২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এই সময়ে মিষ্টি মারিয়া

এই সময়ে মিষ্টি মারিয়া

সাজু আহমেদ ॥ এই সময়ের বিচিত্র সাংস্কৃতিক প্রতিভা মিষ্টি মারিয়া। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পথচলার একাধারে নাটক, টেলিফিল্ম ও বিজ্ঞাপনে কাজ করছেন। সঙ্গীত ও নৃত্যচর্চাও করেন। এছাড়া উপস্থাপনারও অভিজ্ঞতা রয়েছে। সবখানে সফল মিষ্টি মারিয়া সমান তালে চালিয়ে যাচ্ছেন সাংস্কৃতিক চর্চা। প্রথমদিকে নিজ এলাকা কুমিল্লার দাউদকান্দিতে সাংস্কৃতিক চর্চা শুরু করেন। শুরুটা হয় মঞ্চে। তবে ছোটবেলা থেকেই মিষ্টির সুপ্ত বাসনা ছিল টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করার। এই বাসনা পূর্ণ করতে ২০১২ সালের গোড়ার দিকে বাড়ি ছেড়ে পাড়ি জমান ঢাকায়। কোন এক অনুষ্ঠানে পরিচয় হয় নাট্য পরিচালক দীপু হাজরার সঙ্গে। তিনিই প্রথম অভিনয়ের সুযোগ করে দেন তার পরিচালিত টেলিফিল্ম ‘ব্যাড-লাক’, ধারাবাহিক নাটক ‘রোজাদার’, ‘থ্রি কমরেডস্’ ইত্যাদিতে। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি মিষ্টি মারিয়াকে। ডাক মেলে সালাউদ্দিন লাভলুর ধারাবাহিক ‘খড়কুটা’ নাটকের একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করার জন্য। মিষ্টি এক কথায় রাজি হয়ে অতি যতœ সহকারে নাটকটিতে অভিনয় করেন। এরপর শুধু সামনে চলার ইতিহাস। মিষ্টি মারিয়া অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হচ্ছে মাসুদ সেজানের পরিচালনায় বাংলাভিশনের ‘চলিতেছে সার্কাস’, ডি এ তায়েবের এটিএন বাংলার ‘ডিবি’, মোহন খানের ‘নীড় খোঁজে গাঙচিল’, সুমন আনোয়ারের পরিচালনায় আরটিভির ‘বিজলী’, বৈশাখী টিভির ‘জয়িতা’, জিটিভির ‘চিটিং ফিটিং’ প্রভৃতি। এছাড়া ধারাবাহিক ‘চার দেয়ালের বাইরে’, ‘ভালবাসার অন্তরালে’, ‘শামুক’, ‘পাগলা বাবু’, ‘হঠাৎ দেখা’ নাটকে অভিনয় করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে আরএফএল চপিং বোর্ড ক্লিনার, কিডস চেয়ার, যমুনা ব্যাংক এটিএম বুথ, গ্রীন লাইন স্লিপার এসি কোচ, রক্সি পেইন্টের বিজ্ঞাপনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু বিলবোর্ডে দেখা মেলে মিষ্টি মারিয়াকে। সমাজ সচেতনতামূলক কাজ হিসেবে ডিএফপির নিয়মিত শিল্পী হয়ে সালাউদ্দিনের পরিচালনায় ‘জহুরা’, খোরশেদের পরিচালনায় ‘বাড়ির পাশে’ সহ অনেকগুলো ফিলার প্রায় সব চ্যানেলে চলছে নিয়মিত। নিজের শখেই মাঝে মধ্যে পোজ দেন ফ্যাশন মডেল হিসেবে বিভিন্ন হাউজের পোশাক পরে কিংবা বিশেষ দিনের বিশেষ আয়োজনে পত্রিকার পাতায়। মাত্র চার বছর, বেশি সময় না হলেও কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ধারাবাহিক ‘খড়কুটা’ নাটকে অভিনয়ের জন্য অতি সম্প্রতি হাতে তুলে নেন “ধ্রুব মিউজিক স্টেশন বাবিসাস এ্যাওয়ার্ড ২০১৫”র আলোচিত অভিনেত্রীর পুরস্কার। এ প্রসঙ্গে মিষ্টি মারিয়া বলেন, এটি আমার জীবনে প্রথম পাওয়া কোন পুরস্কার। খুবই ভাল লাগছে। এই প্রাপ্তিতে মনে করিয়ে দিচ্ছে ভবিষ্যতে আরও ভাল কিছু করবার। ধন্যবাদ জানাই বাবিসাস কর্তৃপক্ষকে, বিশেষ করে আবুল হোসেন মজুমদার ভাই ও ধ্রুব গুহ দাদাকে যাদের কারণে আজ আমি কাজের স্বীকৃতি পেলাম। ধন্যবাদ জানাই ‘খড়কুটা’র পুরো টিমকে। ধন্যবাদ জানাই আমার দর্শকদের, যাদের ভালবাসায় আজ আমি মিষ্টি মারিয়া হতে পেরেছি।

পুরস্কারটি আমি আমার বাবা মাকে উৎসর্গ করছি। ভবিষ্যত পরিকল্পনা প্রসঙ্গে মিষ্টি বলেন, আমি প্রতিষ্ঠিত শিল্পী হয়ে কাজ করতে চাই সেটি যে মাধ্যমেই হোক, আর সবার জীবনেই বড় পর্দায় কাজ করার দুর্বলতা থাকে, আমিও তার ব্যতিক্রম নই। ভাল চরিত্র ও সুযোগ এলে অবশ্যই আমি চলচ্চিত্রে অভিনয় করব। নাচের প্রতিও আমার রয়েছে সমান দুর্বলতা। আবারও নাচতে ইচ্ছে করে, সময় পেলে আবারও নাচতে চাই। মিষ্টি মারিয়া এগিয়ে যাবেন তার লক্ষ পথে। তার জন্য শুভ কামনা।

নির্বাচিত সংবাদ