২২ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিএনপিকে ’১৯ সালের নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে ॥ নাসিম

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ২০১৯ সালের আগে নির্বাচনের দিবাস্বপ্ন দেখছে বিএনপি। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে না আসার মহাভুল এখন তারা প্রতি পদে পদে বুঝতে পারছে। কিন্তু এখন আর উপায় নেই। তাদের ২০১৯ সালের আগামী জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত তাদের অপেক্ষা করতে হবে। তিনি বিএনপি-জামায়াতের সকল ষড়যন্ত্র মাঠে থেকে শক্তভাবে মোকাবেলার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

শুক্রবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির ৬নং গ্যালারিতে যুবলীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ৩৫তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে সংবাদচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনার আয়োজন করা হয়।

কোন অপরাধী পার পাবে না উল্লেখ করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, অপরাধ করলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাউকে খাতির করেন না। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ায় তিনি নিজ দলের মন্ত্রীকেও ছাড় দেননি। এছাড়া অপরাধে জড়িত থাকায় এমপি এবং দল বা এর অঙ্গসংগঠনের কোন নেতাকে ছাড় দেন নাই, ভবিষ্যতেও দেবেন না। তাই বিশ্বের নিকৃষ্ট গোয়েন্দা সংস্থা লাখো মুসলিমের হত্যাকারী ইসরাইলী মোসাদকে নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করছেন তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছিত করে সকল সংসদ সদস্যদের মর্যাদা ক্ষুণœ করেছেন। নাসিম ওসমানকে উদ্দেশে করে তিনি বলেন, ‘আপনি একজন এমপি। কিন্তু এমপির মর্যাদা কীভাবে রাখতে হয়, আপনি তা জানেন না। আপনি আঙুল দেখিয়ে বললেন ক্ষমা চাইবেন না। এত বড় দম্ভোক্তি ভাল না।’

তিনি আরও বলেন, সেই শিক্ষক যদি অন্যায় করেই থাকেন তাহলে তাকে আইনের হাতে তুলে দিতেন। আপনি একজন আইন প্রনেতা হয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নিলেন কি করে? কিন্তু আপনি তা না করে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন। নিজেই বিচার করেছেন। আপনি বিচার করার কে? আপনি আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না। একজন সংসদ সদস্য প্রকাশ্যে যে কাজটি করেছেন, এটা ক্ষমাহীন অপরাধ।

সেলিম ওসমানের বিষয়ে জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নীরবতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘আপনার দলের সংসদ সদস্য শিক্ষককে এত বড় অপমান করল, আপনি কোন কথা বলেন না কেন? এত উপদেশ দেন বিভিন্ন সময়ে, এখন চুপ হয়ে আছেন কেন? এখন নীরব কেন? আপনাদের কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের সব সময় ভাল ভাল কথা বলেন। তিনিও এ বিষয়ে কথা বলেননি।’

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এ ঘটনার জন্য যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কারণ আমি পার্লামেন্টের সদস্য। এ ধরনের আচরণ একজন পার্লামেন্টের সদস্য করলে আমি লজ্জা পাই, নিজেকের ছোট মনে করি, অপরাধবোধে ভুগি।

যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, সভাপতিম-লীর সদস্য আতাউর রহমান।