২০ মে ২০১৬

চন্দ্রদ্বীপের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ছিল নাড়ির সম্পর্ক

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে বরিশালের ছিল নিবিড় সম্পর্ক। যে কারণে বরিশাল শহরে কবিগুরু একাধিকবার যাতায়াত করেছেন। রবীন্দ্রনাথ চন্দ্রদ্বীপের (বরিশালের আদি নাম) রাজা রামচন্দ্র রায়ের স্ত্রী বিভাবতীকে (বিমলা) নিয়ে ‘বৌ-ঠাকুরানীর হাট’ নামের উপন্যাস রচনা করেছেন।

সাহিত্যিক ও ইতিহাসবিদ কবি শিকদার রেজাউল করিম বলেন, ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা গেছে-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার লেখা এক চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, ‘রবীন্দ্র হইয়া মোকাম পরিদর্শক নগেন্দ্রকে পাঠাইয়াছি। বরিশালের দুষ্টু লোকেরা আখ মাড়াই, কড়াই আত্মসাত করিয়াছে। স্থানীয় কর্মচারীর সঠিক হিসাব দেখায়নি।’ বরিশালে কবিগুরু তার ছোট মেয়ে মীরা দেবীকে বিয়ে দিয়ে এবং আখের কল স্থাপন করে চরম খেসারত দিয়েছিলেন বলেও ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, চিঠির সূত্র ধরে অনুসন্ধানে জানা গেছে, রবীন্দ্রনাথের বরিশালের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক আরও অনেক ছিল। লাকুটিয়ার জমিদার রাখাল চন্দ্র রায়ের একমাত্র ছেলে দেবকুমার রায়। তার দুই মেয়ে সুশীলা ও চারুশীলা ছিল খুবই সুন্দরী, জ্ঞানী। ওই দুই বোনকে বিয়ে করেছিলেন রবীন্দ্রনাথের বড় ভাই বিশিষ্ট বাঙালী কবি, সঙ্গীতকার, দার্শনিক ও গণিতজ্ঞ, বাংলা সঙ্কেত লিপি (শর্ট হ্যান্ড) এবং স্বরলিপি রচনার অন্যতম অগ্রপথিক দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুই ছেলে দীপেন্দ্রনাথ ও অরুণেন্দ্রনাথ ঠাকুর। শুধু ভাইয়ের ছেলেরাই নয়; রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার পাঁচ সন্তানের মধ্যে ১৪ বছরের ছোট মেয়ে মীরা দেবীকে ১৯০৮ সালের জুন মাসে বিয়ে দিয়েছিলেন হাসপাতাল রোডের ব্রাহ্মণ সমাজের নেতা বামুন দাশ গাঙ্গুলীর ছেলে নগেন্দ্রনাথ গাঙ্গুলীর সঙ্গে। সে সুবাদে জামাই বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বেড়াতে এসে এক সপ্তাহ কাটিয়েছিলেন। তখন বরিশালের স্থানীয় গুণীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি বরিশালে সাহিত্য পরিষদ খোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু ওই বছরের ২৮ জুন রবীন্দ্রনাথের জামাই নগেন্দ্রনাথ গাঙ্গুলী উচ্চ শিক্ষার জন্য আমেরিকায় চলে যান। ১৯৬৯ সালে মীরা দেবীর মৃত্যু হয়। তাদের সংসার জীবন তেমন সুখের ছিল না। তাই রবীন্দ্রনাথ দুঃখ করে এক চিঠিতে লিখেছিলেন ‘ওর জীবনের প্রথম দ- তো আমিই দিয়েছি। ভাল করে না ভেবে না বুঝেই আমি ওর বিয়ে দিয়েছি...’।

বরিশালের ইদিলপুর পরগনায় কলকাতার ঠাকুরস্টেটের জমিদারি ছিল। ওই জমিদারিতে অংশছিল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। এখানকার সুসাহিত্যিক দেবকুমার রায় ছিলেন কবির একান্ত ভক্ত। বরিশালে পাঠানো এক চিঠিতে কবি লিখেছিলেন- ‘ঘুরিয়া মরিতেছি, সম্প্রতি আগরতলায় আটকা পড়িয়া গিয়াছি। বরিশালে যাইতে হইবে...’। ১৪ এপ্রিল কংগ্রেসের প্রাদেশিক সম্মেলন শুরু হলে পুলিশ তাতে হামলা চালিয়ে জনতাকে নির্যাতন করে। রবীন্দ্রনাথ আগরতলা থেকে রওনা হয়ে নৌপথে ১৫ এপ্রিল দুপুরে বরিশালে পৌঁছেন।

-খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল থেকে