১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দশ হাজার মোমবাতি জ্বেলে শহীদদের স্মরণ

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা অফিস ॥ শুক্রবার পালিত হলো চুকনগর গণহত্যা দিবস। বৃষ্টিবিঘিœত সন্ধ্যায় দশ হাজার মোমবাতি প্রজ্বালন করে চুকনগর গণহত্যার শহীদদের স্মরণ করা হলো। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে চুকনগর বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধের বেদিতে এ মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়। এছাড়া সেখানে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকি। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দীপংকর বিশ্বাস, ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খান আলী মুনসুর, ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত মেহনাজ, চুকনগর ’৭১ গণহত্যা স্মৃতি রক্ষা পরিষদের সভাপতি চুকনগর কলেজের অধ্যক্ষ এবিএম শফিকুল ইসলাম, ডুমুরিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল ইসলাম মানিক, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান স ম আব্দুল কাইয়ুম। এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ নানান শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকালে চুকনগর গণহত্যা দিবস উপলক্ষে স্থানীয়ভাবে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসন, চুকনগর ’৭১ গণহত্যা স্মৃতি রক্ষা পরিষদ, চুকনগর কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা ও সমাজসেবী প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে চুকনগর বধ্যভূমি সৃতিসৌধে শহীদদের স্মরণে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানার চুকনগরে ২০ মে ঘটেছিল পৃথিবীর ইতিহাসে একক বৃহত্তম নর হত্যাযজ্ঞ। আগের দিন বটিয়াঘাটা, দাকোপ, বাগেরহাট, পিরোজপুর, মংলা, মোরেলগঞ্জ প্রভৃতি এলাকা থেকে প্রাণভয়ে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের অগণিত মানুষ নৌকাযোগে ও সড়কপথে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে চুকনগরের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হয়। সেদিনের চুকনগর আর আজকের চুকনগরের মধ্যে পার্থক্য অনেক। তখন তিনদিকে ছিল নদী। নদীপথেই আসা মানুষেরা এখানকার পাতাখোলা বিলসহ গোটা এলাকায় বিশ্রাম নেয়। এর মধ্যে ভদ্রা নদীর পাশে ছিল মন্দির। তার পাশে ছিল বিশাল বটগাছ। পাশে বাজার। ভদ্রার পাড়ে বিরাট খেলার মাঠ। এর সর্বত্রই ছিল নারী-শিশু থেকে বিভিন্ন বয়সের অগণিত মানুষ। এদের সিংহভাগই ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত। ২০ মে সকালে কিছু লোক ভারতের উদ্দেশে রওনা হয়ে যায়।