১৭ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সৈয়দপুরে থামছে না মাদকের বিস্তার

স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী ॥ কোনভাবেই মাদকের ভয়াবহ বিস্তার থামছে না নীলফামারীর সৈয়দপুরে। প্রায় প্রতিদিনই মাদক বিক্রেতা ও মাদক সেবীকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে অর্থদ- ও সাজা বা থানায় মামলা হলেও কেমছে না মাদক বেচাকেনা। বিশাল বিশাল মাদক সিন্ডিকেট তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

সচেতন মহলের অভিযোগ বিভিন্ন যানবাহনে প্রতিদিন সৈয়দপুরে কোটি টাকার মাদক ঢুকছে। হাত বাড়ালেই সহজে মাদক মেলায় দিন দিন আসক্তির সংখ্যাও বাড়ছে। উঠতি যুবক থেকে মাঝ বয়সী পুরুষ সকলে নির্বিঘেœ এখন মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে।

এলাকবাসী জানায় সৈয়দপুর পৌর শহরের পাড়া-মহল্লার অলিগলিতে এবং গ্রামের হাটবাজারগুলোতে মাদক বেচাকেনা অবাধে চলছে। ফেনসিডিল, হেরোইন, গাঁজার পর এখন হাতের কাছে মিলছে ইয়াবাসহ মাদকের সকল ইনজেকশন। এসবের পাশাপাশি পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের মদের বোতল। ইতোমধ্যে র‌্যাব ও থানা পুলিশ কয়েকটি চালান আটক করে বিক্রেতা ও মাদকসেবীদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে দিলেও কিছুতেই থামছে না মাদকের ভয়াবহ বিস্তার।

বিভিন্ন সূত্র জানায় ভারতের হিলি, দিনাজপুরের আমবাড়ি ফুলবাড়ি, বিরামপুর সীমান্ত ছাড়াও নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তার চর, গোমনাতী, বালাপাড়ার বিভিন্ন সীমান্ত হতে অবৈধভাবে অবৈধ এসব মাদক আসছে। মাদক পরিবহনকারীরা গ্রামীণ সড়কে সাইকেল, ইজিবাইক, মোটর সাইকেল, মাইক্রো,এ্যাম্বুলেন্স প্রভৃতি বাহনে মাদকদ্রব্য এনে সৈয়দপুর শহরের উপকণ্ঠ অথবা কাছাকাছি স্থানে বেচাকেনার আড়ত গড়ে তুলেছে। সৈয়দপুর শহরের রেললাইনের ধার, হাতিখানা, নতুন বাবুপাড়া, বাঁশবাড়ি, রসুলপুর, বাস টার্মিনাল, আদানী মোড়, হানিফ মোড়, গোলাহাটম রেলগেট, সাহেবপাড়া, ইসলামবাগ প্রভৃতি এলাকার চিহ্নিত মাদক বিক্রেতারাএগুলো বিক্রি করছে। এ ছাড়া জনৈক আলম সিন্ডিকেট মাদক গ্রুপের পক্ষে সৈয়দপুরের প্রতিটি মহল্লায় মাদক সরবরাহে হোম সার্ভিস চালু করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মোবাইলে অর্ডার দিলেই তার এজেন্টরা বাইসাইকেলে নির্দিষ্ট বাসাবাড়ির যুবক ও তরুণদের হাতে মাদক পৌঁছে দিচ্ছে।

এদিকে মাদকের টাকা যোগাতে শহরে টিউবওয়েলের হেড, বাইরে থাকা পাইপ, সার্ভিস তার চুরিসহ ছোট-খাটো ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে।

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গীর আদালত সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১২ মে পর্যন্ত মাদক বিক্রি ও সেবনের দায়ে মোট ৪৪টি মামলায় ৩২ জনের দ- ও ১২ জনের জরিমানা করা হয়েছে। একইভাবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুশফিকা ইফফাত ১৩টি মাদকদ্রব্যের মামলায় ২৪ জনের মধ্যে ২২ জনকে সাজা ও দুজনের জরিমানা আদায় করেন।