১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বছরে সাত শ’ কোটি টাকার সাপের বিষ পাচার হচ্ছে

বছরে সাত শ’ কোটি টাকার সাপের বিষ পাচার হচ্ছে

সমুদ্র হক ॥ দেশে সাপের বিষ সংরক্ষণ করে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ তৈরি এবং রফতানি করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বড় ক্ষেত্র থাকার পরও প্রতিবছর অন্তত ৭শ’ কোটি টাকার বিষ পাচার হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বাইরে থেকে সাপের বিষ দেশে এনে তা বিমানবন্দর ট্রানজিট হয়েও বিদেশে পাচার হচ্ছে।

একাধিক সূত্র জানায়, পাচারকারীদের বড় একটি নেটওয়ার্ক দেশের ভেতরে অবস্থান নিয়েছে। কখনও বিদেশী এজেন্টরা এদেশে সাপের বিষ সংগ্রহ করে বিদেশে পাঠানোর উৎসাহ দেয়। এ দেশের প্রভাবশালী এজেন্টরা পেছনে থেকে কলকাঠি নাড়ে। তারা কখনও সাপুড়েদের সাপ ধরার কাজে নিয়োগ করার পর সাপ সংগ্রহ করে বিশেষ প্রক্রিয়ায় গোপন ল্যাবরেটরিতে বিষ সংগ্রহ করে বোতলজাত করে। দেশের সাপের বিষ পাচার এবং অন্য দেশের বিষ ট্রানজিটের সময় মাঝে মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুলিশ র‌্যাব বিজিবির হাতে ধরাও পড়ছে। তারপরও পাচার রোধ করা যায়নি।

বাংলাদেশে সাপের প্রজাতি ৭৯। এর মধ্যে অবিষধর সাপের প্রজাতি ৫২। বিষধর প্রজাতি ২৭। এই বিষধর প্রজাতির মধ্যে ১২ প্রজাতি থাকে সমুদ্রে। বাকি ১৫ প্রজাতি দেশের সর্বত্র কম বেশি মেলে। বিষধর গোখরা সাপের বিষ অতি মূল্যবান। যার মধ্যে পটাসিয়াম সায়ানায়িডের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এর সঙ্গে অন্যান্য যৌগ আছে। অন্যান্য বিষধর সাপের মধ্যে কালকেউটে, চন্দ্রবোরা, মাকিনী, শাকিনী ইত্যাদি সাপের বিষে নানা যৌগ উপাদান আছে। পাকা সাপুড়ে ও বেদে সাপুড়েরা বিষধর সাপের অবস্থান বুঝতে পারে। গর্তের আশপাশে মাটিতে বিশেষ কায়দায় থাবা দিয়ে মাটিতে কান পেতে ভেসে আসা শব্দে এরা বুঝতে পারে সাপের অবস্থান। সাপের বিষ পাচারকারীদের এজেন্ট, সাব এজেন্টদের সঙ্গে অনেক সাপুড়ের পরিচয় থাকে। তাদের মাধ্যমে সাপ সংগ্রহ করে রসায়নাগারে নেয়া হয়।

বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) রফতানির তালিকায় সাপের বিষ আছে। তারপরও কোন উদ্যোগ নেই। সূত্র মতে, নানা জটিলতায় তারা বড় ভূমিকা রাখতে পারছে না। প্রায় আট বছর আগে (২০০৮ সালে) ইপিবি বিদেশে সাপের বিষ রফতানির উদ্যোগ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করে। ইপিবি কোরিয়া জাপান চীন কম্বোডিয়া থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। সাপের বিষ সংগ্রহ করার আধুনিক পদ্ধতি ও সাপ পালন বিশেষজ্ঞ খামারিদের এই দেশে এনে প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা নেয়া হয়। এ ছাড়াও যেসকল দেশ সাপকে খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করে সেসব দেশ থেকে খামারি এনে দেশে সরকারী ও বেসরকারীখাতে যৌথভাবে সাপ পালনের উদ্যোগ নেয়া হয়। পরে এই উদ্যোগ বন্ধ হয়ে যায়। বছর চারেক আগে ২০১২ সালে পূর্ব উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বিদেশে সাপের বিষ রফতানির লক্ষ্যে কমিটি গঠিত হয়। নানা জটিলতায় এই উদ্যোগও ভেস্তে যায়। এরপর ইপিবি আর কোন উদ্যোগ নেয়নি। বেসরকারীভাবেও কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

লক্ষ্য করা যায় এ দেশের সাপের বিষ বিদেশে গিয়ে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ তৈরি হয়ে দেশে আমদানি হয়ে আসছে। আমাদের দেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো সাপের বিষ সংগ্রহ করে জীবন রক্ষাকারী উন্নত ওষুধ তৈরি করছে না বা করতে পারছে না। একটি সূত্র জানায়, সাপের বিষ সংগ্রহের অনুমতি তাদের নেই। অন্যদিকে সাপের বিষ পাচার ও ট্রানজিট দুই-ই হচ্ছে এই দেশে।