২১ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রোহিঙ্গা সমস্যা

কক্সবাজারের বাসিন্দারা অনেক দিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কারণে তাদের জীবন রীতিমতো অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। অভিযোগ আছে, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, চুরি, ডাকাতিসহ এমন কোন অপরাধ নেই যার সঙ্গে তারা জড়িত নয়। স্থানীয় অপরাধীরাও তাদের সঙ্গে জোট বেঁধে রীতিমতো অপরাধের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। হয়ত রোহিঙ্গাদের সবাই অপরাধী নয়। কিন্তু তাদের আশ্রয় করেই অপরাধীরা স্থানীয় নিরাপত্তা বিঘিœত করছে। অথচ এ সমস্যার সমাধানে কার্যত কোন অগ্রগতি নেই। বাংলাদেশ এমনিতেই ঘনবসতির দেশ। স্বল্প আয়তনের ভূখ-ে অধিকসংখ্যক মানুষের সমস্যা একদা বরাবরের। তার ওপর বহু বছর ধরে মিয়ানমারের বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু হিসেবে আশ্রয় নেয়ায় তা জাতীয় অর্থনীতিসহ নানা ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি করছে। এখন মিয়ানমারের সাম্প্রদায়িক ও জাতিগত হাঙ্গামা এবং সেখানকার সরকারের রাষ্ট্রনীতির কারণে যদি বাংলাদেশকে ভিন্ন রাষ্ট্রের মানুষকে শুধু ধর্মীয় ঐক্যের কারণে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য আশ্রয় দিতে হয়, তাহলে তা হবে সমস্যাসঙ্কুল, বিপজ্জনকও বলা যায়।

আশিয়ানের বর্তমান চেয়ারম্যান মালয়েশিয়া অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে রোহিঙ্গা বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের জন্য মিয়ানমারকে বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে এবং কিছুদিন আগে মালয়েশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী এটি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, রোহিঙ্গা সমস্যা অন্য দেশের ওপর চাপিয়ে দেয়া ঠিক নয় বরং মিয়ানমারকেই এ সমস্যার যৌক্তিক সমাধান বের করতে হবে। গত বছরের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ওবামা রোহিঙ্গা বিষয়ে তার উদ্বেগ প্রকাশ করেন রোহিঙ্গাদের মানবেতর পরিস্থিতি নিয়ে, হোয়াইট হাউস প্রতিনিধি এরিক সুজ তার বক্তব্যে সেটি উল্লেখ করেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রোহিঙ্গা ইস্যু ও তাদের শত বছরের প্রকৃত ইতিহাস পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ও জাতিগোষ্ঠীকে অবহিত করা প্রয়োজন, যেটি রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন ও তাদের নাগরিকত্ব পুনর্বিবেচনার ক্ষেত্রে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করবে।

বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িÑ এই তিন পার্বত্য জেলাসহ দেশের ছয়টি জেলায় প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা শুমারির প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এটা অস্বীকার করা যাবে না যে, রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলো হয়ে উঠেছে মাদক ব্যবসাসহ নানা রকম অবৈধ কর্মকা- ও রাজনৈতিক অপতৎপরতার কেন্দ্র, যা বাংলাদেশের জন্য শুভ পরিণামের নয়। রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রনৈতিক বিরোধিতায় ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় একাধিকবার ব্যবহার করা হয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের পক্ষে কঠোর তৎপরতা দরকার। কারণ রোহিঙ্গা শিবিরগুলো বাংলাদেশের সুস্থ রাজনৈতিক স্থিতির বিরুদ্ধে বিষফোড়ার মতোই। এরই মধ্যে শরণার্থী রোহিঙ্গাদের নানাবিধ অপকর্মের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

আমরা ভেবেছিলাম নির্বাচনের পরে আউং সান সুচি নির্বাচিত হলে তিনি অন্তত রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে সংবেদনশীল হবেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে এ ব্যাপারে তিনি কোন মন্তব্য করছেন না। এর পরিবর্তনটা আনতে হলে আন্তর্জাতিক চাপ দরকার। আশার কথা, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ সরকার জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতার মাধ্যমে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে। মিয়ানমার যেন রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয় বাংলাদেশ সেই চেষ্টাই করছে। এজন্য রোহিঙ্গা সমস্যাটিকে সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নিয়ে একটি ইতিবাচক সমাধান বের করে নিয়ে আসুকÑ সেটাই জাতির প্রত্যাশা।