১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

খুব শীঘ্রই বরিশাল মহানগর আ’লীগের কমিটি গঠন

খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল ॥ নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে খুব শীঘ্রই বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা হতে যাচ্ছে। দলের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র এমনটাই আভাস দিয়েছে। এতদিন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ার তালিকায় আওয়ামী লীগের যেসব নেতারা ছিলেন এখন আর তাদের নাম শোনা যাচ্ছে না। বর্তমানে পূর্বের পদপ্রত্যাশীরা এবং মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা সভাপতি হিসেবে মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে পেতে চান। ফলে একক প্রার্থী হওয়ায় অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গেছে সাদিক আব্দুল্লাহর সভাপতির পদ।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন থেকে শূন্য থাকা মহানগর সভাপতির পদ পেতে আওয়ামী লীগ নেতা কর্নেল (অব) জাহিদ ফারুক শামীমের নাম শোনা যাচ্ছিল। তিনি কেন্দ্রেও লবিং করেছেন। কিন্তু সম্প্রতি বরিশাল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডাঃ মোখলেচুর রহমানের মৃত্যুর পর পাল্টে যায় মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে পূর্বের সব হিসাবনিকাশ। কর্নেল (অব) জাহিদ ফারুক শামীমকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হতে পারে বলেও সূত্রটি নিশ্চিত করেছে। ফলে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে এখন একমাত্র রয়েছেন তরুণ উদীয়মান নেতা সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। মহানগর আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীরা বলেছেন, আমরা যোগ্য ও তরুণ নেতৃত্ব চাই। নতুন কমিটি গঠন করা হলে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে গতিশীলতা ফিরে আসবে। মহানগর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছি। দলের নেতাকর্মীদের জন্য সর্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছি। মহানগরের ৩০টি ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে রয়েছেন। দলকে সু-সংগঠিত করার জন্য এবং আগামী দিনের বিএনপি-জামায়াতের যেকোন আন্দোলন সংগ্রাম মোকাবেলায় আমিসহ নেতাকর্মীরা প্রস্তুত রয়েছি। নতুন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান পাওয়া নিয়ে তিনি বলেন, আমি আশাবাদী দল আমাকে মূল্যায়ন করবে। তারপরও দলের সভানেত্রী যে সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা দেবেন সে মোতাবেক কাজ করে যাব।

মহানগর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মীরা বলেন, নতুন কমিটি গঠন করাকে কেন্দ্র করে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন এক নেতার মাধ্যমে চলা মহানগর আওয়ামী লীগ নতুন কমিটি পেলে আরও সু-সংগঠিত হবে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এক সময়ের বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতির পদপ্রত্যাশী প্রায় একডজন নেতার মধ্যে তৃণমূলের মূল্যায়নে এগিয়ে রয়েছেন একমাত্র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।

সূত্রমতে, গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে গণভবনে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে কার্যনির্বাহী কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই সভায় দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোঃ নাসিম সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, শুধু বরিশাল নয় দেশের যেসব জেলা ও মহানগরের সম্মেলন হয়েছে আগামী এক মাসের মধ্যে সেসব জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি গঠন হওয়ার খবরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে। আগামী দিনে সরকারবিরোধী যেকোন আন্দোলন মোকাবেলায় নতুন কমিটির প্রত্যাশা ছিল সবার মাঝে। কিন্তু নানা কারণে সেই সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন করে আবার আলোচনা শুরু হয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে। সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০১২ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে সাবেক সিটি মেয়র ও সাংসদ শওকত হোসেন হিরণকে সভাপতি এবং এ্যাডভোকেট আফজালুল করিমকে সাধারণ সম্পাদক করে মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয়। দীর্ঘদিনেও আর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি। ২০১৪ সালে হিরণের অকাল মৃত্যুর পর গুরুত্বপূর্ণ এ পদটি শূন্য হয়ে পড়ার পাশাপাশি তৃণমূল নেতাকর্মীরা হ-য-ব-র-ল অবস্থায় পড়েন। ঠিক তখনই দলকে সু-সংগঠিত করার লক্ষ্যে হাল ধরেন কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। পরবর্তীতে হিরণের শূন্য আসনে (বরিশাল-৫ সদর) উপনির্বাচনে হিরণপতœী জেবুন্নেছা আফরোজ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও রাজনৈতিকভাবে স্বামীর পদটি ধরে রাখতে তিনি মাঠে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সাদিক আব্দুল্লাহ নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের সু-সংগঠিত করার পাশাপাশি দলের কা-ারী হিসেবে সর্বস্তরে বেশ সুনাম অর্জন করেন। তার (সাদিক আব্দুল্লাহ) নেতৃত্বে দলের প্রকৃত নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সংগঠিত হয়ে রাজপথে থাকায় বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বরিশাল মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে গত ৫ ফেব্রুয়ারির পরবর্তী সময়ের টানা অবরোধ ও হরতালে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা উল্লেখযোগ্য কোন কর্মসূচী পালন করতে পারেনি।

নির্বাচিত সংবাদ