১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

খালেদা জিয়া ২ জুন হাজির না হলে গ্রেফতারি পরোয়ানা

খালেদা জিয়া ২ জুন হাজির না হলে গ্রেফতারি পরোয়ানা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দিতে চার দফা তারিখ পেছানোর পরও আদালতে হাজির হননি জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার প্রধান আসামি খালেদা জিয়া। মনে হচ্ছে, আদালতকে তিনি তোয়াক্কাই করেন না। এবার অবশ্য বিচারকও ক্ষেপেছেন। বলেছেন, আগামী ২ জুন যদি খালেদা জিয়া আদালতে হাজির না হন, তাহলে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করবেন তিনি। বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়া আদালতে হাজির না হওয়ায় এ মামলায় তার আত্মপক্ষ সমর্থনে পঞ্চম দফায় তারিখ পেছানো হলো।

খালেদার অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তার অন্যতম আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া এদিন আবারও সময়ের আবেদন করেন। ওই আবেদন শুনে ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু আহমেদ জমাদার নতুন তারিখ ঠিক করে দিয়ে ওইদিন খালেদাকে হাজির হতে নির্দেশ দেন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা দুটি মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলছে রাজধানীর বকশিবাজারে কারা অধিদফতরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত তৃতীয় বিশেষ জজের অস্থায়ী এজলাসে।

আদেশের পর দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল সাংবাদিকদের বলেন, আমি আজই গ্রেফতারি পরোয়ানা চেয়েছিলাম। বার বার কথা দিয়ে তার আইনজীবীরা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছেন না। খালেদা জিয়াও আদালতকে শ্রদ্ধা দেখাচ্ছেন না। এ কারণে বৃহস্পতিবারই আসামিকে পলাতক দেখিয়ে যুক্তিতর্ক শুরু করার আবেদন করেছিলেন বলে জানান কাজল।

এর আগে গত ৭, ১৭ ও ২৫ এপ্রিল ও ৫ মে চার দফা সময়ের আবেদন জানিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন পিছিয়ে নেন খালেদা জিয়া। তার আগে গত বছরের শুরুর দিকে টানা তিন মাস খালেদা জিয়া নিজের কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে থাকার সময় আদালতে না যাওয়ায় একই বিচারক খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। পরোয়ানা জারির এক মাস দশ দিন পর খালেদা আদালতে আত্মসমর্পণ করে দুর্নীতির এ দুই মামলায় জামিন পেয়েছিলেন। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে আসা অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় এই মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। খালেদা জিয়া ছাড়া অন্য চার আসামি হলো- তার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদ ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি খালেদা জিয়াসহ চার জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। পরের বছরের ১৯ মার্চ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আসামিদের বিচার শুরু হয়। এ মামলায় জামিনে থাকা জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খান গত ৭ এপ্রিল আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছেন। হারিছ চৌধুরী মামলার শুরু থেকেই পলাতক। এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা ও বাদী দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশিদসহ ৩২ জন। একই আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার বাদী ও প্রথম সাক্ষী দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশিদের জেরা চলছে।

নির্বাচিত সংবাদ