১৮ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলার উদ্বোধন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ টেকসই পর্যটন শিল্প গড়তে সরকার জাতীয় শিল্পনীতিতে এ খাতকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করেছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। তিনি বলেন, বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকার এর বিকাশে গুরুত্ব দিচ্ছে। এ খাতের উন্নয়নে বাজেটে আলাদা বরাদ্দ দেয়ার পাশাপাশি হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, ট্যুর এ্যান্ড ট্রাভেলসহ পর্যটন শিল্পে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও উপকরণ আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক ছাড় দেয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা-২০১৬’র উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ফর ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট (বিএফটিডি) এ মেলার আয়োজন করে। বিএফটিডির প্রেসিডেন্ট এএসএম আবদুল মতিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব স্বপন কুমার সরকার, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান অপরূপ চৌধুরী, বিএফটিডির সাবেক প্রেসিডেন্ট হাকিম আলী, নির্বাহী পরিচালক রেজাউল ইকরাম।

বিএফটিডি সভাপতি এএসএম মতিন বলেন, স্বাধীনতার চার দশক পরও পর্যটন খাতে বাংলাদেশের ব্র্যান্ড আইকন ঠিক করা সম্ভব হয়নি। মালয়েশিয়ার টুইন টাওয়ার, ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ার, ভারতের দিল্লী গেট, নেপালের এভারেস্ট, যুক্তরাষ্ট্রের লিবার্টি টাওয়ার; সেসব দেশের ব্র্যান্ড আইকন হিসেবে দুনিয়াব্যাপী পরিচিতি দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের পরিচয় কিসে? সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার নাকি পৃথিবীর দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত নাকি বৌদ্ধবিহার?

এ সময় তার এ বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রধান অতিথি শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুও বলেছেন, সময় এসেছে আজ বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেয়ার। শুধু বক্তৃতা-বিবৃতি, সভা-সেমিনার করে দেশের পর্যটন এগুবে না; বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ, বাংলাদেশের রয়েছে বিপুল সম্ভাবনার পর্যটন খাত। এটাকে দুনিয়াব্যাপী ছড়িয়ে দিতে হলে এখনই কার্যকর নীতি ও পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, পর্যটন শিল্পের প্রসারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালকে ‘পর্যটন বছর’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরার প্রস্তুতি হিসেবে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের কাজ চলছে। কক্সবাজার থেকে টেকনাফের সাবরাং পর্যন্ত প্রায় ৫৬ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এ উদ্যোগ আগামীদিনে কক্সবাজারকে দক্ষিণ এশিয়ার জনপ্রিয় পর্যটন নগরীতে পরিণত করবে।

তিন দিনব্যাপী এ মেলায় বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, চীন, নেপাল, ভুটান, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, সিঙ্গাপুর, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের ১১০টি স্টলে প্রায় ৫শ’ পর্যটন শিল্প উদ্যোক্তা অংশ নিয়েছেন। মেলা প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত খোলা থাকবে। মেলার প্রবেশ মূল্য ২০ টাকা।