১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আসলাম চৌধুরী বাংলাদেশে মোসাদ এজেন্ট

আসলাম চৌধুরী বাংলাদেশে মোসাদ এজেন্ট

শংকর কুমার দে ॥ ইহুদী রাষ্ট্র ইসরাইলের ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির সদস্য মেন্দি এন সাফাদি ও গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর দিল্লী বৈঠকের ঘটনার পর এখন থলের বিড়াল বেরিয়ে আসছে। ইসরাইলী গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্ট রিতা কাৎজের ‘সাইট ইন্টেলিজেন্সে’ দুই বিদেশীসহ সাম্প্রতিক হত্যাকা-গুলোয় জঙ্গী সংগঠন আইএস ও আল কায়েদার দায়

স্বীকারের ঘটনার নেপথ্য নাটেরগুরু হিসেবে কাজ করেছেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব আসলাম চৌধুরী। এ ঘটনায় মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছেন ইসরাইলের ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির সদস্য ও মোসাদের মেন্দি এন সাফাদি। আসলাম চৌধুরীকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত করে দেখছে গোয়েন্দা সংস্থা।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বাংলাদেশ নিয়ে বিগত দুই বছর ধরেই গোপনে কাজ করে চলেছে এই মেন্দি এন সাফাদি। বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে কাজ করার কথা বললেও আসলে তিনি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের জন্য কাজ করে যাচ্ছিলেন। দুই বিদেশীসহ প্রগতিশীল লেখক, ব্লগার, প্রকাশক, শিক্ষক, ধর্মযাজক খুনের ঘটনার পর আইএস ও আল কায়েদার দায় স্বীকার করার ঘটনার নেপথ্যে ছিল তাদের ভূমিকা। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা যতই বলে যাচ্ছে দেশে আইএস বা আল কায়েদা নেই ততই বেপরোয়া হয়ে আইএস ও আল কায়েদা থাকার অস্তিত্বের বিষয়টি প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে যাওয়া হচ্ছে। এতদিন এ দায় স্বীকার করার ঘটনাগুলোর প্রমাণ পাওয়া না গেলেও দিল্লী বৈঠকের পর তার শিকড় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে।

গোয়েন্দা সূত্রমতে, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও ধনকুবের আসলাম চৌধুরী যে বিএনপি-জামায়াতের বিশ্বস্ত একজন হয়ে দেশে গুপ্তহত্যার দায় স্বীকার করার ঘটনার নেপথ্যে ইসরাইলের সহায়তা নিচ্ছেন সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে তাকে। ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট রিতা কাৎজের সাইট ইন্টেলিজেন্সে দায় স্বীকারের ঘটনা ঘটিয়ে বাংলাদেশে আইএসের অস্তিত্ব থাকার প্রমাণের বাস্তবায়ন, আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছিল। বিদেশী খুনের ঘটনায় আইএসকে জড়িয়ে সংবাদ প্রচার করে নজরে আসে সার্চ ফর ইন্টারন্যাশনাল টেরোরিস্ট এন্টিটিস (এসআইটিই) সাইট। এ সাইটটি ওয়াশিংটনভিত্তিক একটি বেসরকারী গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগী প্রতিষ্ঠান। রিতা কাৎজ কাজ করছেন হোমল্যান্ড সিকিউরিটিজের সাবেক পরিচালক জোস ডিভনের সঙ্গে। রিতা কাৎজ এর আগে প্রকাশ্যে কাজ করেছেন ইসরাইলী প্রতিরক্ষা বাহিনী ও মার্কিন তদন্ত গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের সঙ্গে, কাজ করেছেন ইসরাইলী গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়েও। ইসরাইলের ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির সদস্য মেন্দি এন সাফাদিই তাকে দিয়ে এ দায় স্বীকারের কাজটি করিয়েছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। আর এ কাজের নেপথ্যেও নাটেরগুরুর ভূমিকা পালন করেছেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব আসলাম চৌধুরী, যা দিল্লী বৈঠকের পর ফাঁস হয়ে যায়।