২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রাধান্য পাবেন বর্তমান কমিটির নেতারাই, নতুন মুখও থাকবে

প্রাধান্য পাবেন বর্তমান কমিটির নেতারাই, নতুন মুখও থাকবে

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আশায়-আতঙ্কে দিন কাটছে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের। একটি অংশ দিন গুনছেন পদোন্নতির আশায়, আরেকটি অংশ আতঙ্কে রয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বাদ পড়ার। একঝাঁক তরুণ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা প্রত্যাশায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা পাবেন। অন্যদিকে ছাত্রলীগ-মহিলা লীগ-যুব মহিলা লীগের সাবেক ও বর্তমান অসংখ্য নারী নেত্রীও কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা পেতে নিরলস তদ্বির-ধর্ণা দিচ্ছেন দলটির নীতিনির্ধারক নেতাদের কাছে। দেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক জাতীয় সম্মেলন সর্বাত্মকভাবে সফল করতে জোর প্রস্তুতি চললেও তৃণমূল নেতারা রয়েছেন কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে। আগামী ১০ ও ১১ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে আওয়ামী লীগের এ সম্মেলন। কিন্তু আগামী ৫ থেকে ৭ জুলাই পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের সরকারী বন্ধ। ৩০ দিনের রমজান হলে সেক্ষেত্রে সরকারী ছুটি আরও একদিন বেড়ে যেতে পারে।

দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য অনুযায়ী অধিকাংশ মানুষই নিজগ্রামে বৃহৎ এ ধর্মীয় উৎসব পালনে ছুটে যান। এ কারণে ঈদের পরও প্রায় সপ্তাহ ধরে রাজধানী শহর থাকে ফাঁকা। ফলে ঈদের ছুটির মাত্র দু’দিন পরেই বৃহৎ এ রাজনৈতিক দলের সম্মেলন অনুষ্ঠান আদৌ সম্ভব হবে, নাকি এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেয়া হবেÑ এ নিয়ে দলটির প্রায় ১০ সহস্রাধিক কাউন্সিলর-ডেলিগেটের মধ্যে কিছুটা হলেও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

তবে জাতীয় সম্মেলনকে সফল করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত দলটির নীতিনির্ধারক নেতারা নির্দিষ্ট সময়েই সম্মেলন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদী। ক’জন কেন্দ্রীয় নেতা অবশ্য বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। ১০ ও ১১ জুলাইয়েই সম্মেলন হবে, নাকি এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেয়া হবে ওই বৈঠকেই তা চূড়ান্ত হবে। তবে সম্মেলনের সময় পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ জনকণ্ঠকে বলেন, নির্দিষ্ট সময় অর্থাৎ ১০ ও ১১ জুলাই আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ঈদের পরপরই এ সম্মেলনের তারিখ নির্ধারিত থাকলেও সফল করতে তেমন কোন অসুবিধা হবে না। আর নির্দিষ্ট তারিখ নিয়েই সম্মেলনের জোর প্রস্তুতি চলছে। ফলে সম্মেলন কিছুটা পিছিয়ে যাওয়ার আপাতত কোন সম্ভাবনা নেই।

কেমন নেতৃত্ব আসবে আওয়ামী লীগের আসন্ন এ সম্মেলনেÑ এ নিয়ে দলটির সব পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে চলছে জোর গুঞ্জন, আলোচনা। নীতিনির্ধারক নেতাদের মতে, এবারের সম্মেলনের মূল ‘স্পিরিট’ থাকবে আগামী ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচন। তাই এ সম্মেলনকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন তারা। ফলে এ সম্মেলনে নেতা বানানোর প্রক্রিয়া এবার একটু ভিন্ন প্রক্রিয়াতেই হবে। এখানে সততা, মেধা, যোগ্যতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতাকেই প্রাধান্য দেয়া হবে।

নীতিনির্ধারণী নেতাদের মতে, সেক্ষেত্রে বর্তমান কমিটির নেতারাই প্রাধান্য পাবেন বেশি। কারণ তারা অভিজ্ঞতার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন। তবে কিছু নতুন মুখও থাকবে নতুন এ কমিটিতে। কমিটিতে বড় পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলেও বর্তমান কমিটিতে থাকা উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নেতা বাদ পড়ার যেমন সম্ভাবনা ক্ষীণ, তেমনি একঝাঁক তরুণ নেতৃত্ব আসবেনÑ এমন সম্ভাবনাও কম। কমিটিতে রয়েছেন এমন নেতারাই ঘুরেফিরে বেশি থাকবেন কেন্দ্রীয় কমিটিতে। তবে কোন কোন নেতার পদের রদবদল হবে। কারও পদোন্নতি হবে, কারও ‘ডিমোশন’ হবে। আর সাংগঠনিক ব্যর্থতায় বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির বেশ কয়েকজন নেতা যে বাদ পড়ছেন, তা অনেকটাই নিশ্চিত করেছেন তারা।

দলের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এবারের জাতীয় সম্মেলনে গঠনতন্ত্র সংশোধন করে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের কলেবর বাড়ানো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় কমিটিতে সভাপতিম-লীর সদস্য, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক নেতার সংখ্যা বাড়বে। বর্তমান ৭৩ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সংখ্যা বাড়িয়ে তা ৮০ কিংবা ৮২ করা হতে পারে।

এ ব্যাপারে গঠনতন্ত্র উপ-পরিষদের আহ্বায়ক ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি বলেন, ৭৩ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সংখ্যা বাড়তে পারে। আমাদের বেশ কয়েকটা বিভাগ রয়েছে, যেহেতু দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি বিভাগে একজন করে সাংগঠনিক সম্পাদক থাকবে, সেক্ষেত্রে এটা বাড়াতে হতে পারে। যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও সভাপতিম-লীর সদস্যও বাড়ানো হতে পারে। আগামী ১৫ জুনের মধ্যে গঠনতন্ত্র সংক্রান্ত রিপোর্ট চূড়ান্ত করা হবে।

এদিকে সম্মেলনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, দেশের সর্বত্র দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে একই আলোচনাÑ সভাপতি শেখ হাসিনার পাশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদে (সাধারণ সম্পাদক) কে আসছেন? অধিকাংশ কেন্দ্রীয় নেতা ওই পদে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকেই উপযুক্ত মনে করলেও, দ্বিতীয় শীর্ষ এ পদে আলোচনায় উঠেছে আরও ক’জনের নাম। অনেক নেতাই নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সৈয়দ আশরাফ ওই পদে শুধু উপযুক্তই নন, নিরাপদও।

তৃণমূল নেতারাও দলের চরম দুঃসময়ে সৈয়দ আশরাফের দৃঢ় ভূমিকার জন্য প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তাদের মতে, ২০১৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে গেলে যেসব পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে আওয়ামী লীগকে, এর জন্য শেখ হাসিনার পাশে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মতো নেতারই বেশি প্রয়োজন। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাংগঠনিক কাজে দলটির অনেক নেতা ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনার সুযোগ পেলেও দল ও সরকার সঙ্কটে পড়লে শেখ হাসিনার পাশে থেকে নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে সৈয়দ আশরাফের অপরিহার্যতার কথা উড়িয়ে দিতে পারছেন না।

তবে পদটির প্রত্যাশা করেন এমন কয়েকজনের মূল্যায়ন আবার ভিন্ন। পদপ্রত্যাশী কয়েকজন ছাড়া কেন্দ্রীয় কমিটির অনেক নেতাই রয়েছেন সৈয়দ আশরাফকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেখার পক্ষে। তাদের মতে, দুইবারের সাধারণ সম্পাদক হলেও সবসময়ই পর্দার আড়ালে থেকে শেখ হাসিনার হাত ও দলকে শক্তিশালী করতে কাজ করে গেছেন সৈয়দ আশরাফ। তিনি তার পদকে এমনভাবে মূল্যায়ন করেন যে, কাগজে-কলমে তিনি হয়ত সাধারণ সম্পাদক কিন্তু আসলে আমরা সবাই শেখ হাসিনার সৈনিক।

অতিকথন, সস্তা জনপ্রিয়তা কিংবা পদের অহঙ্কারকে পায়ে ঠেলে সৈয়দ আশরাফ নিভৃতেই দলের কঠিন সময়ে যেমন নেতৃত্ব দিয়েছেন সাহসের ওপর ভর করে, তেমনি দলের সুসময়ে অন্য সহকর্মীকে নেতৃত্বের আসনে এনে সাংগঠনিক কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন অবারিতই। তাই ২০১৯ সালের নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ উত্তীর্ণ হতে সৈয়দ আশরাফকেই শেখ হাসিনার পাশে সবচেয়ে উপযুক্ত মনে করছেন বেশিরভাগ কেন্দ্রীয় নেতা। তবে শেষপর্যন্ত কেন্দ্রীয় কমিটিতে কার পদোন্নতি হচ্ছে, কার কপাল পুড়ছে- তা ১০ ও ১১ জুলাই কেন্দ্রীয় সম্মেলনেই চূড়ান্ত হবে।