২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

১৫ রোজা পর্যন্ত মার্কেট দোকানপাট রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রমজানে বিদ্যুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১৫ রোজা পর্যন্ত মার্কেটে দোকানপাট ও বিপণিবিতানসমূহ রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ১৫ রোজার পর থেকে চাঁদরাত পর্যন্ত সারাদেশে দোকানপাট তাদের প্রয়োজনমতো খোলা রাখা যাবে। বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ে রমজানে বিদ্যুত পরিস্থিতি নিয়ে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অন্যদিকে অপর এক পর্যালোচনা সভায় বিদেশের বন্ড মার্কেটে পাওয়ার বন্ড ছাড়ার উদ্যোগ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকে পিক আওয়ারে রি-রোলিং মিল, ওয়েল্ডিং মেশিন, ওভেন, ইস্ত্রির দোকানসহ অধিক বিদ্যুত ব্যবহারকারী সরঞ্জামাদির ব্যবহার বন্ধ রাখা; গ্রীষ্মের সময় ও রমজান মাসে রাত ৮টার মধ্যে দোকানপাট ও বিপণিবিতানসমূহ বন্ধ রাখা; কোন এলাকায় লোডশেড করতে হলে লোডশেডিং সম্পর্কে গ্রাহককে পূর্বেই অবহিত করা; সুপার মার্কেট, পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি গ্যাস স্টেশনে প্রয়োজনের বেশি বাতি ব্যবহার বন্ধ করা; ইফতারের ও তারাবির সময় এসির সাশ্রয়ী ব্যবহার করা; তারাবির নামাজের সময় লোডশেডিং না করা; বিদ্যুতের অপচয় রোধে সিএফএল বাল্বের পরিবর্তে এলইডি বাল্ব প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা; হলিডে স্ট্যাগারিং কার্যক্রম জোরদার করা; চলতি গ্রীষ্ম ও আসন্ন রমজান মাসে বিদ্যুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি করা; পিক আওয়ারে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুত উৎপাদনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুত, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম বলেন, ইফতারের সময় মার্কেটে এসি বন্ধ রাখতে পারলে বিদ্যুত সাশ্রয় হবে। তিনি যত্রতত্র মেলায় বিদ্যুত সংযোগ দেয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।

প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, বিদ্যুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১৫ রোজা পর্যন্ত মার্কেটে দোকানপাট ও বিপণিবিতান রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা এবং ১৫ রোজার পর থেকে ঈদ পর্যন্ত মার্কেটগুলোতে দোকানপাট তাদের প্রয়োজনমতো খোলা রাখতে পারবে। তিনি ঈদ উপলক্ষে মার্কেটগুলোতে অযথাই আলোকসজ্জা না করার অনুরোধ জানান। তিনি বিদ্যুত অপচয় রোধ করে সাশ্রয়ী ব্যবহারের বিষয়ে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় দোকান মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, স্বরাষ্ট্র, বাণিজ্য, কৃষি ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দোকান মালিক সমিতির সভাপতি এসএ খালেক কিরন রমজানে মার্কেট আগে বন্ধের বা বিদ্যুত বন্ধের কোন কার্যক্রম না নেয়ার জন্য অনুরোধ জানান।

পাওয়ার বন্ড ॥ বিদ্যুত বিভাগ বিদেশের বন্ড মার্কেটে পাওয়ার বন্ড ছাড়ার উদ্যোগ নিচ্ছে। বৃহস্পতিবার প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সভাপতিত্বে একটি পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, এইচএসবিসি ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক পৃথকভাবে পাওয়ার বন্ড সম্পর্কে খুঁটিনাটি বিষয়াদি পাওয়ার পয়েন্টে উপস্থাপন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম বলেন, প্রাথমিকভাবে বিদেশী বন্ড মার্কেট হতে ৫০০ মিলিয়ন ডলার আমরা পিডিবির জন্য নিতে চাই। পরে অন্যান্য কোম্পানিকে বন্ড মার্কেটে আনা যেতে পারে। আশুগঞ্জ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড দেশীয় বাজার থেকে ৮০০ কোটি টাকা নিচ্ছে। এ নিয়ে ইতোমধ্যে ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি অব বাংলাদেশ কাজ শুরু করে দিয়েছে।

বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশে এক সেকেন্ডের জন্যও বিদ্যুত যাবে না- বাংলাদেশকে আমরা সেরূপ অবস্থায় নিতে চাই। এক্সপোর্ট ক্রেডিট এজেন্সি বা দাতা সংস্থা থেকে অর্থ নিয়ে কাজ করতে অনেক সময় লেগে যায়। দুই বছর আগে একটি প্রতিষ্ঠান শুরু বা শেষ করতে পারলে তা থেকে অনেক বেশি সুবিধা পাওয়া যায়। আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। সরকারের বা দাতা সংস্থার টাকা না নিয়ে কোম্পানিগুলোর সম্পদ বিবেচনায় স্টক মার্কেট হতে এ অর্থ নেয়া যেতে পারে এবং প্রক্রিয়াটিও তুলনামূলকভাবে কম সময়সাপেক্ষ। বিদেশের বন্ড মার্কেটে বিদ্যুত কোম্পানিগুলোকে প্রবেশ করাতে পারলে এর সক্ষমতা ও স্বচ্ছতা আরও বৃদ্ধি পাবে। সর্বোপরি বাংলাদেশেরও ব্র্র্যান্ডিং হবে এবং বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে। এ সময় অন্যান্যের মাঝে বিদ্যুত সচিব মনোয়ার ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

নির্বাচিত সংবাদ