যায়ে বুধবার সহকারী শিক্ষকদ্বয় ডেকে নিয়ে আসেন বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি কাজী মোহাম্মদ ফজলুল হক ও সহ-সভাপতি আব্দুল মালেককে। এ সময় আব্দুল মালেক প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তিনি অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন প্রধান শিক্ষিকাকে। এর প্রতিবাদ করলে উত্তেজিত হয়ে প্রধান শিক্ষিকাকে মারতে যান আব্দুল মালেক। এ সময় ভয়ে আত্মরক্ষার্থে ফৌজিয়া ইয়াসমীন দৌড়ে বিদ্যালয়ের টয়লেটের ভিতরে যান। সেখান থেকে তাকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে মারধর করতে থাকেন আব্দুল মালেক। এতে সহযোগিতা করেন ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আক্তার হোসেন ও কানিজ নাসিমা। মারধরের এক পর্যায়ে ওই শিক্ষিকা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। এ ঘটনায় ফৌজিয়া ইয়াসমীন জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

এ ব্যাপারে ফৌজিয়া ইয়াসমীন বলেন, অফিস কক্ষ পরিবর্তন করায় তাকে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করার এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে তাকে মারতে আসেন। তিনি তখন ভয়ে টয়লেটে গিয়ে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে সহকারী শিক্ষিকা কানিস নাসিমা ও সহকারী শিক্ষক আক্তার হোসেনের সহযোগিতায় টেনেহিঁচড়ে বের করে তাকে শারীরিক নির্যাতন করেন আব্দুল মালেক।

এদিকে শারীরিক নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে সহকারী শিক্ষকদ্বয় জানান, প্রধান শিক্ষিকা কারও সঙ্গে পরামর্শ না করে নিজের একক সিদ্ধান্তে বিদ্যালয়ের কাজকর্ম করে থাকেন। এ নিয়ে তার সাথে তর্ক হয়েছে, তাকে মারধর করা হয়নি।

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি আব্দুল মালেক জানান, প্রধান শিক্ষিকা কারও সঙ্গে পরামর্শ না করে তার একক সিদ্ধান্তে বিদ্যালয়ের সকল কাজ করে থাকেন। তিনি ঠিক সময়ে বিদ্যালয়ে আসেন না। প্রতিদিন ঢাকা থেকে যাতায়াত করে থাকেন। তবে শিক্ষিকাকে মারপিটের কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, তিনিই আমাকে জুতা নিয়ে মারতে এসেছেন। তিনি আরও বলেন, টয়লেটের ভিতর থেকে বের করে আনার সময় হয়ত প্রধান শিক্ষিকা হাতে ব্যথা পেয়েছেন।

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি কাজী ফজলুল হক জানান, শিক্ষিকাকে মারধর করা হয়নি। তবে, টানাহেঁচড়া করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষিকা সকলের সঙ্গেই অস্বাভাবিক আচরণ করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দৌলতর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষিকাকে মারধর ও লাঞ্ছিতের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ধামরাই থানার সেকেন্ড অফিসার এস.আই. আলমগীর হোসেন জানান, প্রধান শিক্ষিকা লাঞ্ছিতের ঘটনায় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি আব্দুল মালেককে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

বগুড়ায় প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের কান ধরানোর অভিযোগ ॥ স্টাফ রিপোর্টার বগুড়া অফিস থেকে জানান, বগুড়ায় মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমে কর্মরত শিক্ষকদের কান ধরানোর অভিযোগ উঠেছে এক প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ বেশ কয়েক শিক্ষক বৃহস্পতিবার একটি প্রশিক্ষণ অধিবেশন বর্জন করে প্রতিবাদ জানান।

সূত্র জানায়, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে মন্দিরভিত্তিক ও শিশু গণশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর আওতায় মন্দির ভিত্তিক নির্দিষ্ট কেন্দ্রে প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চলে। শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটে ২১ এপ্রিল এই শিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষকদের মাসিক সমন্বয় সভায়। সেখানে মন্দিরভিত্তিক শিক্ষাকার্যক্রমের ৩০/৪০ জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ পাওয়া গেছে, সমন্বয় সভায় আলোচনার এক পর্যায়ে প্রধান প্রশিক্ষক কানু বাসফোঁড় সেখানে অংশ নেয়া শিক্ষকদের কিছু প্রশ্ন করেন, কিন্তু সঠিক উত্তর না পেয়ে তিনি রাগান্বিত হন এবং উত্তর দিতে না পারায় শিক্ষকদের কান ধরার নির্দেশ দেন। এ সময় সেখানে মন্দিরভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম বগুড়ার উপ-পরিচালক মিলন দাস উপস্থিত ছিলেন। তার সামনেই প্রশিক্ষক শিক্ষকদের কান ধরান। পরবর্তীতে এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ বেবি রানী মোহন্ত, নিপা রানী দাস, স্বপ্না রানী ও নূপুর রানী দাস নামে ৪ শিক্ষক বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বরাবর অভিযোগ দেন। আর বিষয়টি প্রকাশ্যে বেরিয়ে আসে বৃহস্পতিবার বগুড়া শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত মন্দিরভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমের প্রশিক্ষণ অধিবেশনে। দুপুরে প্রশিক্ষক কানু বাসফোঁড় সেখানে এলে ক্ষুব্ধ কয়েক শিক্ষক তার অধিবেশন বর্জন করে শিক্ষক লাঞ্ছনার বিচার দাবি করেন। ক্ষুব্ধ কয়েক শিক্ষক ৩ দিনব্যাপী ওই প্রশিক্ষণ অধিবেশন হলের বাইরে বেরিয়ে এসে প্রশিক্ষকের বিচারের দাবি জানান। এতে প্রথমে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও পরে কয়েক জন শিক্ষক আবার অধিবেশনে যোগ দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ ব্যাপারে মন্দিরভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম বগুড়ার সহকারী পরিচালক মিলন দাস শিক্ষকদের মাসিক সমন্বয় সভায় কান ধরানোর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি জানান, ঘটনার পর পরই অভিযুক্ত প্রশিক্ষক ক্ষমা চাওয়ায় বেশির ভাগ শিক্ষক সেটি মেনে নিয়েছেন। তবে সহকারী পরিচালক হিসেবে তিনি বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধান কার্যালয়ে ইতোমধ্যে একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। তিনি জানান, বগুড়ায় এই শিক্ষা কার্যক্রমের ৯৬টি কেন্দ্র রয়েছে। অপর দিকে বগুড়ার অতিরিক্তি জেলা প্রশাসকম (শিক্ষা ও আইসিটি) জানিয়েছেন, ৪ শিক্ষক স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ জমা দেয়া হলেও পরে ২ জন শিক্ষক তাদের অভিযোগ প্রত্যাহার করেন।