২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দুই মাস ধরে নিধন কার্যক্রম বন্ধ রাসিকের মশার দাপটে অতিষ্ঠ রাজশাহী নগরবাসী

মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী ॥ দীর্ঘদিন ধরে নালার নর্দমা পরিষ্কার না করায় রাজশাহী নগরজুড়ে বেড়েছে মশার উৎপাত। দিনে-রাতে সমানে মশার উৎপাতে এখন নগরবাসী যথারীতি অতিষ্ঠ। দুই মাস আগে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ মশক নিধনের উদ্যোগ নিলেও ক’দিন পরই তেল সঙ্কটের কারণে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মশাদের বিস্তার চরম আকার ধারণ করেছে রাজশাহী নগরীতে।

কয়েল কিংবা অন্য কোন উপায়েও মশার যন্ত্রণা থেকে রেহাই মিলছে না। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর মশার কামড়ে ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়া করতে সমস্যা হচ্ছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের আবাসিক শিক্ষার্থী নাজিম মৃধা বলেন, মশার উৎপাত এতটাই বেড়ে গেছে, কয়েল কিংবা অন্য কোন উপায়ে মশার কামড় থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে যানা গেছে, নগরীর ড্রেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোন কার্যক্রম নেই। বিভিন্ন ওয়ার্ডে ড্রেনের পানি উপচে পড়ে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এতে নগরজুড়ে বেড়েছে মশার অত্যাচার। তবে রাসিক সূত্র বলছে, সরকারের থেকে বরাদ্দ কমে যাওয়ার কারণে এই বেহালদশা। এছাড়া সরকারী বরাদ্দ থেকে বিদ্যুত বিল, মশা মারার ওষুধ, তেল কেনা এবং পরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হয়। এছাড়া প্রতি মাসে পরিচ্ছন্নতা বিভাগের ১৩৬৫ জন কর্মচারীর ৬৫ লাখ টাকা বেতন-বিলও দিতে হয়।

এদিকে, ডিপো থেকে বাকিতে তেল না পাওয়ায় রাজশাহী নগরীতে দুই মাস আগে মশক নিধন কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। টানা দুই মাসের বেশি সময় ধরে নিধন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ায় নগরীজুড়ে বেড়েছে মশার উপদ্রব। রাসিক সূত্র জানায়, রাসিক কর্তৃপক্ষের ব্যবহৃত পরিবহন এবং মশক শাখায় ব্যবহৃত তেল বাবদ ডিপোতে বাকি পড়েছে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা। বাকির খাতায় অঙ্কের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় তেল দিতে নারাজ ডিপো মালিক। ফলে তেল সঙ্কটের মুখে পড়ে মশক নিধন কার্যক্রম।

জানা যায়, গত মার্চের শুরু থেকে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নগরীজুড়ে মশক নিধনে ক্রাস প্রোগ্রাম শুরু করে। এজন্য ব্যয় ধরা হয় ২৫ লাখ টাকা। শুরুর পর থেকে ১৫ দিনের কাযর্ক্রমে খরচ হয় প্রায় ১০ লাখ টাকা।

রাসিকের একটি সূত্র জানায়, কর্পোরেশনের বিভিন্ন পরিবহনে ডিজেল এবং পেট্রোল ব্যবহৃত হয়। কিন্তু মশক নিধনে একসঙ্গে ডিজেল, পেট্রোল এবং কেরোসিন ব্যবহৃত হয়। কেরোসিন বাইরে থেকে আমদানি করতে ডিপো মালিকদের গুনতে হয় অতিরিক্ত অর্থ। তাই দেনার ভার অতিরিক্ত হওয়ায় ডিপো থেকেও কেরোসিন সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফলে মশক নিধনের অভিযান স্থগিত করা হয়েছে সিটি কর্পোরেশন থেকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজশাহী নগরীতে মশক নিধনের জন্য যে মেশিন (ফগার) ব্যবহার করা হয় তা সংখ্যায় তুলনামূলক অনেক কম। এছাড়া এসব মেশিন ১৬ থেকে ১৭ বছরের পুরনো হওয়ায় অনেকটাই অকেজো পড়ে রয়েছে। তারপরও পুরনো কয়েকটি মেশিনে অধিক তেল পুড়িয়ে মশক নিধনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। তেলের অভাবে এখন বন্ধ রয়েছে সবগুলো ফগার মেশিন।

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র নিযম উল আযিম জানান, তেল সঙ্কটের কারণে নগরীতে মশক নিধন কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রয়েছে। সহসাই তেল সঙ্কট উত্তরণের পর আবারও মশক নিধন কার্যক্রম শুরু হবে।