১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজধানীর পাড়া মহল্লায় ব্লক রেইড দেবে পুলিশ

স্টাফ রিপোর্ট ॥ অপরাধ দমনসহ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে রাজধানীর পাড়া-মহল্লায় প্রতিনিয়ত ব্লক রেইড পরিচালনা করতে যাচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। সন্দেহভাজন ব্যক্তির গতিবিধি লক্ষ্য এবং নজরদারি করতে সার্ভিলেন্স কমিটি তৈরির নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

ডিএমপির অপরাধ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনাররা স্বীয় আওতাধীন এলাকায় ডিভিশন (বিভাগ) থেকে বরাদ্দপ্রাপ্ত পুলিশ ফোর্স, বিভাগের আওতাধীন থানা-ফাঁড়ি ও বিভাগের সকল কর্মকর্তার সমন্বয়ে এই ব্লক রেইড কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। আর রাজধানীর প্রতিটি এলাকায় নজরদারি করবেন সার্ভিলেন্স কমিটির সদস্যরা। শীঘ্রই এসব কার্যক্রম নিয়ে মাঠে নামবে পুলিশ। ডিএমপির মিডিয়া এ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার জানান, ডিএমপির পুলিশ সদস্যরা যে কোন ধরনের নাশকতা কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বদ্ধপরিকর। তিনি জানান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতে ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশে শীঘ্রই এলাকাভিত্তিক সার্ভিলেন্স কমিটি কাজ শুরু করবে। ডিসি মারুফ হোসেন সরদার জানান, এলাকার যে কোন ঘটনায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দূর করে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার কাজ করবেন এই সার্ভিলেন্স কমিটির সদস্যরা। এ কমিটি তৈরি এখন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তিনি জানান, মহানগর পুলিশ সদস্যরা নিরলস কাজ করছে। ভবিষ্যতে এরা জনগণের পাশে থাকবে।

সম্প্রতি ডিএমপির অফিস আদেশের মাধ্যমে এসব নির্দেশনা দেন পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। ডিএমপির প্রতিটি ডিভিশনে পর্যায়ক্রমে এলাকাভিত্তিক ব্লক রেইড পরিচালনার আদেশ দিয়েছেন তিনি। ডিএমপির ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রাজধানীতে বসবাসরত সম্মানিত নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতের পাশাপাশি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং অপরাধীদের সম্ভাব্য আস্তানা নির্মূলের লক্ষ্যেই এ কর্মপন্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাড়া-মহল্লায় ব্লক রেইড পরিচালনায় ডিএমপির আদেশে বলা হয়েছে- ভোররাতে অথবা সন্ধ্যার সময় ব্লক রেইড পরিচালনায় ভাল ফল পাওয়া যাবে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, মেস ও বস্তি এলাকা ব্লক রেইডের আওতায় আনতে হবে। যেসব এলাকায় স্বল্পমূল্যে বাসা ভাড়া পাওয়া যায় ওইসব এলাকায়ও ব্লক রেইড পরিচালনা করতে হবে।

অন্যদিকে পাড়া-মহল্লায় সন্দেহভাজন ব্যক্তির গতিবিধি লক্ষ্য ও নজরদারি করতে সার্ভিলেন্স কমিটি তৈরিরও নির্দেশ দিয়েছে ডিএমপি কমিশনার। রাজধানীর প্রতিটি এলাকায় এ কমিটি গঠন করা হবে। এ কমিটিতে থাকবেন সংশ্লিষ্ট থানার একজন পুলিশ সদস্য, একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, একজন সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, একজন ধর্মীয় নেতা, একজন সাংবাদিক, একজন আইনজীবী ও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের নেতারা। সকলের সমন্বয়ে জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকের বিস্তার রোধ এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীচক্রের অপতৎপরতা রোধে কাজ করবে কমিটি।

সার্ভিলেন্স কমিটির দায়িত্ব থাকবে- এলাকার সকল ভাড়াটের তথ্য সংগ্রহ করা। তরুণ-তরুণী ও উঠতি বয়সীদের গতিবিধি লক্ষ্য করা, এলাকার ব্যাচেলরদের নজরদারি করা, নতুন ভাড়াটের তথ্য সংগ্রহ ও তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করা। কাউকে সন্দেহ হলে তার গতিবিধিও লক্ষ্য করতে বলা হয়েছে।