১৭ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কুষ্টিয়ায় হোমিও ডাক্তারকে কুপিয়ে হত্যা

কুষ্টিয়ায় হোমিও ডাক্তারকে কুপিয়ে হত্যা
  • ইবির সহকারী অধ্যাপক গুরুতর আহত ॥ কুড়িয়ে পাওয়া বোমা বিস্ফোরণে স্কুলছাত্র নিহত

নিজস্ব সংবাদদাতা, কুষ্টিয়া, ২০ মে ॥ কুষ্টিয়ায় দুর্র্বৃত্তরা একজন হোমিও চিকিৎসককে কুপিয়ে হত্যা করেছে। নিহত ওই চিকিৎসকের নাম মীর ছানোয়ার হোসেন ওরফে ছানা (৫৭)। এ ঘটনায় কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক সাইফুজ্জামান (৪০) গুরুতর আহত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় পরে তাঁকে ঢাকা মেডিক্যালে নেয়া হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া শহরতলীর বটতৈলের শিশির মাঠ এলাকায় ছানার নিজ বাগানবাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। অপরদিকে পৃথক ঘটনায় বোমা বিস্ফোরণে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। নিহতের নাম নাঈম হোসেন (১৪)। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কবুরহাট বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় নাঈমের বন্ধু হাফিজুর রহমান (১৩) ও পথচারী হাবিব গুরুতর আহত হয়। তাদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, হোমিও চিকিৎসক মীর ছানোয়ার হোসেন ও ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাইফ্জ্জুামান (৪০) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল শিশিরমাঠ এলাকায় ছানার বাগানবাড়ির সামনে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন। মোটরসাইকেল আরোহী তিনজন সন্ত্রাসী তাদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এতে হোমিও চিকিৎসক ছানোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলেই নিহত এবং ইবির সহকারী অধ্যাপক সাইফুজ্জামান গুরুতর জখম হন। ঘটনার পর স্থানীয়রা ইবির ওই অধ্যাপককে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে নেয়। হাসপাতালে ভর্তির পর অপারেশন থিয়েটারে তাঁর দেহে দুই ব্যাগ রক্ত দেয়া হয়। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন। ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে কুষ্টিয়া হাসপাতাল থেকে হেলিকপ্টারযোগে সহকারী অধ্যাপক সাইফুজ্জামানকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। হত্যাকা-ের সঠিক কারণ পুলিশ জানাতে পারেনি। তবে তার বাগানবাড়ি ও জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে। এছাড়া এঘটনার সঙ্গে জঙ্গীদের কোন সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না পুলিশ তাও খতিয়ে দেখছে।

জঙ্গী সম্পৃক্ততার কথা পুলিশ স্বীকার না করলেও হত্যাকা-ের ধরন দেখে ধারণা করা হয় যে, এ ঘটনার সঙ্গে ধর্মীয় উগ্রবাদীদের যোগসাজশ রয়েছে। হত্যাকা-ের ধরন ও ধারালো অস্ত্রের কোপ ছিল ভয়ানক। কোন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোক ছাড়া এ ধরনের পৈশাচিক ঘটনা সংঘটিত করতে পারে না বলে পুলিশ ও হাসপাতালের ডাক্তাররা জানান। নিভৃত পল্লীর ওই বাগানবাড়িতে মাঝে-মধ্যেই শুভানুধ্যায়ীরা এসে অবসরে বিনোদন করতেন এবং সেখানে গান-বাজনার আসরও বসতো। এনিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে মতাদর্শগত বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকা- সংঘটিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নিহত হোমিও ডাক্তার ছানোয়ার লালন তত্ত্ব কিংবা বিশেষ কোন আদর্শের অনুসারী ছিলেন না বলে তার পরিবারের সদস্যরা জানান। তবে বাগানবাড়ি কেন্দ্রিক পূর্বশত্রুতাবশত নিহত হোমিও চিকিৎসক কুষ্টিয়া শহরের পূর্ব মজমপুর এলাকার মৃত মীর বজলার রহমানের ছেলে। কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি শাহাবুদ্দিন চৌধুরী জানান, হোমিও চিকিৎসক হত্যাকা-ের ঘটনাটি তদন্তে পুলিশ মাঠে নেমেছ। তদন্তপূর্বক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানান। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার প্রলয় চিসিমি জানান, ঘটনার সঙ্গে জঙ্গী সম্পৃক্ততার কোন ক্লু এখনও পাওয়া যায়নি। তবে সবকিছু মাথায় রেখে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে পৃথক ঘটনায় কুড়িয়ে পাওয়া বোমা বিস্ফোরণে সম্ভাবনাময় মেধাবী স্কুলছাত্র নাঈম ইসলামের নিভে যায় জীবন প্রদীপ। সে বটতৈল ইউনিয়নের কবুরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিল। শুক্রবার সকালে নাঈম ও তার বন্ধু হাফিজ ক্রিকেট খেলা শেষে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কবুরহাট বাজারের পাশে রাস্তায় টেপ মোড়ানো জর্দার কৌটায় একটি বোমা কুড়িয়ে পায়। কৌতূহলবশত কুড়িয়ে পাওয়া কৌটার টেপ খোলার চেষ্টাকালে প্রচ- শব্দে বোমাটি বিস্ফোরিত হয় এবং ঘটনাস্থলেই নাঈম নিহত হয়। এসময় বোমার আঘাতে নিহত নাঈমের বন্ধু হাফিজ ও পথচারী হাবিব গুরুতর আহত হয়। এদের দুজনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে পুলিশ ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় আরেকটি তাজা বোমা উদ্ধার করে। নিহত নাঈম কবুরহাট সর্দারপাড়া এলাকার তাম্বার মিস্ত্রির ছেলে।