১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘হেলিকপ্টার দশ টাকা, ঘোড়া ৮ টাকা, মার্কা লাগবে মার্কা...’

সমুদ্র হক ॥ ‘হেলিকপ্টারের দাম ১০ টাকা, ঘোড়া ও মোটর সাইকেল ৮ টাকা... মার্কা লাগবে মার্কা... আসেন..’ হাঁক দেয় মোশাররফ। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের পর এমন হাঁকডাক শুনে প্রার্থীদের সমর্থকরা টেবিলের চার ধারে ভিড় করে। সকল প্রতীকই কার্ডে লেমিনেটেড করে ফিতা লাগানো আছে। যে যে প্রতীকের সমর্থক তারা কিনে নিচ্ছে প্রতিটি ৮ টাকা থেকে ১০ টাকা দরে। কখনও প্রার্থী নিজেই পাইকারী দরে প্রতীক কিনে নিয়ে বিলি করছেন কর্মী সমর্থকদের মধ্যে।

শুক্রবার বগুড়া সদর উপজেলার ১১ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত নারী আসন ও সাধারণ সদস্যের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের দিন ধার্য ছিল। সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কক্ষে প্রতীক বরাদ্দের পালা শুরু হওয়ার আগেই প্রতীক বিক্রেতা টেবিলে লেমিনেড করা প্রতীকের পসরা সাজিয়ে বসে। আনন্দের চিৎকার ও চেঁচামেচির মধ্যে পছন্দের বরাদ্দ পাওয়া প্রার্থী কর্মী সমর্থকরা ছাপানো প্রতীক কিনে গলায় ঝুলিয়ে হৈহৈ করে এগিয়ে যায়।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরুর পরই দেশজুড়ে প্রতীক ছাপিয়ে লেমিনেট করে বেচার কার্যক্রম শুরু করে ময়মনসিংহের রফিক এ্যান্ড কোম্পানি। এই কোম্পানির এজেন্ট মোশাররফ কয়েক সদস্য নিয়ে ময়মনসিংহ থেকে বগুড়া এসেছেন। বললেন তাদের কোম্পানির ৭০ জনের একটি দল আছে। তারা প্রয়োজন অনুযায়ী বিভক্ত হয়ে যেখানে যেদিন প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয় সেখানে যায়। তারা ইন্টারনেট থেকে তারিখ সংগ্রহ করে। এই টিম বগুড়ার বেচাকেনা শেষে কক্সবাজার পৌঁছবেন।

প্রতীক বিক্রেতার কাছে এসেছিলেন শেখেরকোলা ইউনিয়নের একজন প্রার্থী কামরুল হাসান। নৌকা, ধানের শীষ, লাঙ্গল, মোড়া, মোটর সাইকেল, মোরগ, টিউবওয়েল, তবলা, ফ্যান, আনারস, চশমা, হেলিকপ্টার, ফুটবল, তালা, ব্যাট ইত্যাদির মধ্যে থেকে বরাদ্দ পাওয়া নিজের পছন্দের প্রতীক কিনলেন প্রায় এক শ’। তার আরও লাগতো। বিক্রেতারা তখনই দিতে পারল না। জানাল ঘণ্টা খানেক পর এলাকায় পৌঁছে দেবে। প্রতীক বিক্রেতা মোশাররফ জানালেন, তাদের টিম যাচাই করে দেখে কোন্ এলাকায় কোন্ প্রতীকটি বেশি যাচ্ছে। সেই অনুযায়ী তারা প্রতীক ছাপায়। অনেক সময় কম পড়লে তাদের সঙ্গে নিয়ে আসা প্লেট দিয়ে কোন প্রেস থেকে দ্রুত ছাপিয়ে লেমিনেট করে দেয়। বাক্সপ্যাটরা নিয়ে তারা ঘোরে। টেবিল চেয়ার ভাড়া নেয় স্থানীয় ডেকোরেটরের কাছ থেকে। প্রতীক বিক্রি করে যা পায় তার একটা অংশ কোম্পানিকে দিতে হয় ছাপা ও লেমিনেটেডের খরচ হিসেবে। এরা শুধু প্রতীকই বিক্রি করে। প্রতীকের সঙ্গে প্রার্থীর নাম তারা দ্রুত করে দিতে পারে না। প্রার্থীর কয়েক সমর্থক প্রতীক গলায় ঝুলিয়ে বেশ রোমাঞ্চিত হয়ে চিৎকারের সুরে স্লোগান দিতে থাকে ‘.....মার্কা জিতেই গেল...।’ প্রতীক কিনে নিয়ে প্রার্থীও খুশি কর্মী সমর্থকরাও খুশি।