২১ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গভীর নিম্নচাপ রূপ নিয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’তে

গভীর নিম্নচাপ রূপ নিয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’তে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে সাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি বর্তমানে ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়ে তা উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে একই স্থানে অবস্থান করছে। পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন দক্ষিণ পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকা থেকে গভীর নিম্নচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে। এদিকে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সঙ্কেত দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থাকতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে গভীর সাগরে কোন নৌযানকে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টি, অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বইতে পারে। নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে ভারি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রে বাতাসের বর্তমান গতি বজায় থাকলে আগামীকাল শনিবার দুপুর নাগাদ এটি দেশের উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের বাতাসের গতি দুর্বল হয়ে পড়লে এটি উপকূল পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা নেই।

আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান জনকণ্ঠকে বলেন, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগের যে তীব্রতা রয়েছে সেই গতি বজায় থাকলে আগামীকাল দুপুর নাগাদ এটি দেশের উপকূল বরাবর আঘাত হানতে পারে। একই গতিবেগ নিয়ে উপকূলে আসলে বড় ধরনের সাইক্লোন আঘাত করবে। আর এটি দুর্বল হয়ে পড়লে দেশের উপকূলে আসার আশঙ্কা নেই। আবহাওয়া অধিদফতর ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণে রেখেছে। বর্তমানে সমুদ্র বন্দরগুলোকে চার নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সঙ্কেত দেয়া হলেও ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ অনুযায়ী সতর্ক সঙ্কেত বাড়ানো বা কমানো হতে পারে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, চার নম্বর সঙ্কেত মূলত একটি হুঁশিয়ারি সঙ্কেত। তার মানে হচ্ছে দেশের সমুদ্রবন্দর কবলিত। বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫১ থেকে ৬১ কিমি। তবে ঘূর্ণিঝড়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়ার মতো তেমন বিপজ্জক সময় এখনও আসেনি।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু দেশের চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৩৬৫ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৩৩৫ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ১৮৫ কিমি এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২১৫ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে অগ্রসর হচ্ছিল। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রে ৫৪ কিমির মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ রয়েছে ঘণ্টায় ৬২ কিমি। যা দমকা ও ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিমি পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাগর উত্তাল রয়েছে। আবহাওয়া অফিস থেকে মাছ ধরার সব নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থাকতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদফতরের সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ী দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। এদিকে নিম্নচাপের প্রভাবে গত দু’দিন ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া গেছে। আবহাওয়া অফিসের রেকর্ড অনুযায়ী সিলেটে দেশের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সিলেটে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১১৯ মিলিমিটার। এছাড়া ঢাকায় ২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ময়মনসিংহে ২১ মিলিমিটার, ফরিদপুরে ৮ মিলিমিটার, সন্দ্বীপে ৮৫ মিলিমিটার, সীতাকু-ে ৬৬ মিলিমিটার, রাঙ্গামাটিতে ১৮ মিলিমিটার, চাঁদপুরে ৩০, মাইজদীকোর্টে ৫৪, ফেনীতে ৬৩, হাতিয়ায় ২৫, শ্রীমঙ্গলে ২১, রংপুরে ৫৫, দিনাজপুরে ৬৬, সৈয়দপুরে ৪৩, রাজারহাটে ৩৯, মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত। এছাড় এদিনে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে সাতক্ষীরায় ৩৬.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন রংপুরে ১৯.৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এদিন ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৩২.৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস।