১৭ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ময়মনসিংহে ট্রাফিক পুলিশের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে

  • যানবাহন নৈরাজ্যের লীলাভূমি ॥ শহরজুড়ে নৈরাজ্য, মানুষের দুর্ভোগ চরমে

বাবুল হোসেন, ময়মনসিংহ ॥ যানবাহনের ওপর ট্রাফিক পুলিশের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ায় নৈরাজ্যের লীলাভূমিতে পরিণত হয়েছে বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহ। শহরজুড়ে যানবাহন চলছে খেয়াল খুশিমতো। বাইপাস সড়কে দূরপাল্লার যানবাহন না চলে প্রতিনিয়ত ব্যস্ততম শহরে ঢুকছে। বাদ যাচ্ছে না পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও পিকআপসহ নানা যানবাহন। এর সঙ্গে অনুমোদন বিহীন সিএনজি অটোরিক্সা ও ইঞ্জিনচালিত রিক্সাসহ রয়েছে হাজারো অবৈধ যানবাহন। ফলে প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা শহরের বাণিজ্যিক এলাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় যানাবাহনের চাপে ‘লক’ হয়ে যাচ্ছে। এ সময় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থী, পথচারী ও কর্মজীবীসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ। অভিযোগ কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশকে ম্যানেজ করেই চলছে সবকিছু।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শহরের মাসকান্দা কেওয়াটখালি বাইপাস সড়ক ব্যবহার না করে শেরপুর, হালুয়াঘাট, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও মুক্তাগাছাসহ বিভিন্ন রুটের দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস সার্ভিস বাড়তি যাত্রীর আশায় শহরের চরপাড়া মোড় হয়ে পাটগুদাম ব্রিজ মোড়ে যাচ্ছে। কেবল তাই নয়, এই পথে যাতায়াতের সময় শহরের মোড়ে মোড়ে ও রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করছে দূরপাল্লার বাসগুলো।

ফলে চরপাড়া মোড় ও পাটগুদাম মোড়ে বারোমেসে যানজট লেগেই থাকছে। স্থানীয়রা জানায়, এমনিতেই ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে শহরের চরপাড়া মোড়ের দুইপাশের রাস্তার জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য দোকানপাট। রয়েছে সিএনজি ও মাইক্রোবাসসহ এ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ড। এ রকম অবস্থায় দূরপাল্লার ইমাম, শ্যামলী বাংলা, আলম এশিয়া ও ইসলাম পরিবহন সার্ভিসের যাত্রীবাহী বাসগুলো হাসপাতালের সামনের এই মোড় অতিক্রমের সময় প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে অসহনীয় যানজট। এই যানজটের কবলে পড়ে বৃহত্তর ময়মনসিংহের শেরপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও জামালপুরসহ উত্তরবঙ্গ থেকে এ্যাম্ব^ুলেন্সে ময়মনসিংহ মেডিক্যালে আসা রোগীরা প্রতিদিনই ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। দীর্ঘ যানজটের কবলে আটকা পড়ে এ্যাম্বুলেন্স আরোহী রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি স্থানীয়দের। অথচ দূরপাল্লার এসব যাত্রীবাহী বাস শহরের চরপাড়া মোড়ে আসার কথা নয় বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। অভিযোগ মুক্তাগাছা ও ঢাকায় যাতায়াতকারা ইসলাম পরিবহনের বাস শহরের চরপাড়া মোড়, পাটগুদাম মোড়, টাউনহল মোড় হয়ে মুক্তাগাছায় যাতায়াত করছে। মুক্তাগাছার এই বাস সার্ভিস খাকডহর বাদে কল্পার বাইপাস সড়ক ব্যবহার করার কথা। এসব বাস সার্ভিস ছাড়াও শহরের নতুন বাজার, জিলা স্কুল মোড়, সিকেঘোষ রোড়, দুর্গাবাড়ি রোড, রামবাবু রোড, স্টেশন রোড়ে দিনে-দুপুরে নির্মাণসামগ্রী ও পণ্য নিয়ে ট্রাক ঢুকছে। মালামাল লোড আনলোড করছে।

শহরের গাঙিনাপাড় সড়কের দুই পাশে চলে গেছে অবৈধ হকারদের দখলে। ফলে রাস্তার জায়গা এমনিতেই অর্ধেক কমে গেছে। তার ওপর অনুমোদন বিহীন সিএনজি অটোরিক্সা ও ইঞ্জিনচালিত রিক্সা চলছে দুই সারি তিন সারি করে। ফলে পথচারীরা হেঁটেও রাস্তা পার হতে পারছেন না। ১০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে ৩০ মিনিটেরও বেশি। এছাড়া ট্রেন যাতায়াতের সময় শহরের লেভেল ক্রসিংয়ের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এই চিত্র প্রতিদিনের। পৌরসভার স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ২২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের পৌর এলাকায় লাইসেন্সধারী রিক্সা রয়েছে ১২ হাজার, আর ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা রয়েছে ৭৪৩। স্থানীয়দের দাবি রিক্সার সংখ্যা ২০ হাজারের বেশি, আর অটোরিক্সার সংখ্যা ১০ হাজারের কম নয়। এর সঙ্গে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে ইঞ্জিনচালিত রিক্সা। ফলে অনুমোদনবিহীন এ রকম হাজারো যানবাহনের চাপে শহরবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠলেও নির্বিকার ট্রাফিক পুলিশ।

প্রচার রয়েছে অনুমোদন যানসহ দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস চালকদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের কারণেই কার্যকর কোন পদক্ষেপ নিতে পারছে না ট্রাফিক পুলিশ। ময়মনসিংহ নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি এ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শহরজুড়ে যানবাহনের এমন নৈরাজ্য মেনে নেয়া যায় না। ময়মনসিংহ মোটর মালিক সমিতির সভাপতি মমতাজ উদ্দিন মন্তা অভিযোগ করে বলেন, ট্রাফিক পুলিশের দায়সাড়া দায়িত্বপালনের কারণেই প্রতিদিন অচল হয়ে পড়ছে ময়মনসিংহ শহর। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, একজন কর্মকর্তার নির্লিপ্ততার কারণেই শহরের যানজট দূর হচ্ছে না।

ময়মনসিংহ জেলা মোটর মালিক সমিতির সিদ্ধান্ত রয়েছে শহরের ভেতর দিয়ে কোন দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস চলাচল করবে না। তারপরও কার স্বার্থে এসব দূরপাল্লার যান প্রতিদিন শহরে ঢুকছে প্রশ্ন এই মোটর মালিক কর্মকর্তার। ময়মনসিংহে ট্রাফিক পুলিশের নিয়ন্ত্রণ ভেঙ্গে পড়ার কথা স্বীকার করে যানবাহন পরির্দশক (প্রশাসন) সৈয়দ মাহবুবুর রহমানের দায় চাপান অবৈধ অটোরিক্সা ও দূরপাল্লার বাস চালকদের ওপর।