১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হ্যান ক্যাং পেলেন ম্যান বুকার

এই প্রথমবারের মতো কোন কোরিয়ান লেখক পেলেন ম্যান বুকার সম্মাননা। গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে হ্যান ক্যাংয়ের নাম ঘোষণা দেয়া হয়। ৪৫ বছর বয়সী এই লেখিকা তার ‘দ্য ভেজিটেরিয়ান’ বইটির জন্য বুকার পেলেন। আর তার সঙ্গে যৌথভাবে তার এই বইটি অনুবাদের জন্য ২৮ বছর বয়সী দেবরাহ স্মিথের নামও ঘোষণা দেয়া হয়। ম্যান বুকার জয়ী পাবেন ৫০ হাজার পাউন্ড। যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৫৬ লাখ টাকার মতো।

লেখিকা পেশায় শিক্ষকতা করেন। বুকার পাওয়ার পর সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেন, তিনি খুব সম্মানিত হয়েছেন বলে মনে করছেন। তিনি এভাবেই কাজ করে যেতে চান। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি লেখালেখি চালিয়ে যাবেন। যে কোন মানবিক বিষয় নিয়ে তিনি লিখতে আগ্রহী। তিনি নিজেকে মানবতার পক্ষে বলে ঘোষণা দেন।

দ্য ভেজিটেরিয়ান বইটি অনুবাদ করেছেন দেবরাহ স্মিথ। এটি তার জীবনের প্রথম অনুবাদ করা বই। জীবনের প্রথম বই অনুবাদ করেই তিনি পেয়ে গেলেন ম্যান বুকার। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছেÑ দেবরাহ স্মিথ গত তিন বছর কোরিয়ান ভাষা শিখেছেন। এর আগে তিনি কোরিয়ান ভাষা জানতেন না।

দ্য ভেজিটেরিয়ান ২০০৭ সালে রাজধানী সিউল থেকে প্রকাশিত হয়। ইয়ং হে নামের একজন বিবাহিত মেয়েকে নিয়ে বইটির কাহিনী প্রেক্ষাপট। এই ইয়ং হে তার জীবনের একসময় সিদ্ধান্ত নেয় যে, সে আর কোন প্রকার মাংস ভক্ষণ করবে না। তার এই সিদ্ধান্তই পরবর্তীতে তার জীবনের কাল হয়ে যায়। এখন কথা হচ্ছে একজন মানুষ তার জীবনকে নিয়ে যে কোন প্রকার সিদ্ধান্ত নিতেই পারে এতে সমাজের হস্তক্ষেপ সবসময় কাম্য নয় যদি তা রাষ্ট্রের অনুকূলে না যায়। উপন্যাসটির গল্পের সঙ্গে নামের মিল রয়েছে। ভেজিটেরিয়ান। অর্থাৎ, যে নিরামিষভোজী। এ বইটি বুকার কমিটির পাঁচজন বিচারকের বিচারে ২০১৬ সালের শ্রেষ্ঠযোগ্য বই। এ বইটি সঙ্গে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন পেয়েছিল বর্তমান জনপ্রিয় ইতালিয়ান লেখিকা এলেনা ফেরেন্টা’র ‘লস্ট চাইল্ড’ এবং নোবেলজয়ী ওরহান পামুকের এ্যা স্ট্রেন্থনেস ইন মাই মাইন্ড।

হ্যান ক্যাং ১৯৭০ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় জন্মগ্রহন করেন। তার বাবা ছিলেন উপন্যাসিক হ্যান স্যাং ওন। তিনি কোরিয়ার ইয়ং সেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোরিয়ান সাহিত্যে পড়াশোনা করেছেন।

১৯৯৫ সালে তার প্রথম উপন্যাস ‘দ্য কনভিক্ট লাভ’ প্রকাশিত হয়। তিনি তার লেখালেখি শুরু করেন ১৯৯৩ সালে কবিতা দিয়ে। ‘দ্য উইন্টার ইন সিউল’ শিরোনামে এটি প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত হয় তার দ্বিতীয় উপন্যাস ‘দ্য ব্লাক ডেয়ার’, ২০০০ সালে প্রকাশিত হয় ‘ফ্রুটস অফ মাই ওম্যান।’

ভেজিটেরিয়ান বইটির পর তিনি আরও দুটি বই প্রকাশ করেছেন ২০১০ সালে ব্রিথ ফাইটিং এবং ২০১১ সালে ‘গ্রিক লেসন।’