১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সেভিয়ার ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক শিরোপা

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ উয়েফা ইউরোপা লীগের শিরোপাটা যেন নিজেদের সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেছে সেভিয়া। ইউরোপের দ্বিতীয় সেরা এই আসরে প্রথম ক্লাব হিসেবে ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্প্যানিশ ক্লাবটি। বুধবার রাতে ২০১৫-১৬ মৌসুমের ফাইনালে সেভিয়া পিছিয়ে পড়েও ৩-১ গোলে পরাজিত করে ইংলিশ ক্লাব লিভারপুলকে। এই জয়ে আগামী বছর চ্যাম্পিয়ন্স লীগে খেলা নিশ্চিত করেছে সেভিয়া।

সুইজারল্যান্ডের বাসেলের সেন্ট জ্যাকব-পার্কে চোখ ধাঁধানো পারফর্মেন্স প্রদর্শন করেই টানা তৃতীয়বার শিরোপা জয়ের হাসি হেসেছে উনাই এমেরির দল। প্রথমার্ধে ড্যানিয়েল স্টারিজের গোলে লিভারপুল এগিয়ে গেলেও বিরতির পর তিন গোল করে শিরোপা জয়ের উল্লাস করে স্প্যানিশরা। সেভিয়ার হয়ে জোড়া গোল করেন অধিনায়ক কোকে। সমতা ফেরানো গোলটি করেন কেভিন গামেইরো।

গত মৌসুমেই ইউরোপা লীগে সবচেয়ে বেশি শিরোপা জয়ের রেকর্ড গড়েছিল সেভিয়া। এবারের আসরে তারা নিজেদের নিয়ে গেল আরও উঁচুতে। এ নিয়ে পাঁচবার ইউরোপা লীগের শিরোপা উঠল সেভিয়ার ঘরে। তিনটি করে শিরোপা জিতেছে লিভারপুল, ইন্টার মিলান ও জুভেন্টাস। এবারের মৌসুমে অবশ্য নতুন আরেকটি রেকর্ড গড়েছে সেভিয়া। প্রথমবারের মতো টানা তিন ইউরোপা লীগ জয়ের অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করেছে স্পেনের অন্যতম সেরা এই ক্লাব। এর আগে টানা দুটি শিরোপা জিতেছিল রিয়াল মাদ্রিদ (১৯৮৫ ও ১৯৮৬)। ২০০৬ ও ২০০৭ সালে সেভিয়াও জিতেছিল টানা দুটি শিরোপা। তবে এবারের আসরে নিজেদের অনন্য উচ্চাতায় নিয়ে গেল তারা।

সবমিলিয়ে ২০০৬ সালের পর থেকে এই নিয়ে চার ইউরোপা লীগের শিরোপা জয় করল সেভিয়া। দলটির কোচ উনাই এমেরিও নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। কোচ হিসেবে তিনবার ইউরোপা লীগ জেতার কীর্তিটা এতদিন শুধু ছিল ইতালির জিওভান্নি ট্রাপাট্টনির। চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন জুভেন্টাসকে দুইবার (১৯৭৬-৭৭, ১৯৯২-৯৩), ইন্টার মিলানকে (১৯৯০-৯১) একবার। সেন্ট জ্যাকব-পার্কে ট্রফি জিতে তাকে ছুঁয়ে ফেললেন এমেরি। তার তিন ইউরোপার ট্রফিই অবশ্য সেভিয়াকে নিয়ে। ইউরোপিয়ান ফুটবলে তিন বছর ধরে চলছে স্প্যানিশ ক্লাবগুলোর আধিপত্য। ইউরোপ সেরার দুই লড়াই চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ও ইউরোপা লীগের সর্বশেষ দুটি আসরের শিরোপা জিতেছিল স্পেনের ক্লাবগুলো। এবারও চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে রিয়াল ও এ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। তার আগে ইউরোপা লীগের শিরোপাটাও জিতে নিয়েছে স্প্যানিশ ক্লাব সেভিয়া। ফাইনালে ময়দানী লড়াইয়ে নামার আগে অবশ্য বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিল জার্গেন ক্লপের দল। ২০০১ সালের পরে তাদের সামনে সুযোগ ছিল প্রথমবারের মতো ইউরোপা লীগের শিরোপা জয়ের। বিশেষ করে ইউরোপের দ্বিতীয় সারির এই আসরে প্রথম থেকে লিভারপুলের আধিপত্য অন্তত সেই আভাসই দিয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ম্যাচের ৩৫ মিনিটে ড্যানিয়েল স্টারিজের গোলে এগিয়েও যায় তারা।

বিরতির পর শুরুতেই কেভিন গামেইরোর গোলে সমতা ফেরায় সেভিয়া। এরপর আর স্প্যানিশ ক্লাবটিকে আটকে রাখা যায়নি। ৬৪ ও ৭০ মিনিটে কোকের দুই গোলেই উনাই এমেরির দলের জয় নিশ্চিত হয়। কোকের দ্বিতীয় গোলটি নিয়ে অফসাইডের বিতর্ক থাকলেও সুইডিশ রেফারি জোনাস এরিকসন লাইন্সম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে সেটিকে বৈধতা দেন। এ সিদ্ধান্তে ডাগআউটে বেশ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন রেডস কোচ ক্লপ। টানা পাঁচ ফাইনালে পরাজিত হতাশ ক্লপ ম্যাচ শেষে গামেইরোর গোলকেই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে ওই গোলের পর পুরো দল আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। নিজেদের ফর্মেশন আগোছাল হয়ে যায়। কিন্তু এই ধরনের সমস্যা আগেও হয়েছে, এর থেকে বের হওয়ার শিক্ষা নেয়ার কথা জানান তিনি। ম্যাচ শেষে ক্লপ বলেন, এটা এখন স্পষ্ট যে আগামী বছর কোন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে আমরা আর খেলছি না। অর্থাৎ যথেষ্ট অনুশীলনের সুযোগ আমরা পাচ্ছি। এখনই সময় কঠোর পরিশ্রমের। ছেলেরা দেখিয়েছে তাদের ক্ষমতা কতটুকু। দলের অনেকেই এখনও তরুণ, এটাই তাদের সবচেয়ে বড় ফাইনাল। এখন আমরা এ সব অভিজ্ঞতা একসঙ্গে কাজে লাগাব। এমনও হতে পারে সেভিয়ার কাছে এই পরাজয়টিকে একদিন মানুষ লিভারপুলের সাফল্যের পেছনে টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে মনে রাখবে।

এই হারে ফাইনাল হারের ভাগ্য বদলাতে পারেননি ক্লপ। জার্মান ক্লাব বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে থাকার সময় সর্বশেষ তিন নকআউট টুর্নামেন্টের ফাইনালেই তিনি জিততে পারেননি। দুটি জার্মান কাপ ফাইনাল (২০১৪ ও ২০১৫) ও ২০১৩ চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফাইনাল। লিভারপুলে এসেও তীরে এসে তরী ডোবালেন তিনি। আর ট্রফি হাতে উচ্ছ্বসিত সেভিয়া কোচ উনাই এমেরি মজা করে বলেন, আসলে ইউরোপা আমাদের টুর্নামেন্ট। মন্দ বলেননি তিনি, সত্যিই তো তাই!