১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্ষমা চেয়েছেন ফুটবলার জাহিদ

রুমেল খান ॥ মামুনুল ইসলাম এবং সোহেল রানার পদাঙ্ক অনুসরণ করলেন উইঙ্গার জাহিদ হোসেনও। বুধবার চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেডের এই ফুটবলার বাফুফে ভবনে গিয়ে তার ছয় মাসের শাস্তি মওকুফের জন্য লিখিত আবেদনপত্র জমা দেন। কমিটি যখনই তাকে ডাকবে, তখনই জাতীয় দলের ক্যাম্পের অনুশীলনে যোগ দিতে প্রস্তুত আছেন জাহিদ।

এই মুহূর্তে জাহিদ ভীষণ ব্যস্ত আছেন তার অসুস্থ বাবাকে নিয়ে। তার বাবা লিয়াকত আলী (বয়স ৬২, টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ করেছেন) ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন। কয়েকদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এখন নিজ বাসভবনে আছেন। ডাক্তাররা জানিয়েছেন আরও উন্নত চিকৎসা লাগবে তার। এজন্য বাবাকে নিয়ে ভারতের মুম্বাইয়ের টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে যেতে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জাহিদ। এ বিষয়ে সবকিছু চূড়ান্ত পর্যায়ে। শুধু ভিসা পেতেই সময় লাগছে। জাহিদ তার বাবার সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘আগামী মঙ্গল বা বুধবারের মধ্যে যদি ভিসা হয়ে যায়, তাহলে বাবাকে নিয়ে ভারতে যাব। সেখানে হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়ে এবং অন্যান্য সবকিছু ব্যবস্থা করে দিয়েই আমি আবার বাংলাদেশে ফিরে এসে জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেব। আমার অবর্তমানে আমার পরিবারের সদস্যরা এবং এক বন্ধু তখন বাবার সঙ্গে থাকবে।’ যদি এমন হয়, জাহিদ তার বাবাকে নিয়ে ভারতে যাবেন, আর ঠিক তখনই জাতীয় দলের ক্যাম্পে তার ডাক এলো, তখন কি করবেন জাহিদ? এ প্রসঙ্গে জাহিদের ভাষ্য, ‘বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি আমাকে আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, ক্যাম্পে ডাকলে যদি সে সময় বাবার কারণে যেতে সমস্যা হয়, তাহলে আমার ক্যাম্পে যোগ না দিলেও কোন সমস্যা হবে না। এ নিয়ে আমাকে কোন দুশ্চিন্তা করতেন মানা করেছেন তিনি। মোট কথা, ক্যাম্পে আমি আমার সুবিধা মতোই যোগ দিতে পারব ক্যাম্পে।’ এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে মাঠ এবং মাঠের বাইরে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ হন তারকা ফুটবলার-উইঙ্গার জাহিদ হোসেন। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ এবং বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে ব্যর্থতা খতিয়ে দেখার জন্য গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কাছে দেশের আলোচিত এ ফুটবলারকে নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করে। শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে জাহিদকে এর আগে ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডও বহিষ্কার করেছিল। কেবল মদ্যপানই নয়, জাহিদের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির ঘটনাও বেড়িয়ে আসে তদন্তে। কেরলে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ চলাকালীন হোটেলের এক নারীকর্মীকে কু-প্রস্তাব দিয়েছিলেন জাহিদ! জানা গেছে, হোটেল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্টকে জানানোর পর কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় হোটেলের নারীকর্মীরা একদিন কর্মবিরতিও পালন করে। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ চলাকালীন রাতে হোটেলে ছেড়ে বাইরে গিয়ে মদ্যপান করেন জাহিদ। যে কারণে তাকে ক্যাম্প থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। শেখ মোঃ আসলাম, ইলিয়াস হোসেন ও আজমল আহমেদ তপনের সমন্বয়ে গঠিত ফ্যাক্ট ফান্ডিং কমিটির তদন্তে এগুলো বেড়িয়ে আসে। ফুটবলপ্রেমীরা প্রায়ই বলেন, জাহিদ যে কতটা প্রতিভাবান ফুটবলার, তা তিনি নিজেই জানেন না। ২০০৮ সাল। মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে মারদেকা কাপ। খেলছে বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম। মাঠে বসে খেলা দেখেছেন বাফুফে সভাপতি কাজী মোঃ সালাউদ্দিন। ম্যাচে বিপক্ষ দলের ছয়জনকে কাটিয়ে গোল করলেন জাহিদ হোসেন। সেটা দেখে মুগ্ধ হলেন স্টেডিয়ামে উপস্থিত বাফুফে সভাপতি কাজী মোঃ সালাউদ্দিন। ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে গিয়ে তিনি জাহিদকে বললেন, ‘আমি যদি তোমার মতো খেলতাম, তাহলে ইউরোপে খেলতাম!’ কোন সন্দেহ নেই, খুব বড় প্রশংসা বাণী। কিন্তু এর মর্ম এবং মূল্যায়ন কোনটিই হয়নি জাহিদকে দিয়ে। বার বার জন্ম দিয়েছেন বিতর্কের, অঘটনের। কোচ নিকোলা ইলিয়েভস্কি মাঠ থেকে তুলে নেয়ার পর বোতলে লাথি মেরেছেন, ঠিকমতো অনুশীলনে যোগ দেননি, ইনজুরির কথা বলে লীগে খুব বেশি ম্যাচ না খেলায় মোহামেডানকে সাড়ে ১৬ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছেন ... এমন আরও কত কি। জাহিদের এমন ইমেজ থাকায় চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত শেখ কামাল গোল্ডকাপে অসাধারণ খেলার পরও কোচ ফ্যাবিও লোপেজ তাকে বিশ্বকাপ বাছাই উপলক্ষে জাতীয় দলে নেননি।

প্রায়ই যিনি বলেন, নিজেকে শুধরে নেবেন, নতুন করে আবার সবকিছু শুরু করবেন; সেই জাহিদ আসলে মোটেও বদলাননি। রয়ে গেছেন আগের মতোই। দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের হয়ে খেলে আসছেন জাহিদ। খেলেন ভাল, তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি কখনই গড়ে তুলতে পারেননি তিনি। ভেসে গেছেন উচ্ছৃঙ্খলতায়, করেছেন একের পর এক অপকর্ম। বাফুফে দ্বারা এজন্য অনেকবারই শাস্তি পেয়েছেন। কিন্তু তাতেও ‘ভাল’ হতে পারেননি তিনি।