১৮ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় ফের মমতার তৃণমূল

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় ফের মমতার তৃণমূল
  • ২৯৪ বিধানসভা আসনের মধ্যে ২১১টিতে জয়ী

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠন করছে মমতা ব্যানার্জীর তৃণমূল কংগ্রেস। বুথফেরত জরিপ থেকেই এ বিষয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল এবারও তৃণমূলই ক্ষমতায় থাকছে। ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী রাজ্যের মোট ২৯৪ বিধানসভা আসনের মধ্যে ২১১ আসন পেয়ে মমতার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার গঠন করতে চলেছে। এ রাজ্যে বাম-কংগ্রেস জোট পেয়েছে ৭৬, বিজেপি ৩ ও অন্যরা পেয়েছে ৪ আসন। খবর বিবিসি, এনডিটিভি, আনন্দবাজার, দ্য হিন্দু, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও ডিএনএ অনলাইনের।

বিপুল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হওয়ার পর কলকাতায় নিজের বাসভবনে বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে মমতা বলেন, গত দু’বছর ধরে তার সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার ষড়যন্ত্র হয়েছে। ভোটের আগে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুর্নীতির ইস্যু তোলা হয়েছিল, কিন্তু মানুষ দুর্নীতির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে।

যারা দুর্নীতির ইস্যু তুলে তার সরকারকে ঘায়েল করার চেষ্টা করেছিল তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন মমতা। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তৃণমূল নেত্রী সন্ত্রাসের আবহ তৈরি করার জন্য কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে দায়ী করেন। তিনি আরও বলেন, ভোটের আগে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে মমতা এটাও বলেছেন, ভুল থেকে তারা শিক্ষা নেবেন। তিনি বলেন, সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে কোন কোন ক্ষেত্রে ভুল হয়ে থাকতে পারে। বামপন্থীদের সঙ্গে জোট কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভুল ছিল বলেও মন্তব্য করেন মমতা। ২৭ মে শপথ নেবে নতুন মন্ত্রিসভা, ওই দিনই দ্বিতীয় দফায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন মমতা। মমতা এদিন আরও বলেন, বিজেপির সঙ্গে তাদের মতাদর্শগত ব্যবধান রয়েছে। তবে কেন্দ্রে বিজেপিকে ইস্যুভিত্তিক সমর্থনে তৃণমূলের আপত্তি নেই।

প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদি টেলিফোন করে মমতাকে নির্বাচনে জয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। বিপুল এই জয়ের পর রাজ্যজুড়ে বিজয় উৎসব করা হবে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে মমতা বলেন, বিজয় উৎসব নয়, আগামী ১০ দিন ধরে নানা ধরনের ‘সাংস্কৃতিক কর্মসূচী’ পালন হবে।

সরকারে ফিরে আসার তৃণমূলের এমন সাফল্য পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন কোন ঘটনা নয়। এর আগে বামফ্রন্ট সরকার ১৯৭৭ সালে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পরে ১৯৮২ ও ১৯৮৭ সালে পরবর্তী দুটি নির্বাচনে তারা আসন আরও বাড়িয়ে নিয়ে ক্ষমতায় ফিরেছিল। কিন্তু তৃণমূলের জমানার পাঁচ বছরে সারদাকা- বা ভোটের মুখে নারদ পর্ব, উড়ালপুল বিপর্যয়ের মতো ঘটনা বিবেচনায় নিলে নতুন কোন সরকারকে এত বিপর্যয় মোকাবেলা করতে হয়নি। সামলাতে হয়নি দুর্নীতির এত অভিযোগ। তারপরও মমতার এমন বিপুল সাফল্য উল্লেখযোগ্য অবশ্যই। এর পাশাপাশিই তৃণমূল নেতারা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, জ্যোতি বসুরা লড়তেন বামফ্রন্ট হিসেবে। একসঙ্গে কিছু বাম দলকে নিয়ে। তৃণমূল এ বার লড়েছে একাই। একক ক্ষমতায় তাই এমন সাফল্য বাড়তি স্বস্তির কারণ।

বৃহস্পতিবার পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়। এতে সবচেয়ে ভরাডুবি হয়েছে কংগ্রেসের। একমাত্র পুদুচেরি ছাড়া সব রাজ্যেই তারা হেরেছে। প্রত্যাশা মতো অসমে ক্ষমতায় আসছে বিজেপি। তামিলনাড়ুতে দ্বিতীয়বারের জন্য সরকার গঠন করছে জয়ললিতার নেতৃত্বাধীন এআইডিএমকে। উল্লেখ্য, জয়ললিতা নিজ অঙ্গরাজ্যে ‘আম্মা’ নামে পরিচিত। কেরলে এগিয়ে সিপিএমের নেতৃত্বাধীন এলডিএফ। এই নির্বাচনে উল্লেযোগ্য সাফল্য পেয়েছে বিজেপি। অসম ছাড়া কেরলেও দলটি বামদের সঙ্গে জোট করে এগিয়ে রয়েছে।

পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফল বুঝিয়ে দিল, কংগ্রেসের অবস্থা আরও শোচনীয় হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে সিপিএমের সঙ্গে জোট বেঁধে ভরাডুবি ছাড়াও কেরলে ক্ষমতাচ্যুত হতে চলেছে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ। তামিলনাড়ুতে জোটসঙ্গী ডিএমকের সঙ্গেই ভরাডুবি হয়েছে কংগ্রেসের। তবে পুদুচেরিতে ভাল অবস্থানে রয়েছে কংগ্রেস।

রাত ১২টায় প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, তামিলনাড়ুর মোট ২২৪ আসনের মধ্যে জয়ললিতার দল এআইডিএমকে পেয়েছে ১৩৪ আসন। অপরদিকে ডিএমকে পেয়েছে ৯৮ আসন।

কেরলে এলডিএফ পেয়েছে ৮৫ আর ইউডিএফ পেয়েছে ৪৭ আসন। অসমে মোট ১২৬ আসনের মধ্যে বিজেপি ৮৬ ও কংগ্রেস ২৬ আসন পেয়েছে। পুদুচেরির ৩০ আসনের মধ্যে ১৭ আসন পেয়ে এগিয়ে রয়েছে কংগ্রেস।

কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে প্রায় সাড়ে ১০ শতাংশ ভোট ব্যাংক ধরে রেখেছে বিজেপি। মমতার নিজকেন্দ্র ভবানীপুরসহ বেশ কিছু আসনে তারা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। প্রাথমিক হিসাবেই দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের নানা প্রান্তেই ভাল ভোট পেয়েছে বিজেপি। সরকার গঠনের আশা যাদের নেই, তেমন একটি দলের বিধানসভা ভোটে এমন যথেষ্ট চমকপ্রদ বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন। লোকসভা নির্বাচনে বামদের ঘর ভেঙ্গে বিজেপির বাক্সে গিয়েছিল বেশ কিছু ভোট। বিজেপি এ বার সেই ভোটের অনেকটাই ধরে রাখতে পারায় আখেরে সুবিধা হয়েছে তৃণমূলের।