১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কিবরিয়া ছাপচিত্র মেলায় নবীন প্রবীণ শিল্পীদের পুরস্কার

কিবরিয়া ছাপচিত্র মেলায় নবীন প্রবীণ শিল্পীদের পুরস্কার
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশের ছাপচিত্র শিল্পের চর্চা ও প্রসারে নিরন্তর কাজ করছে কিবরিয়া প্রিন্ট মেকিং স্টুডিও। বরেণ্য শিল্পী মোহাম্মদ কিবরিয়ার নামাঙ্কিত প্রতিষ্ঠানটি মেলে ধরছে দেশের নবীন ছাপচিত্রীদের। ষষ্ঠ বছরে পদার্পণ করা প্রতিষ্ঠানটি গত ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে আয়োজন করে কিবরিয়া ছাপচিত্র মেলা। সেই মেলাটি এখন নবরূপে ঠাঁই নিয়েছে ধানম-ির গ্যালারি চিত্রকে। সেই সূত্রে তরুণ শিল্পীদের ছাপচিত্র ঝুলছে প্রদর্শনালয়টির দেয়ালে দেয়ালে। কিবরিয়া প্রিন্ট মেকিং স্টুডিও আয়োজিত প্রদর্শনীটি তরুণ প্রাণের উচ্ছ্বাসে হয়ে উঠেছে বর্ণিল। গ্যালারি চিত্রকে বৃহস্পতিবার বিকেলে ‘কিবরিয়া ছাপচিত্র মেলা’ উপলক্ষে পুরস্কার প্রদান ও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। একই আয়োজনে ছাপচিত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয় বিশিষ্ট শিল্পী মাহমুদুল হককে। তিন তরুণ শিল্পীকে প্রদান করা হয় কিবরিয়া নবীন ছাপচিত্রী পুরস্কার। এই শিল্পীরা হলেন ফারহানা ইয়াসমিন, সুবর্না মোরশেদা ও আবদুল্লাহ আল বশীর। এছাড়াও সম্মাননা পুরস্কার পেয়েছেন পাঁচ নবীন শিল্পী। তাঁরা হলেন রুহুল আমিন তারেক, শুভ সাহা, সুমন্তা রানী মোহন্ত, খালেকুজ্জামান শিমুল ও সাকিব সেলিম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এ প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্পী মনিরুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন বরেণ্য শিল্পী রফিকুন নবী। সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসাদুজ্জামান নূর বলেন, দেশে সম্প্রতি শিক্ষক লাঞ্ছিত হয়েছেন। এ ধরনের অশিক্ষিত মানুষ এখনও সমাজে রয়েছে। সাংস্কৃতিক চর্চাই পারে এ ধরনের বর্বর কাজ থেকে মানুষকে দূরে রাখতে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ছাপচিত্র শিল্পের চর্চা ও প্রসারের ক্ষেত্রে কিবরিয়া প্রিন্ট মেকিং স্টুডিও কাজ করে চলেছে। এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশের বরেণ্য শিল্পী মোহাম্মদ কিবরিয়ার নাম। তার নামে এ পুরস্কার পেয়ে তরুণ শিল্পীরা আরও এগিয়ে যাবে, প্রাণিত হবে এই প্রত্যাশা করি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রফিকুন নবী বলেন, ছাপচিত্র আঁকার যে মজা সেটা আসলে বলে বোঝানো যায় না। এটা শিল্পীরা ভেতর থেকে অনুভব করে। তাই আমার প্রত্যাশা আগামীতে শিল্পের এই মাধ্যমটিতে আরও বেশি তরুণ শিল্পী সম্পৃক্ত হবেন।

আজীবন সম্মাননা প্রাপ্তির অনুভূতিতে মাহমুদুল হক বলেন, শিল্পের ভুবনে ছাপচিত্রই আমার প্রথম ভাললাগা। প্রথম থেকেই এ নিয়ে কাজ করেছি। তাই ছাপচিত্রে এ সম্মাননা পেয়ে ভাল লাগছে। আশা করি, তরুণ শিল্পীরা এ মাধ্যমকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

প্রদর্শনীতে পুরস্কার প্রাপ্ত আটজন শিল্পীর দুটি করে ১৬টি ও মাহমুদুল হকের তিনটি ছাপচিত্র স্থান পেয়েছে এ প্রদর্শনীতে। গ্যালারি চিত্রকে আজ শুক্রবার প্রদর্শনীর শেষ দিন। এরপর ছবিগুলো মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের কলাকেন্দ্র গ্যালারিতে তিন সপ্তাহ প্রদর্শন করা হবে।

জাদুঘর দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের আয়োজন ॥ কথা, পাঠ, আবৃত্তি ও সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস উদযাপন করেছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘জাদুঘর এবং সাংস্কৃতিক ভূমিচিত্র’। বুধবার ছিল আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেলে সেগুনবাগিচার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে অনুষ্ঠিত হয় এই আয়োজন।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন তারিক আলীর সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবসের কার্যক্রম। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শরীফ উদ্দিন আহমেদ। এরপর ওয়াহিদুল হকের রচনা ‘চেতনাধারায় এসো’ থেকে পাঠ করেন আবৃত্তি শিল্পী তামান্না রহমান। মোতাহের হোসেন চৌধুরীর ‘সংস্কৃতি-কথা’ শীর্ষক রচনা থেকে পাঠ করেন আবৃত্তিশিল্পী ফয়জুল আলম পাপ্পু।

এ আয়োজনে বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করে স্রোত আবৃত্তি সংসদের বাচিকশিল্পীরা এবং দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে গানের দল পঞ্চভাস্কর।

গান ও কবিতায় নন্দনের রবীন্দ্রবন্দনা ॥ ধানম-ির ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনের রমেশচন্দ্র দত্ত স্মৃতি মিলনকেন্দ্রে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হলো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান ও কবিতার পরিবেশনা। সঙ্গে ছিল গানের এ্যালবাম প্রকাশনার আয়োজন। মিলন হবে বলে শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নন্দন। ২০০৩ সাল থেকে পঞ্চকবি ও ধ্রুপদ সঙ্গীত নিয়ে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। বৃহস্পতিবার ছিল নন্দনের ৪৯তম আয়োজন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই ছিল ফেরদৌসী কাকলীর ‘রবে না গোপনে’ শীর্ষক এ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার চেয়ারম্যান রাহাত খান, বিশিষ্ট রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী মিতা হক ও রোকাইয়া হাসিনা এ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে মঞ্চে আরও ছিলেন শিল্পী অজয় মিত্র, শামীমা জেসমিন ও পাপিয়া সারোয়ার।

ফেরদৌসী কাকলীর ‘রবে না গোপনে’ শীর্ষক তৃতীয় এই একক এ্যালবামে রয়েছে রবীন্দ্রনাথের পূজা ও প্রেম পর্যায়ের গান। এটি প্রকাশ করেছে ‘সুরের মেলা’। তার প্রথম এ্যালবাম ছিল রবীন্দ্রনাথের গান নিয়ে ‘দুঃখ রাতের রাজা’। এছাড়াও পঞ্চকবির গান নিয়ে ‘একা বসে থাকি’ তার একক এ্যালবাম।

রাহাত খান বলেন, আমরা এমন একটা শহরে বাস করি, যেখানে খুব ঘনিষ্ঠদের সঙ্গেও সচরাচর দেখা হয় না। এই অনুষ্ঠানে এসে প্রিয় অনেকের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। এ্যালবাম প্রকাশের জন্য কাকলীকে অভিনন্দন জানাই।

মিতা হক বলেন, পারিবারিকভাবে কাকলী আমার খুব ঘনিষ্ঠ। ‘নন্দন’ নিয়ে সে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে বোঝা যায় সে থামবার নয় এবং একা চলার মানুষ নয়। তার মতো তার প্রতিষ্ঠানটিও এগিয়ে যাবে, এটাই আশা করি।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল গান ও আবৃত্তি। প্রথমেই মঞ্চে আসেন মিতা দে। তিনি শোনান ‘যে কেহ মোরে দিয়েছ’ এবং ‘কাল রাতের বেলা’। সুমাইয়া ফারাহ খান শোনান ‘মেঘের পরে মেঘ’ এবং ‘আজি তোমায় আবার’। অনুষ্ঠানে প্রত্যেক শিল্পীই রবীন্দ্রনাথের দুুটি করে গান শোনান। এছাড়াও গান শোনান রমা বাড়ৈ, জয়ন্ত আচার্য, বাইতুন্নাহার পপি, সাঈদা হোসেন পাপড়ি, আরিফুর রহমান, অপর্ণা খান, সালমা সাবেরা, রোকাইয়া হাসিনা ও মিতা হক। আবৃত্তি শোনান শাহরিয়া পিউ। সঞ্চালনা করেন জোবাইদুল ইসলাম।