১৭ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কাছারিবাড়ি কবিকে কাছে টেনেছে বার বার

শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক স্থান ও পর্যটন কেন্দ্র। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবন ও সাহিত্যের অনেকখানি জায়গা জুড়ে আছে সিরাজগঞ্জ জেলার বর্ধিত ও বাণিজ্যিক জনপদ শাহজাদপুর। এই শাহজাদপুরের মাটিতেই পল্লী জীবনের সুখ-দুঃখের সঙ্গে কবির ঘনিষ্ঠ পরিচয় হয়। কবি এখানে হতদরিদ্র প্রজাকুল ও সাধারণ মানুষের দুঃখ- দুর্দশা আনন্দ-বেদনার খুব কাছাকাছি হয়েছিলেন। জমিদার রবীন্দ্রনাথ এখানকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়েছিলেন প্রজাদের ভালবেসে। এ কারণেই শাহজাদপুরে প্রজারা তাঁকে ভালবেসে রাজা বাবু বলে সম্বোধন করেছে।

১৮৪০ সালে শাহজাদপুরের জমিদারি নিলামে উঠলে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর মাত্র তেরো টাকা দশ আনায় তা কিনে নেন। জমিদারির সঙ্গে সঙ্গে ওই কাছারিবাড়িও ঠাকুর পরিবারের হস্তগত হয়। আগে এই কাছারিবাড়ির মালিক ছিল নীলকর সাহেবরা। ১৮৯০ সাল থেকে ১৮৯৬ সাল পর্যন্ত কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদারি দেখাশোনার কাজে শাহজাদপুরের কাছারিবাড়িতে সাময়িকভাবে বসবাস করতেন। তিনি স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন কুষ্টিয়ার শিলাইদহে। সম্ভবত এই কারণেই শিলাইদহে তাঁর বাসগৃহ কুঠিবাড়ী নামে এবং শাহজাদপুরের বাড়িটি কাছারিবাড়ি নামে পরিচিত। শাহজাদপুরে তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন পালকিতে, নৌকায় ও হেঁটে।

শাহজাদপুর কবিগুরুকে যে আকৃষ্ট করত, তা তার লেখা এক চিঠিতে বোঝা যায়, কবি শাহজাদপুর থেকে ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দ্রিরা দেবীকে চিঠিতে লিখেছেন ‘অনেক কাল বোটের মধ্যে বাস করে হঠাৎ শাহজাদপুরের বাড়িতে এসে বড় ভাল লাগে। ...হঠাৎ বুঝতে পারি এতদিন বৃহৎ আকাশের জন্য ভেতরে ভেতরে একটা ক্ষুধা ছিল। সেটা এখানে এসে পেট ভরে পূর্ণ করে নেয়া গেল। আমি চারটি বৃহৎ ঘরের একলা মালিক- সমস্ত দরজা খুলে বসে থাকি। এখানে যেমন আমার মনে লেখার ভাব এবং ইচ্ছা আসে, এমনটি আর কোথাও নয়। আরেকটি চিঠিতে তিনি লিখেছেন, কাল থেকে শাহজাদপুরের কাছারিবাড়িতে এসেছি। ...বেশ ভাল লাগছে। মাথার ওপর ছাদটা অনেক উঁচুতে এবং দুই পাশে খোলা বারান্দা থাকাতে আকাশের অজস্র আলো আমার মাথার ওপরে বর্ষণ হয়। সেই আলোতে লিখতে-পড়তে এবং বসে বসে ভাবতে মধুর লাগে।

Ñবাবু ইসলাম, সিরাজগঞ্জ থেকে